অস্তমিত ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন মুছে দিয়েছে অরূপ বিশ্বাসকে। বুধবার বিলুপ্ত স্বরূপ বিশ্বাস এবং ফেডারেশন সংগঠনের অস্তিত্ব। দুই কর্মকাণ্ডেরই হোতা এক জন। বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী।
পাপিয়ার কাছে ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অরূপের পরাজয়ের পরেই প্রশ্ন উঠেছিল ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপের অস্তিত্ব নিয়ে। এ দিন টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো থেকে তাঁর ক্ষমতার কবরে শেষ পেরেক পুঁতলেন পাপিয়াই। বললেন, “ডবল ইঞ্জিন সরকারের সহায়তায় দিল্লির ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স কনফেডারেশনের (কনফেডারেশন) আওতাভুক্ত হবেন টলিউডের সমস্ত কলাকুশলী। লক্ষ্য, দুর্নীতিমুক্ত ইন্ডাস্ট্রি।” তাঁর এই বার্তায় স্পষ্ট, টলিউডে আর ফেডারেশনের অস্তিত্ব রইল না। একই ভাবে থাকবে না আর ২৬টি গিল্ড। বিজেপি বিধায়ক জানিয়েছেন, তিন থেকে চারটি কমিটি থাকবে। পরিচালক, ক্যামেরা, প্রোডাকশন ম্যানেজার এবং শিল্প নির্দেশনা বিভাগ। তিনি আরও জানান, শেষ বিভাগটি রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়।
এ দিন সকালে পাপিয়া বৈঠক করেন গিল্ড-এর মুখপাত্রদের সঙ্গে। উপস্থিত ছিলেন প্রযোজক অশোক ধনুকা, পরিচালক অতনু বসু, অভিনেত্রী কাঞ্চনা মৈত্র, মুমতাজ সরকার, মৌবনী সরকার-সহ ৩৫ জন। পাপিয়া আশ্বাস দেন, সবাই কাজ পাবেন। যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ দেওয়া হবে। মতবিরোধ থাকলেও কাউকে নিষিদ্ধ করা যাবে না। শুটিং বন্ধ করা যাবে না। কলাকুশলীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের স্বাস্থ্য পরিষেবার দায়িত্বও কনফেডারেশনের। কেউ যাতে আর ‘কাটমানি’ নিতে না পারেন, সে দিকে কড়া নজর রাখা হবে। এই প্রসঙ্গে এ দিন তিনি আরও বলেন, “ফেডারেশন এবং গিল্ড-এর বেশ কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ। বেশ কিছু অভিযোগ প্রশাসনের কাছেও পৌঁছেছে। আমি প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে চাই না। বদলে ‘ডি কিউব’ (ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট) ব্যবহার করতে চাই।”
এ ছাড়াও, বলিউডীয় কাজের সময়সীমা মেনে টলিউডেও চালু হতে পারে আট ঘণ্টা কাজের নীতি। পাশাপাশি, ফেডারেশনকে তার করে যাওয়া কাজের জবাবদিহি করতে হবে। পাপিয়া কথা বলবেন ওয়েব প্ল্যাটফর্ম এবং চ্যানেল কর্তৃপক্ষগুলির সঙ্গে। তাঁরা নির্ধারিত সিরিজ় বা ধারাবাহিক দেখানোর জন্য কোথা থেকে টাকা পাচ্ছেন, খতিয়ে দেখবেন তিনি। একই সঙ্গে আলোচনা হবে ধারাবাহিক, সিরিজ়ের গল্প, বিষয়বস্তু নিয়েও।
পাপিয়া তাঁর ‘ডি কিউব’ নীতির সহযোগিতায় অভিযুক্তদের চিহ্নিত করবেন। তাঁকে মুছে দেবেন। তার পর তাঁকে ইন্ডাস্ট্রি থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এই ‘ফর্মুলা’ প্রয়োগ করে টালিগঞ্জের বিজেপি বিধায়কের নিশানায় ম্যানেজার গিল্ড-এর সম্পাদক এবং সহ-সম্পাদক মহম্মদ হাসান, নিরুপম দে, মেকআপ আর্টিস্ট গিল্ড-এর বাপি মালাকার, ক্যামেরা গিল্ড-এর স্বপন মজুমদার এবং সুজিত হাজরা। তিনি ঘোষণা করেন, “এই ক’জনের বিরুদ্ধে প্রচুর অভিযোগ। এঁদের আর টলিউডে কাজ করতে দেওয়া হবে না। চাইলে ভিন্রাজ্যে, অন্য ইন্ডাস্ট্রিতে অবশ্যই এঁরা কাজ করতে পারবেন। কিন্তু বাংলায় আর নয়।”
এ দিন পাপিয়ার আফসোস, “আমাদের সময় পরিচালক ছিলেন ‘ক্যাপ্টেন অফ দ্য শিপ’। পরে তাঁরাই যেন ‘চাকর’! আমি সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনব। তাঁরাই সিদ্ধান্ত নেবেন, কত জন কলাকুশলী নিয়ে তাঁরা কাজ করবেন। ফিরিয়ে আনা হবে সেই সব প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা, কলাকুশলীকে, যাঁরা এত দিন ইন্ডাস্ট্রিতে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর দৌলতে ব্রাত্য ছিলেন।” আশ্বাস দেন, ভিন্রাজ্য থেকে কলকাতায় এবং পশ্চিমবঙ্গে যাতে কাজ আসে, সেই দিকটিও দেখবেন তিনি।