জাতীয় স্তরের ইলেকট্রিক রেসিং কার্ট প্রতিযোগিতায় সাফল্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। গত বছর নভেম্বরে কোয়েম্বত্তূরে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান কার্টিং রেস প্রতিযোগিতায় অষ্টম স্থান অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোটর স্পোর্টস ক্লাবের তৈরি ইলেকট্রিক রেসিং কার্ট।
২০২৫-এর নভেম্বরে ইন্ডিয়ান কার্টিং রেস প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়ার জন্য ক্লাবের সদস্য ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়ারা একটি বিশেষ ইলেকট্রিক কার্ট তৈরি করেন। দেশের নানা প্রান্ত থেকে যোগ দেওয়া ১৯টি দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অষ্টম স্থান দখল করেছে কলকাতার এই বিশ্ববিদ্যালয়।
আরও পড়ুন:
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, ইলেকট্রিক রেসিং কার্টটিতে ব্যবহার করা হয়েছে একটি ৭২ ভোল্ট ও ৬০ অ্যাম্পিয়ার লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি এবং একটি ৭২ ভোল্ট ও ৩ কিলোওয়াট ক্ষমতার পার্মানেন্ট ম্যাগনেট সিঙ্ক্রোনাস মোটর। গাড়ির সুরক্ষার জন্য, ডুয়াল হাইড্রোলিক ব্রেক সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। কার্টটি ৭৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে চলতে সক্ষম। পড়ুয়ার জানাচ্ছেন, ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রতিযোগিতায় নির্বিঘ্ন দৌড়েছে কার্টটি। এটিতে চার্জিং এর সুবিধা থাকলেও তার প্রয়োজন হয়নি মাঝপথে।
২০১৭-এ মোটর স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিষ্ঠা হয় যাদবপুরে। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের মধ্যে মোটর স্পোর্টসে আগ্রহ তৈরি করা। সেই সঙ্গে প্রযুক্তি পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ করে দেওয়া। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতায় যোগ দেয় ক্লাব।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মোটর স্পোর্টস ক্লাবের সদস্য অংশুমান সিংহ বলেন, “এটি আমাদের নিজস্ব প্রকল্প। ৮০ জন পড়ুয়া সক্রিয় ভাবে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গাড়ির নকশা, চ্যাসিস নির্মাণ, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট, ব্রেকিং সিস্টেম থেকে শুরু করে ট্র্যাক টেস্টিং— প্রতিটি ধাপে ছিল তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা৷” তিনি জানান, এ রাজ্য থেকেই যাদবপুরই প্রথম ইলেকট্রিক কার্ট তৈরি করেছে৷ এর আগে ২০২০-এ তাঁরা একটি কম্বাশন ইঞ্জিনচালিত গো-কার্ট তৈরি করেছিলেন।
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক পড়ুয়া বলেন, “এই গাড়িটি মূলত নবীনদের কার্টিং রেসে ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে৷ প্রতিযোগিতায় যোগ দিতে হলে নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশিকা মেনে চলতে হয়৷ সেই অনুযায়ী প্রথমে গাড়িটির নকশা করা হয়। পরে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানো হয়েছে৷ পুরো গাড়িটি তৈরি করতে আমাদের ছয়-সাত মাস সময় লেগেছে৷”
পড়ুয়ারা জানান, ভবিষ্যতে এই গাড়িটিকে আরও আধুনিক করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ‘ফর্মুলা ভারত’ প্রতিযোগিতার জন্য পরবর্তী ধাপের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে৷