কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে সোমবার গভীর রাতে হানা দেয় পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েক জন জওয়ান। মেয়র ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, এলাকায় যাতে ভোট শান্তিপূর্ণ ভাবে হয়, সেই নিয়ে ‘হঁশিয়ারি’ দিয়েছেন পুলিশ পর্যবেক্ষক। অশান্তি হলে তিনি ‘কড়া পদক্ষেপ’ করবেন বলেও জানিয়েছেন। ফিরহাদ যদিও জানিয়েছেন, যে এলাকায় তাঁর বাড়ি তিনি সেখানকার প্রার্থী নন। তাই বুধবার, দ্বিতীয় দফার ভোটের দিনে তিনি সেখানে থাকবেন না। ফিরহাদের বাড়িতে হানার বিষয়টি হাই কোর্টে মামলার শুনানিতে উল্লেখ করেছেন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূলের সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে পুলিশ পর্যবেক্ষক কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েক জন জওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে মেয়রের চেতলার বাড়িতে যান। তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান ওই পুলিশ আধিকারিক। তাঁর সঙ্গে কথাও বলেন ফিরহাদ। ঘনিষ্ঠ মহলে ফিরহাদ জানিয়েছেন, পুলিশ পর্যবেক্ষকের পক্ষ থেকে ‘হুঁশিয়ারি’ দিয়ে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় ভোট যেন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন হয়। কোনও রকম অশান্তি তিনি বরদাস্ত করবেন না। যদি কোথাও কোন অশান্তির ঘটনা ঘটে, তবে তিনি কড়া ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন।
আরও পড়ুন:
পাল্টা মেয়র ওই পুলিশ আধিকারিককে জানান, চেতলা এলাকায় কোনও নির্বাচনে এখন পর্যন্ত অশান্তি হয়নি, এ বারও হবে না। তিনি আরও জানান, তাঁর বাসভবন রয়েছে কলকাতা পুরসভার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে, যা ভবানীপুর বিধানসভার অংশ। ওই কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কলকাতা বন্দর কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী। বুধবার, ভোটের দিন তিনি সেই কেন্দ্রেই থাকবেন।
ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে লড়াই করছেন বিদায়ী বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট করানোই এখন লক্ষ্য কমিশনের।
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে সমস্যা সৃষ্টিকারী (ট্রাবল মেকার)-দের নামের তালিকা প্রকাশ নিয়ে মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তৃণমূল। সেই মামলার শুনানিতে কল্যাণ উল্লেখ করেন, রাজ্যের মন্ত্রীর বাড়িতে মাঝরাতে পুলিশ চলে গিয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত