Advertisement
E-Paper

অবশেষে সুরাহা! হাও়ড়া জেলা স্কুল পরিদর্শকের কার্যালয়কে বিদ্যুৎ বিল মেটানোর অর্থ দিল স্কুলশিক্ষা দফতর

বিদ্যুৎ বিল বাবদ গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই অফিসের প্রায় ৪৭ হাজার টাকা বকেয়া পড়ে ছিল। ওই টাকা শোধ করার জন্য স্কুল পরিদর্শকের অফিস থেকে বার বার বিকাশ ভবনে স্কুলশিক্ষা দফতরে আবেদন করা হয়। কিন্তু সে অর্থ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ ১৮:২৬

— প্রতীকী চিত্র।

দীর্ঘ দিন বকেয়া ছিল বিদ্যুৎ বিল। গত ২৫ মার্চ হাওড়া জেলা মাধ্যমিক স্কুল পরিদর্শকের কার্যালয়ের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে যায় বিদ্যুৎবণ্টনকারী বেসরকারি সংস্থা। তার পর থেকে কার্যত অন্ধকারেই ছিলেন কর্মী-আধিকারিকেরা। অবশেষে অর্থসঙ্কটের সুরাহা হল।

জানা গিয়েছে, হাওড়়া জেলা স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) কার্যালয়ে বিদ্যুতের বকেয়া মিল মেটানোর জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে স্কুলশিক্ষা দফতর। ফের বিদ্যুতের সংযোগ পাওয়ার আশায় অফিসের আধিকারিকেরা। গত শুক্রবার ২৭ মার্চ রাত ১০টার পরে আনন্দবাজার ডট কম-এ এই খবর প্রকশিত হয় এবং সোমবার ৩০ মার্চ বেলা ১ টা নাগাদ বকেয়া অর্থ বরাদ্দ হয়েছে বলেই খবর।

সূত্রের খবর, বিদ্যুৎ বিল বাবদ গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই অফিসের প্রায় ৪৭ হাজার টাকা বকেয়া পড়ে ছিল। ওই টাকা শোধ করার জন্য স্কুল পরিদর্শকের অফিস থেকে বার বার বিকাশ ভবনে স্কুলশিক্ষা দফতরে আবেদন করা হয়। কিন্তু সে অর্থ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। দফতর থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় অর্থ বরাদ্দ করা সম্ভব নয়। ২৫ মার্চ বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

রাজ্যের প্রধান কার্যালয় নবান্ন থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে হাওড়া জেলা স্কুল পরিদর্শকের কার্যালয়। হাওড়া থানা সংলগ্ন এলাকায় একটি ভবনের চতুর্থ তলে জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিস। হাওড়ার প্রায় ৬৫০ স্কুলের শিক্ষক ও পড়ুয়ার প্রয়োজনীয় যাবতীয় কাজকর্ম হয় সেখান থেকেই। ওই ভবনেই রয়েছে প্রাথমিক জেলা স্কুল পরিদর্শকের কার্যালয়, প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যানের কার্যালয়। সর্বত্র বিদ্যুৎ থাকলেও মাধ্যমিকের জেলা স্কুল পরিদর্শকের কার্যালয় অন্ধকার হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় যাবতীয় কাজকর্ম। ইন্টারনেট পরিষেবা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। সারাদিন গরমে হাঁসফাঁস করে দিন কাটতে থাকে কর্মীদের।

এই মুহূর্তে নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শিক্ষক নিয়োগের জন্য কাউন্সেলিং চলছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের আওতায়। সেখানে কিছু তথ্যগত ভ্রান্তির অভিযোগ ওঠায় শূন্যপদের তালিকা নতুন করে যাচাই করার কাজ চলছে। ফলে অতিরিক্ত ব্যস্ততাও রয়েছে ওই অফিসে। এ ছাড়া, নিয়মিত কাজের মধ্যে রয়েছে শিক্ষকদের নানা কাজ, নানা প্রকল্পের অর্থ সংক্রান্ত হিসাবনিকাশ, পড়ুয়াদের ট্যাবের টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া। এর উপর রয়েছে অতিরিক্ত নির্বাচনী দায়িত্ব। বিদ্যুতের সংযোগ না থাকায় সেই সব কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে খবর। অবশেষে সোমবার সেই অর্থ বরাদ্দ হয়।

এ দিকে অর্থাভাব এবং সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পরই অর্থ সংস্থান হওয়ায় প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষকদের একাংশ। অল ইন্ডিয়া ফেডারেশন অফ এডুকেশনাল অ্যাসোসিয়েশনস-এর সাধারণ সম্পাদক নবকুমার কর্মকার বলেন, ‘‘জেলায় স্কুলশিক্ষার প্রধান কার্যালয়ের এই ঘটনা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। জরুরি কাজ যেখানে চলছে, সেখানে এ ভাবে অর্থের অভাবে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, সেটা খুবই অসম্মানেরও।’’

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘অর্থ যদি না-ই থাকে, তা হলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হওয়ার পরে অর্থ কোথা থেকে এল? আসলে সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে।’’

DI Sanction
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy