অজয়পাল শর্মা কোনও নির্দেশ কাউকে দেননি। ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি করতে কিছু মন্তব্য করেছিলেন। ‘সিংহম’ বিতর্কে ফলতার পুলিশ পর্যবেক্ষকের পাশে দাঁড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগ্রবাল। বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটের আগের রাতে নিজের দফতরেই থাকবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। প্রথম দফার আগের রাতেও তিনি ছিলেন নিজের দফতরে। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। তার পরে ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে রাতেই মনোজ বিভিন্ন এলাকায় যাবেন বলে কমিশন সূত্রে খবর। বুধবার ভোরে বৈঠকে করবেন নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে।
পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পালের বিরুদ্ধে বাড়িতে ঢুকে মহিলাদের হেনস্থার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। দাবি, স্থানীয় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির সামনে গিয়ে তিনি ‘হুঁশিয়ারি’ দিয়ে এসেছেন। মঙ্গলবার সেই বিতর্ক আরও বাড়ে অজয়পালের কনভয়ের সামনে বিক্ষোভে। এই প্রসঙ্গে মনোজ বলেন, ‘‘অজয় পাল শর্মা সরাসরি কোনও নির্দেশ কাউকে দেননি। তিনি ভোটারদের আস্থা বাড়াতে কিছু মন্তব্য করেন। তিনি নিজের সীমা জানেন।’’ এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, ফলতার ঘটনায় চাইলে কমিশনকে রিপোর্ট দিতে পারেন অজয়পাল। তবে সিইও দফতর নিজে থেকে রিপোর্ট চাইবে না।
ভোট প্রস্তুতি
বুধবার রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার রাতেই বিভিন্ন এলাকায় যাবেন সিইও মনোজ। সারা রাত নিজের দফতরে থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এবং বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক এনকে মিশ্রও থাকবেন তাঁর সঙ্গে। মঙ্গলবার রাতে সকল থানার ওসির সঙ্গে বৈঠকে বসছে কমিশন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বলে খবর। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি করতে সব রকম পদক্ষেপ করা হবে। বুধবার ভোরে সব পর্যবেক্ষকের সঙ্গে বৈঠক করবেন সিইও। মনোজ জানান, দ্বিতীয় দফার ভোটে কোনও রকম অশান্তি যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সব আধিকারিক কমিশনের অধীনে রয়েছেন। প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে। শান্তিপূর্ণ ভোট করানো তাঁদের কাজ। কাজ না-করলে কমিশন আগেও ব্যবস্থা নিয়েছে, আবার নেবে। এই দফার ভোটে ৩০ শতাংশ অতিস্পর্শকাতর বুথ। আগে যা পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার চেয়ে আরও বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।
ফিরহাদের বাড়িতে
মনোজ জানান, গভীর রাতে বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে পর্যবেক্ষক যাওয়ার ঘটনায় কোনও অভিযোগ সিইও দফতরে জমা পড়েনি। ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট করানোর জন্য কমিশনকে পদক্ষেপ করতে বলেছে কলকাতা হাই কোর্ট। তিনি বলেন, ‘‘কোনও অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও কাউকে হয়রানি করা হলে তৃণমূল আমাদের জানাক, তাঁর নাম দিক। আমরা খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করব। পুলিশ আইন মেনে কাজ করছে। তার বাইরে গিয়ে পদক্ষেপ করলে ব্যবস্থা নেব।’’ প্রসঙ্গত, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, সোমবার গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েক জন জওয়ান গিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন:
-
ভবানীপুরে মমতাকে জেতাতে ‘নকল আঙুল’ কিনেছে তৃণমূল! নমুনা দেখিয়ে দাবি করলেন প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু, কী জবাব শাসকদলের
-
প্রথম দফায় ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে রাজ্যের ১৮২টি বুথে! সবচেয়ে বেশি রানিনগর এবং চোপড়া বিধানসভা কেন্দ্রে
-
গভীর রাতে ফিরহাদের বাড়িতে পুলিশ পর্যবেক্ষক, কেন্দ্রীয় বাহিনী! মেয়র জানান, ‘ভবানীপুর নিয়ে হুঁশিয়ারি’ দেওয়া হয়েছে
গ্রেফতারি
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সারা রাজ্য জুড়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩,০০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ পর্যবেক্ষক সেই রিপোর্ট দিয়েছেন। সিইও মনোজের দাবি, ‘‘বাইকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা যাবে না বলে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ডিভিশন বেঞ্চ আমাদের নির্দেশ খারিজ করে দেয়নি। জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট করাতে ওই পদক্ষেপ করা হয়েছিল। আদালত তাতে মান্যতা দিয়েছে। দল বেঁধে বাইকে যাতায়াত (গ্রুপ রাইডিং) বন্ধ করে দিয়েছে।’’ রাজ্যে প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে নির্বিঘ্নে ভোট হয়েছে বলেও জানান মনোজ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
২১:৩১
ভোটের আগের দিন খাগড়াগড়ে এনআইএ, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে এলাকা ঘুরলেন আধিকারিকেরা -
২১:২৬
ভোট মিটে যাওয়ার পর আরও দু’মাস পশ্চিমবঙ্গে থেকে যাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী, ঘোষণা শাহের, সিদ্ধান্ত বলবৎ নিয়ে শুরু জল্পনা -
২১:২১
মাঝরাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বাড়িতে ঢুকেছিলেন ‘সিংহম’ অজয়পাল! থানায় মারধর, শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের -
২০:৪৫
ফলতা-সহ ছ’টি বিধানসভা এলাকায় অশান্তির আশঙ্কা, বাড়তি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত কমিশনের -
২০:৩০
তৃণমূলের ‘নিউক্লিয়াসে’ নির্বাচন দ্বিতীয় দফায়, সাত জেলার মধ্যে চারটিতেই বিজেপি ছিল ‘শূন্য’! নতুন জমি তৈরির লক্ষ্যে পদ্মফুল