Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি করতেই মন্তব্য অজয়ের’! ‘সিংহম’ বিতর্কে বললেন সিইও মনোজ, মঙ্গলবারও রাতভর দফতরে

বুধবার রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার রাতেই বিভিন্ন এলাকায় যাবেন সিইও মনোজ। সারা রাত নিজের দফতরে থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ২১:০৮
(বাঁ দিকে) অজয়পাল শর্মা। মনোজ অগ্রবাল (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) অজয়পাল শর্মা। মনোজ অগ্রবাল (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

অজয়পাল শর্মা কোনও নির্দেশ কাউকে দেননি। ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি করতে কিছু মন্তব্য করেছিলেন। ‘সিংহম’ বিতর্কে ফলতার পুলিশ পর্যবেক্ষকের পাশে দাঁড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগ্রবাল। বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটের আগের রাতে নিজের দফতরেই থাকবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। প্রথম দফার আগের রাতেও তিনি ছিলেন নিজের দফতরে। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। তার পরে ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে রাতেই মনোজ বিভিন্ন এলাকায় যাবেন বলে কমিশন সূত্রে খবর। বুধবার ভোরে বৈঠকে করবেন নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে।

পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পালের বিরুদ্ধে বাড়িতে ঢুকে মহিলাদের হেনস্থার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। দাবি, স্থানীয় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির সামনে গিয়ে তিনি ‘হুঁশিয়ারি’ দিয়ে এসেছেন। মঙ্গলবার সেই বিতর্ক আরও বাড়ে অজয়পালের কনভয়ের সামনে বিক্ষোভে। এই প্রসঙ্গে মনোজ বলেন, ‘‘অজয় পাল শর্মা সরাসরি কোনও নির্দেশ কাউকে দেননি। তিনি ভোটারদের আস্থা বাড়াতে কিছু মন্তব্য করেন। তিনি নিজের সীমা জানেন।’’ এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, ফলতার ঘটনায় চাইলে কমিশনকে রিপোর্ট দিতে পারেন অজয়পাল। তবে সিইও দফতর নিজে থেকে রিপোর্ট চাইবে না।

ভোট প্রস্তুতি

বুধবার রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার রাতেই বিভিন্ন এলাকায় যাবেন সিইও মনোজ। সারা রাত নিজের দফতরে থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এবং বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক এনকে মিশ্রও থাকবেন তাঁর সঙ্গে। মঙ্গলবার রাতে সকল থানার ওসির সঙ্গে বৈঠকে বসছে কমিশন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বলে খবর। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি করতে সব রকম পদক্ষেপ করা হবে। বুধবার ভোরে সব পর্যবেক্ষকের সঙ্গে বৈঠক করবেন সিইও। মনোজ জানান, দ্বিতীয় দফার ভোটে কোনও রকম অশান্তি যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সব আধিকারিক কমিশনের অধীনে রয়েছেন। প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে। শান্তিপূর্ণ ভোট করানো তাঁদের কাজ। কাজ না-করলে কমিশন আগেও ব্যবস্থা নিয়েছে, আবার নেবে। এই দফার ভোটে ৩০ শতাংশ অতিস্পর্শকাতর বুথ। আগে যা পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার চেয়ে আরও বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।

ফিরহাদের বাড়িতে

মনোজ জানান, গভীর রাতে বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে পর্যবেক্ষক যাওয়ার ঘটনায় কোনও অভিযোগ সিইও দফতরে জমা পড়েনি। ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট করানোর জন্য কমিশনকে পদক্ষেপ করতে বলেছে কলকাতা হাই কোর্ট। তিনি বলেন, ‘‘কোনও অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও কাউকে হয়রানি করা হলে তৃণমূল আমাদের জানাক, তাঁর নাম দিক। আমরা খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করব। পুলিশ আইন মেনে কাজ করছে। তার বাইরে গিয়ে পদক্ষেপ করলে ব্যবস্থা নেব।’’ প্রসঙ্গত, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, সোমবার গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েক জন জওয়ান গিয়েছিলেন।

গ্রেফতারি

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সারা রাজ্য জুড়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩,০০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ পর্যবেক্ষক সেই রিপোর্ট দিয়েছেন। সিইও মনোজের দাবি, ‘‘বাইকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা যাবে না বলে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ডিভিশন বেঞ্চ আমাদের নির্দেশ খারিজ করে দেয়নি। জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট করাতে ওই পদক্ষেপ করা হয়েছিল। আদালত তাতে মান্যতা দিয়েছে। দল বেঁধে বাইকে যাতায়াত (গ্রুপ রাইডিং) বন্ধ করে দিয়েছে।’’ রাজ্যে প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে নির্বিঘ্নে ভোট হয়েছে বলেও জানান মনোজ।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy