বুধবারই মুছে দেওয়া হয়েছে স্বরূপ বিশ্বাস এবং ফেডারেশন সংগঠনের অস্তিত্ব। দুই কর্মকাণ্ডেরই মাথায় রয়েছেন এক জন। বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো থেকে তিনি বলেছিলেন, “ডবল ইঞ্জিন সরকারের সহায়তায় দিল্লির ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স কনফেডারেশনের (কনফেডারেশন) আওতাভুক্ত হবেন টলিউডের সমস্ত কলাকুশলী। লক্ষ্য, দুর্নীতিমুক্ত ইন্ডাস্ট্রি।” এই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ধুন্ধুমার কাণ্ড টলিপাড়ায়। এরই মধ্যে প্রযোজকদের সঙ্গে বৈঠক সারলেন পাপিয়া।
পাপিয়া বলেন, “বাইরে থেকে অনেকে নতুন প্রযোজকেরা আসছেন। ভর্তুকিও আসবে আশা করি। কিন্তু, তা নিয়ে এখনই আমি কিছু বলতে পারব না। ধারাবাহিক, সিনেমা, অ্যানিমেশন, ভিএফএক্স-এর সঙ্গে যুক্ত সকলের সঙ্গেই কথা হয়েছে। অনেক সমস্যা ছিল। এখন কোনও কাটমানি নেই। কোনও রাহু নেই। সবাই স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারবেন। আমি জানতে চেয়েছি, কারা কারা সমস্যা তৈরি করতেন! কী কী অসুবিধা হয়েছে। তার পর সবাই একসঙ্গে আনন্দ করে কাজ করব।”
আরও পড়ুন:
এত দিন ধরে টলিপাড়ার প্রযোজকদের সম্পর্কে অভিযোগ উঠেছে যে, তাঁরা সঠিক সময়ে প্রাপ্য পারিশ্রমিক মেটান না। এ বার প্রযোজকদের হয়ে সুর তুললেন টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া। জানালেন, প্রযোজকেরা চারিদিকে বাঁধা পড়েছিলেন। তিনি বলেন, “ভোটব্যাঙ্কে টাকা দিতে দিতে প্রযোজকেরা মরে গিয়েছিলেন। তাই ছবির সংখ্যাও কমে গিয়েছে। আমরা সবাই মিলে ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করব।”
পাপিয়ার সঙ্গে বৈঠকের ফলে নতুন কোনও পথ পেলেন প্রযোজকেরা? এ প্রসঙ্গে ধারাবাহিকের পরিচালক-প্রযোজক সৃজিত রায় বলেন, “যে ভাবে কাজ চলছিল, সেখানে আমাদের অনেকগুলো জায়গায় সমস্যা ছিল। একটা এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়োর) তৈরির কথা হয়েছে। যাতে ইন্ডাস্ট্রির ভাল হতে পারে। আগামী বৃহস্পতিবার আবার বৈঠক হবে ছোটপর্দার প্রযোজকেদের সঙ্গে পাপিয়াদির। তিনি আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন, ভাল গল্প বলার জন্য। আমাদের এমন অনেক নিয়ম-কানুন ছিল যা গল্প বলাতে বাধা সৃষ্টি করেছিল। সেই নিয়ম শিথিল হলে আমাদের গল্প বলতে সুবিধা হবে।”
প্রযোজকেদের দাবি, দু’পক্ষই শান্ত ভাবে কথা বলেছেন। তাঁরাও খুশি বিধায়কের সঙ্গে বৈঠকের পরে। পরিবেশক তথা প্রযোজক শতদীপ সাহা বললেন, “আমাদের সমস্যার কথা জানিয়েছি। নন্দন নিয়েও বেশ কিছু কথা বলার ছিল, বলেছি। পাপিয়াদি বলেছেন, চিঠি লিখে দেওয়ার জন্য। যা তিনি পর্যালোচনা করে দেখবেন।” শতদীপের মতে, সমস্যার সুরাহা হবে। আগের থেকে সুস্থ পরিবেশে কাজ হবে। তিনি বলেন, “নন্দনে সবরকম বাংলা সিনেমা চালাতে হবে, এই কথা আমি বলেছি। আর নন্দনে ছবি চললে, সেখান থেকে যা লাভ হয়, প্রযোজক সেই টাকা পান প্রায় এক বছর পরে। সেটা তাড়াতাড়ি পাওয়ার ব্যবস্থা হলে ভাল হয়। নন্দনে অনেক সময় এমন দিনে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়, যে দিনগুলোয় দর্শক বেশি যায় সিনেমাহলে। সেই দিকে নজর দিতে বলেছি।”
শতদীপ জানিয়েছেন, নতুন প্রযোজকেরা যাতে আসেন সেটাই চাইছেন পাপিয়া। বহু সিনেমাহল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। প্রেক্ষাগৃহকে নতুন করে সাজানোর জন্য যদি ভর্তুকির সুবিধা পাওয়া যায়, তা হলে হলমালিকদের আগ্রহ বাড়বে। সে দিকেও নজর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পাপিয়া।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রযোজক সুচন্দ্রা ভানিয়াও। তিনি বলেন, “এটা কোনও সমস্যার বৈঠক ছিল না। এটা ছিল সমাধানের বৈঠক। প্রতি মাসে প্রযোজক এবং পরিচালকেরা দেখা করবেন। একটি ল্যাব তৈরি হবে। যেখানে ছবির ভাবনা, গল্প নিয়ে আলোচনা হবে। যা নিয়ে প্রযোজকেরা স্বাধীন ভাবে কাজ করবেন। প্রযোজক ও চ্যানেলের মেলবন্ধন করানোর আলোচনা হয়েছে। সারা পৃথিবীতে ১২ ঘণ্টা শিফ্টের কাজ হয়। সেই দিকটাও দেখা হবে।”
প্রেক্ষাগৃহে বেশি দিন যাতে সিনেমা প্রদর্শিত হয়, ছবির পরিবেশন সঠিক পথে যেন হয়, সবকিছু নিয়ে আলোচনা হয়েছে বৃহস্পতিবার। আগামী সপ্তাহে আবার একত্রিত হবে টলিপাড়ার প্রযোজক, পরিচালকেরা। সেই দিন কী আলোচনা হবে? সেই দিকেই তাকিয়ে সবাই।