Advertisement
E-Paper

কর্মরত শিক্ষকেরা গৃহশিক্ষকতা করলে করা হবে ‘পদক্ষেপ’, ডিআইদের জানাল স্কুলশিক্ষা দফতর

কোনও শিক্ষক তাঁর কাছে প্রাইভেট টিউশন না নিলে ‘অ্যাকাডেমিক কেরিয়ার’ নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও খবর। এখানেই রাশ টানছে সরকার। তবে স্কুলের পরিকাঠামো এবং মানোন্নয়ন হলে অভিভাবকেরা গৃহশিক্ষকের উপরে নির্ভরশীল হবেন না। তাই শিক্ষকদের দাবি, সেই দিকেও সরকার নজর দিক।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ ১৬:৪৫

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

স্কুলের কর্মরত শিক্ষকেরা কোনও ভাবেই প্রাইভেট টিউশন বা গৃহশিক্ষকতা করতে পারবেন না। অতীতে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে বেশ কয়েক বার বিতর্ক হলেও সর্বত্র এই প্রবণতা রোধ করা যায়নি বলেই অভিযোগ। কিন্তু এ বারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি পেয়ে নড়েচড়ে বসল স্কুলশিক্ষা দফতর। বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে দফতর সব জেলার স্কুল পরিদর্শকদের সাফ জানিয়ে দেয় যদি কোনও ভাবে এই সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইনেই উল্লেখ রয়েছে কোনও কর্মরত স্কুলশিক্ষক গৃহশিক্ষকতা করতে পারবেন না। এরপরে একাধিকবার সরকারের তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু সেই প্রবণতায় পুরোপুরি রাশ টানা যায়নি বলেই দাবি। তাই এ বারে এক ধাপ এগিয়ে ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ করার হুঁশিয়ারি দিল স্কুলশিক্ষা দফতর। এমনকি কোনও শিক্ষক তাঁর কাছে প্রাইভেট টিউশন না পড়লে ‘অ্যাকাডেমিক কেরিয়ার’ নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও খবর। দফতরের সাফ জবাব, এ সব কোনও মতেই বরদাস্ত করা হবে না। তবে স্কুলের তরফ থেকে যদি কোনও রিমেডিয়াল ক্লাস অর্থাৎ পিছিয়ে পড়া কোনও পড়ুয়ার জন্য বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করে, সেখানে পড়াতে পারবেন কর্মরত শিক্ষকেরা।

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘স্থায়ী শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বন্ধ করার নির্দেশ শিক্ষার অধিকার আইনেই বলা আছে। কিন্তু কিছু সুবিধাবাদী শিক্ষক নিয়মকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে শাসক দলে নাম লিখিয়ে প্রাইভেট টিউশন করে যাচ্ছেন। বর্তমান সরকারের আমলেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।’’ পাশাপাশি তাঁর দাবি, বিভিন্ন জেলা থেকে তাঁরা এই তথ্য সংগ্রহ করবেন। তারপরে সেই তথ্যপ্রমাণ সহ দফতরে অভিযোগ জানাবেন। সরকার কী পদক্ষেপ করে সেদিকেও নজর থাকবে তাঁর।

তবে শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, ‘‘ সব থেকে বেশি নজর দেওয়া উচিত স্কুলের সার্বিক পরিকাঠামো এবং মানোন্নয়নে। তাহলে গৃহশিক্ষকদের সাহায্য নিতেই হবে না। অভিভাবকেরা কেন অভিজ্ঞ শিক্ষকদের কাছে যাচ্ছেন সেটাও তো দেখতে হবে। স্কুল থেকেই যদি সেই শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় তাহলে তো আর অন্য গৃহশিক্ষকের প্রয়োজন নেই। সরকারের সেই দিকেও নজর দেওয়া দরকার বলে আমি মনে করি।’’

পাশাপাশি, মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা সম্পাদক অনিমেশ হালদার বলেন, ‘‘ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত আগে ঠিক (৩০ : ১) করতে হবে। সঙ্গে বিজ্ঞানভিত্তিক সিলেবাস রূপায়ণ এবং শিক্ষার পরিকাঠামোগত সার্বিক উন্নয়ন করতে হবে। না হলে শুধু শিক্ষকদের টিউশন বন্ধ করে শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই আমরা আগে বিশাল সংখ্যক শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।’’

যদিও আক্ষেপের সুরে এক অভিভাবকের দাবি, ‘‘স্কুলে পড়াশোনার যা পরিস্থিতি হয়েছে সেখানে সঠিক গৃহশিক্ষকতা ছাড়া আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ কী হবে সেটা স্পষ্ট বুঝতে পারছি!’’

Teacher west bengal school education department
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy