Advertisement
E-Paper

মেয়াদ বৃদ্ধির পরই বরখাস্ত ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার! উপাচার্যের পদক্ষেপে প্রশ্ন সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে

সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি স্থায়ী উপাচার্য পদে যোগ দিয়েছেন অয়ন ভট্টাচার্য। দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে সদ্য কাজে যোগ দিয়েছেন তিনি। এর আগে স্থায়ী উপাচার্য বা রেজিস্ট্রার না থাকায় অনেক কাজ আটকে ছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কর্মী আধিকারিকই।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ১৬:৩৪
The Sanskrit College and University

সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় । ছবি: সংগৃহীত।

উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে চাকরির মেয়াদের বৃদ্ধির চিঠি পাওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যেই বরখাস্ত হলেন কলকাতার শতাব্দী প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রার। রাজ্য শিক্ষামহলে ফের তৈরি হল এক নতুন বিতর্ক।

জানা গিয়েছে, সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের চুক্তির মেয়াদ শেষের পর উচ্চশিক্ষা দফতর তা পুনর্নবীকরণ করেছে। অথচ, উপাচার্য তাঁকে সরিয়ে পদে বসিয়েছেন অন্য একজনকে।

প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি নির্দেশের পর আদৌ উপাচার্য এ ভাবে রেজিস্ট্রারের মতো সর্বোচ্চ পদাধিকারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে পারেন?

সূত্রের খবর, গত বছর অগস্টে সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী রেজিস্ট্রার নিযুক্ত হন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহ-অধিকর্তা সৌভাত্র বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ৩১ জানুয়ারি তাঁর চাকরির ৬ মাসের মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু গত ৬ মার্চ উচ্চ শিক্ষা দফতর তাঁকে ফের ৬ মাসের পুনর্বহাল করে। জানানো হয়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই চুক্তি পুনর্নবীকরণ করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ওই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সৌভাত্র কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।

কিন্তু, ঠিক ওই দিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তাঁকে বরখাস্ত করেন বলে অভিযোগ। সৌভাত্রের দাবি, “আমাকে সরকার নিয়োগ করেছে। তারাই চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। অথচ, উপাচার্য ওই সন্ধ্যায় তাঁর ঘরে ডেকে কাজ ছেড়ে দেওয়ার চিঠি দেন। পরে তা ই-মেলেও পাঠান। এটা আমার কাছে অসম্মানের।”

উপাচার্য অয়ন ভট্টাচার্য অবশ্য বলছেন, “আমি আইন মেনেই কাজ করেছি। উচ্চ শিক্ষা দফতরে আমার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলাম। সেখান থেকেই জানানো হয়েছিল, আমি চাইলে রেজিস্ট্রারকে রিলিজ় দিতে পারি।”

কিন্তু হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত?

উপাচার্যের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ ভাল ভাবে পরিচালনার জন্য তাঁর যা ভাল মনে হয়েছে, তিনি করেছেন।

যদিও, সৌভাত্রের জায়গায় যাঁকে রেজিস্ট্রার পদে নিযুক্ত করেছেন উপাচার্য তাঁকে নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের একাংশের মধ্যে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, নবনিযুক্ত আধিকারিক ‘অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি’ অর্থাৎ সরকারের বেতনভুক কর্মচারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়। ফলে তিনি এমন একটি পদে বসতে পারেন না।

যদিও উপাচার্য সাফ জানিয়েছেন, এতে কোনও নিয়মভঙ্গ হয়নি। সরকারের থেকে বেতন পেলেও ওই ব্যক্তি কাজ করেন উপাচার্যের অধীনে। তাই তাঁকে অস্থায়ী রেজিস্ট্রার করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি স্থায়ী উপাচার্য পদে যোগ দিয়েছেন অয়ন ভট্টাচার্য। দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে সদ্য কাজে যোগ দিয়েছেন তিনি। এর আগে স্থায়ী উপাচার্য বা রেজিস্ট্রার না থাকায় অনেক কাজ আটকে ছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কর্মী আধিকারিকই। এমনকি প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানও নিয়মমাফিক পালন করা যায়নি বলে অভিযোগ। তার পর উপাচার্য কাজে যোগ দিতে না দিতেই তৈরি হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক বিরোধিতা। সিঁদুরে মেঘ দেখছেন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা।

Sanskrit College and University Registrar vice chancellor
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy