Advertisement
E-Paper

মিড ডে মিল থেকে হস্টেলের রান্নাঘর! গ্যাস সিলিন্ডারের অভাব মেটাতে কোথাও কাঠের জ্বালানির ব্যবহার, কোথাও মেনুতে কাটছাঁট

শুক্রবার স্কুলে অতিরিক্ত ডিম দিলেও গ্যাস সিলিন্ডারের সমস্যা না মেটা পর্যন্ত এক পদে খেয়েই পেট ভরাতে হবে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের। এমনটাই জানাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি। ইতি মধ্যেই মিড ডে মিলের মেনুতে সয়াবিনের তরকারি, ভাত, ডালে কাটছাঁট করে খিচুড়ি দেওয়া শুরু হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ ১৮:১২
নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব চিত্র।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচে গ্যাসের সিলিন্ডার নিয়ে চিন্তা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার মধ্যে মিড ডে মিলে পড়ুয়াদের পাতে শুক্রবার পৌঁছোলো অতিরিক্ত ডিম। একই ভাবে তিন দিন বাদে বৃহস্পতিবার রাতে রান্না হল হিন্দু হস্টেলের রান্না ঘরে।

শুক্রবার স্কুলে অতিরিক্ত ডিম দিলেও গ্যাস সিলিন্ডারের সমস্যা না মেটা পর্যন্ত এক পদে খেয়েই পেট ভরাতে হবে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের। এমনটাই জানাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি। ইতি মধ্যেই মিড ডে মিলের মেনুতে সয়াবিনের তরকারি, ভাত, ডালে কাটছাঁট করে খিচুড়ি দেওয়া শুরু হয়েছে। কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল দেওয়া হয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা চালিত কমিউনিটি রান্নাঘরের মাধ্যমে। এখান থেকে রান্না হয়ে একাধিক স্কুলে খাবার পৌঁছে যায়। এমনই একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কোষাধ্যক্ষ ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায় বলেন, "আগের ঘোষিত সূচি মেনে সেদ্ধ ডিম দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সিলিন্ডার পাওয়া না গেলে পড়ুয়াদের খিচুড়ির মতো একটি পদ ছাড়া আর কিছু দেওয়া সম্ভব নয়। তারা যাতে প্রত্যেক দিন খাবার পায় তাই এই ব্যবস্থা।"

উত্তর ২৪ পরগনার নারায়ণ দাস বাঙ্গুর স্কুলে মিড ডে মিলের সমস্যা মেটাতে প্রধান শিক্ষক নিজের বাড়ি থেকে সিলিন্ডার নিয়ে এসে রান্না করাচ্ছেন। প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় বড়ুয়া বলেন, "শুক্রবার বিকেলে তিনটি সিলিন্ডার দেওয়ার কথা। আপাতত বাচ্চারা যাতে খাবার পায় তাই আমি বাড়ি থেকে সিলিন্ডার নিয়ে এসে রান্নার ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু এভাবে কতদিন চলবে জানি না।"

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমগ্র শিক্ষা মিশনের এক কর্তা বলেন, "কলকাতার কোনও স্কুলে মিড-ডে মিল বন্ধ রাখা যাবে না। তবে গ্যাস বাঁচিয়ে চলতে কয়েক দিন এক পদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।"

অন্যদিকে, গ্যাস সিলিন্ডারের অভাবে সোমবার থেকে হিন্দু হস্টেলের রান্নাঘরে তালা পড়ে। সমস্যায় পড়েন ১৭০ জন আবাসিক। বৃহস্পতিবার বিকেলে সেখানে তিনটি সিলিন্ডার দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এর ফলে রান্না হচ্ছে। কিন্তু মেনুতে কাটছাঁট করা হয়েছে। ডাল, ভাত ও তরকারি ছাড়া আর কিছু দেওয়া হচ্ছে না। এই হস্টেলে স্নাতকোত্তরের আবাসিক মহম্মদ আশিক রহমান বলেন, "গ্যাস সিলিন্ডারের সমস্যার কারণে রান্নায় কাটছাঁট করা হয়েছে। শুধু ডাল, ভাত ও তরকারি দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই সমস্যার জন্য আমরা ৬টি সিলিন্ডার টাকা দিয়ে বুক করেছি। কিন্তু দিয়েছে মাত্র তিনটি।"

তবে শুধু মিড ডে মিল বা হস্টেল নয়, বিভিন্ন কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতেও কোথাও বিকল্প ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, আবার কোথাও রান্নার মেনুতে কাটছাঁট করা হয়েছে। খড়গপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি)-র কয়েকটি রান্নাঘরে এলপিজির বিকল্প হিসেবে জ্বালানি কাঠের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এলপিজি সরবরাহ অনিয়মিত হওয়ায় অনেক ক্যান্টিনে খাবারের তালিকা ছোট করা হয়েছে। কিছু পদ সাময়িকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে যাতে সীমিত জ্বালানি দিয়েই রান্না চালানো যায়।

ক্যাম্পাস কর্তৃপক্ষের মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চালু থাকতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার আগের মতো পূর্ণ মেনু চালু করা হবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর এলাকার অন্তর্গত কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুলের প্রধানশিক্ষক চন্দন মাইতি বলেন , "গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া গিয়েছে। তবে সেটা পর্যাপ্ত নয়। যেহেতু আমরা ইতিমধ্যেই কাঠের জ্বালানি কিনে ফেলেছি সে কারণে আপাতত সেটা দিয়েই মিড ডে মিল চালাচ্ছি। বাকি দুটি সিলিন্ডার স্টোর করে রাখা হয়েছে। আমাদের প্রতি দিন একটি আস্ত এবং একটি অর্ধেক সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়। পরিস্থিতির উপরে নজর রেখেই কাজ করতে হচ্ছে।" নদিয়ার বড়জাগুলি গোপাল অ্যাকাডেমির ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক রাজকুমার হাজরা জানিয়েছেন, শুক্রবার তিনি পর্যাপ্ত গ্যাসের সিলিন্ডার পেয়েছেন।

LPG War gas mid-day meal
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy