Advertisement
E-Paper

দ্বাদশের পরীক্ষার মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিয়ে ভূরি ভূরি অভিযোগ! ‘আস্থা হারাচ্ছি’, মত হতাশ পড়ুয়ার

গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে গোলমালের জেরে প্রশ্নের মুখে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ। বিতর্কের আবহে পড়ুয়াদের একাংশের আশঙ্কা, যা ঘটে চলেছে, তাতে হয়ত এ বার আর ভাল নম্বরই পাওয়া হবে না।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ ১৬:৪৪

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর পেরিয়ে গিয়েছে ২২ দিন। দ্বাদশের পড়ুয়াদের এখনও খাতার পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করতে হচ্ছে। তারা অপেক্ষা করছে সঠিক নম্বরের জন্য। এদের মধ্যে কেউ কেউ আবার নিট, কুয়েট ইউজি, ক্ল্যাট-এর মতো প্রবেশিকার জন্যও প্রস্ততি নিচ্ছে। আবার অনেকেই স্কলাস্টিক অ্যাসেসমেন্ট টেস্ট-এর (স্যাট) আন্তর্জাতিক স্তরের প্রবেশিকায় বসতে চায়। তাদের অভিযোগ, সিবিএসই-র গাফিলতির জেরে পরবর্তী ধাপের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতেই পারছে না তারা। ক্রমাগত ঘিরে ধরছে হতাশা।

সদ্যই এক্স হ্যান্ডল মারফত ওএসএম পদ্ধতিতে খাতা দেখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ‘কোএম্পট এডুটেক’ অনিয়ম করে বরাত পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ করে ১৭ বছরের এক কিশোর। সেই তথ্য সে কোথা থেকে কী ভাবে পেল? তা জানতে চেয়ে কেন্দ্রের শিক্ষা, নারী, শিশু, যুব এবং ক্রীড়া বিষয়ক পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে তাকে ডেকে পাঠানো হয়।

সিবিএসই-র মূল্যায়ন নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা নিয়ে ওই কিশোর ওই বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, পড়ুয়ারা সিস্টেমের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে। কিন্তু এর থেকে মুক্তির উপায়ও নেই। সে আরও বলে, “শিক্ষা দফতর, বোর্ডের মধ্যে কেউ-ই পড়ুয়াদের কথা চিন্তা করছে না। মাঝে মাঝে এ রকমও মনে হচ্ছে, যেন সর্বস্ব লুট হয়ে গেল।”

সংবাদপত্র, সমাজমাধ্যম মারফত প্রতিনিয়ত পড়ুয়ারা জানতে পারছে, কোথায় কী কী হচ্ছে! কিন্তু কেন হচ্ছে, কোথায় পড়ুয়াদের খামতি থেকে গেল— তার কোনও ব্যাখ্যা নেই। বিতর্কের আবহে পড়ুয়াদের একাংশের আশঙ্কা, যা ঘটে চলেছে, তাতে হয়ত এ বার আর ভাল নম্বরই পাওয়া হবে না। অনেকেরই দাবি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়াশোনার পর এই ঘটনা মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে উঠছে।

পড়ুয়া তো বটেই, অভিভাবকেরাও সমাজমাধ্যমে সিবিএসই-র মূল্যায়ন পদ্ধতির প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পরীক্ষামূলক ভাবে অন স্ক্রিন মার্কিং-এর পোর্টালটিকে চালু না করেই কাজ শুরু হয়েছিল। সদ্য সে খবরও প্রকাশিত হয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, এই পদ্ধতিতে স্বচ্ছতার অভাব স্পষ্ট এবং এমন পরীক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বই থাকছে না। তাঁদের প্রশ্ন, এত সংখ্যক পরীক্ষার খাতা কোনও সুরক্ষিত পরিকাঠামো ছাড়া কী ভাবে দেখার নির্দেশ দিল বোর্ড?

অভিযোগ, বিশেষ পদ্ধতিতে মূল্যায়নের পোর্টালে পরিকাঠামোগত গোলমাল থাকা সত্ত্বেও তাতে কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত করেননি। ঘটনাচক্রে ওই পোর্টাল চালু হওয়ার পর পরীক্ষার খাতা দেখা শুরু হয়। ফল প্রকাশের পর জানা যায়, পাশের হার কমেছে। ভাল পরীক্ষা দিয়েও যথাযথ নম্বর না পাওয়ায় পড়ুয়ারা উত্তরপত্র দেখতে চাওয়ার দাবি জানায়। সিবিএসই সেই দাবি মেনে উত্তরপত্র পাঠানোর ব্যবস্থা করে। তাতে দেখা যায়, কেউ সঠিক উত্তর লিখেও নম্বর পাননি, কারও কাছে সঠিক উত্তরপত্রই এসে পৌঁছায়নি।

এত বিতর্কের জেরে পোর্টালে যান্ত্রিক গোলযোগ এবং সাইবার হানার দায় স্বীকার করে সিবিএসই। বদলি করা হয় চেয়ারম্যান এবং সচিবকেও। ওএসএম পোর্টালের প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামোগত দায়িত্বপ্রাপ্ত বিতর্কিত সংস্থার বিরুদ্ধেও আর্থিক জরিমানার সিদ্ধান্তও জানায় বোর্ড।

সংবাদমাধ্যমে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবকের কথায়, “স্কুলের পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই এমন ঘটনা। এখন তো শুনছি ডাক্তারির পরীক্ষাতেও প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যত নিয়ে কী এতটুকুও চিন্তা করে না শিক্ষা দফতর? এত গাফিলতির দায় কার?”

তবে, এই বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা করার থেকে আগামীর জন্য প্রস্তুতিতে মন দেওয়াই বেশি ভাল বলে পরামর্শ দিচ্ছেন শিক্ষকমহলের একাংশ। দিল্লি নিবাসী শিক্ষক সৈয়দ আজ়ম হুসেন জানিয়েছেন, অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য পড়ুয়ারা হতাশ হয়ে পড়ছেন। তাই তাদের মনোবল বাড়াতে আলাদা করে কথা বলতে হচ্ছে, যাতে প্রাপ্ত নম্বর নিয়ে তারা মন খারাপ না করে।

CBSE Students CBSE Class 12 Results
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy