Advertisement
E-Paper

তৃণমূলের যুযুধান দুই শিবিরকে ‘মেলালেন’ শুভেন্দু! প্রশাসনিক বৈঠকে ববি-কুণালের সঙ্গেই নবান্নে হাজির ঋতব্রত-সন্দীপন

দলবিরোধী কাজের অভিযোগে গত সোমবার তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে। তাঁরা যে নবান্নের বৈঠকে থাকবেন, তা জানা ছিল। সঙ্গে হাজির কুণাল, ববিরাও।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬ ১৪:৩৩
(বাঁ দিক থেকে) নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (ডান দিকে)।

(বাঁ দিক থেকে) নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পথেই হাঁটলেন ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়েরা। বুধবার নবান্নে গিয়ে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। নবান্নের সভাঘরে কলকাতা, হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার প্রশাসনিক বৈঠক আয়োজিত হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহারা যে ওই বৈঠকে যোগ দেবেন, তা আগে থেকেই জানা ছিল। তবে কুণাল, ফিরহাদদের উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ। মনে করা হচ্ছে, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে যে বিভাজন স্পষ্ট হয়েছে, সেই যুযুধান দুই শিবিরকে মিলিয়ে দিল শুভেন্দুর বৈঠক।

দলবিরোধী কাজের অভিযোগে গত সোমবার তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপনকে। বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সভানেত্রী ঘোষণা করে তাঁরা বিধানসভার স্পিকারকে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেখানে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার কথা বলা হয়েছে। উপদলনেতা হিসাবে প্রস্তাব করা হয়েছে চার জনের নাম— সাবিনা ইয়াসমিন, জাভেদ খান, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহা। এর আগে মমতা নিজে বিরোধী দলনেতা করেছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। কিন্তু তৃণমূলের অন্দরের ‘বিদ্রোহী’রা জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা ওই সিদ্ধান্ত মানেন না। এই পরিস্থিতিতে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সিদ্ধান্তই চূড়়ান্ত। তিনি বুধবার বিকেল ৪টে পর্যন্ত সময় চেয়েছেন। তার মধ্যেই নবান্নে পৌঁছে গেলেন তৃণমূলের বিধায়কেরা।

শুভেন্দুর বৈঠকে ঋতব্রত, সন্দীপন যে যোগ দেবেন, তা আগেই ঠিক ছিল। তবে ফিরহাদ, কুণাল, নয়নার মতো নেতারা, মঙ্গলবার পর্যন্তও যাঁদের মমতার পাশে থাকতে দেখা গিয়েছে, বুধবার নবান্নে তাঁদের উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে কল্যাণীতে নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং হুগলি জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন কাকলি। দলের বিরুদ্ধে তিনিও মুখ খুলেছিলেন। সেই পথেই ফিরহাদ, কুণাল, নয়নারা হাঁটলেন বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকে রয়েছেন বজবজের বিধায়ক অশোক দেবও।

ভোটে ভরাডুবির পর মঙ্গলবার প্রথম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পথে নেমেছিলেন মমতা। ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসেছিলেন তিনি। সেখানে ফিরহাদ, নয়না, অশোকেরা ছিলেন। কুণালও গিয়েছিলেন। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ফিরে যান। মমতার এই কর্মসূচিতে তৃণমূলের হাতেগোনা কয়েক জন নেতাকেই দেখা গিয়েছিল। অন্য দিকে, গত শনিবার দলের ‘ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত’ তৃণমূলকর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সোনারপুরে আক্রান্ত হন অভিষেক। তার পর আর তাঁকে বাইরে বেরোতে দেখা যায়নি। বুধবার তৃণমূলের বিদ্রোহীরা ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করতে চেয়ে যখন বিধানসভায়, তখন তৃণমূলের সমস্ত কমিটি ভেঙে দিয়ে দলের তরফে সমাজমাধ্য়মে পোস্ট করা হয়। বলা হয়, কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নতুন কমিটি তৈরি করা হবে। ফলে তৃণমূলে ভাঙন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

TMC MLA Nabanna BJP Suvendu Adhikari Mamata Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy