প্রথম দিন ফেডারেশনের অফিসে পা দিয়েছিলেন গঙ্গাজলের বোতল হাতে। সর্বত্র সেই জল ছিটিয়ে বলেছিলেন, “শুদ্ধ করলাম!” সে দিনই আভাস দিয়েছিলেন, টলিউডের ফেডারেশন বলে কোনও সংগঠন থাকবে না। বুধবার টলিপাড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়ে টালিগঞ্জের জয়ী বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর বার্তা, “দিল্লি থেকে টলিউড দেখবে কো-ফেডারেশন। এত গিল্ড থাকবে না।”
এ দিন পাপিয়া বৈঠক করেন টেকনিশিয়ান স্টু়ডিয়োয়। বলেন, “দুর্নীতিমুক্ত টলিউড গড়তেই এই পদক্ষেপ। ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের সহায়তায় বাংলার কলাকুশলীদের ভালমন্দের দায় নেবে দিল্লির এই সংগঠন। টালিগঞ্জে সেই সংগঠনের অধীনস্থ বড় জোর তিন থেকে চারটি কমিটি থাকতে পারে।” এ-ও জানান, পাপিয়া তাঁর ‘ডি কিউব’ (ডিটেক্ট, ডিপোর্ট, ডিলিট) নীতির মাধ্যমে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করবেন। তাঁদে মুছে দেবেন। তার পর তাঁকে ইন্ডাস্ট্রি থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এই ‘ফর্মুলা’ প্রয়োগ করে টালিগঞ্জের বিজেপি বিধায়কের নিশানায় ম্যানেজার গিল্ড-এর সম্পাদক এবং সহ-সম্পাদক মহম্মদ হাসান, নিরুপম দে, মেকআপ আর্টিস্ট গিল্ড-এর বাপি মালাকার, ক্যামেরা গিল্ড-এর স্বপন মজুমদার এবং সুজিত হাজরা। তিনি ঘোষণা করেন, “এই ক’জনের বিরুদ্ধে প্রচুর অভিযোগ। এঁদের আর টলিউডে কাজ করতে দেওয়া হবে না। চাইলে ভিন্রাজ্যে, অন্য ইন্ডাস্ট্রিতে অবশ্যই এঁরা কাজ করতে পারবেন। কিন্তু বাংলায় আর নয়।”
বাংলা বিনোদন দুনিয়ার ‘ব্যান’ সংস্কৃতি ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের সময় থেকে চালু। নানা সময়ে যার বলি নানা জন। তালিকায় সাম্প্রতিক আলোচিত নাম রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, ঋদ্ধি সেন। রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদল ঘটার পর বিজেপি সরকারের কাছে টলিউডের তাই একটাই চাওয়া, আর যেন ‘ব্যান’ সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটে।
পাপিয়ার এ দিনের বার্তা কি সেই সংস্কৃতিকেই ফের উস্কে দিল? যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁদের শাস্তি দিতে আইন-আদালত, প্রশাসন রয়েইছে। আনন্দবাজার ডট কম প্রশ্ন করেছিল টলিউডের দায়িত্বে থাকা বাকি দুই বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে। রুদ্রনীলের জবাব, “আমি হাওড়া, শিবপুরের বিধায়ক। সকাল থেকে সেখানকার একটি ঘটনায় ব্যস্ত ছিলাম। ফলে, কিছুই জানি না। পাপিয়াদি কী বলেছেন, নিজের কানে শুনিনি। তাই এই বিষয়ে মন্তব্য করব না।” তবে যে কোনও সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, এবং তথ্য-সংস্কৃতি দফতর, এ কথা তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, আপাতত তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের দায়িত্ব নিজ কাঁধেই নিয়েছেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
টলিউডের দায়িত্বে মোট চার জন বিধায়কই বাংলা বিনোদন দুনিয়ার চার জনপ্রিয় মুখ। রূপা, পাপিয়া, রুদ্রনীল ছাড়াও আছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু কখনও চার বিধায়ক একজোটে টলিউডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন না। প্রসঙ্গ তুলতেই রুদ্রনীলের জবাব, “চার জন চারটি নির্বাচিত কেন্দ্রের দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত। মুখ্যমন্ত্রী চাইলে আমরা সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে অবশ্যই বসব।”
রূপাও এ দিন সকাল থেকে ব্যস্ত বিধানসভার বৈঠকে। তিনি ব্যস্ততার ফাঁকেই বলেন, “খবর পড়ে মন্তব্য করব না। বিষয়টি সম্পর্কে কিচ্ছু জানি না। তাই আমার কিছু বলার নেই।”