Advertisement

নবান্ন অভিযান

প্রথম দফায় ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে রাজ্যের ১৮২টি বুথে! সবচেয়ে বেশি রানিনগর এবং চোপড়া বিধানসভা কেন্দ্রে

গত ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। বুথের সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৩৭৬। কমিশন জানিয়েছে, মোট ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটার ভোটদান করেছেন। অর্থাৎ, ৯৩.১৯ শতাংশ ভোট পড়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৫৭
রাজ্যের বহু বুথে ভোটদানের হার ৯৯ শতাংশ।

রাজ্যের বহু বুথে ভোটদানের হার ৯৯ শতাংশ। — ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ১৫২টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৮২টি বুথে ভোট পড়েছে ৯৯ শতাংশ। এমনটাই বলছে নির্বাচন কমিশন। ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে, এমন বুথের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া এবং মুর্শিদাবাদের রানিনগরে। সেখানে ১১টি করে বুথে ভোটের হার ৯৯ শতাংশ।

গত ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। বুথের সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৩৭৬। কমিশন জানিয়েছে, মোট ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ জন ভোটদান করেছেন। অর্থাৎ, ৯৩.১৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। রাজ্যের ১৮২টি বুথে ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে এমন বুথের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি চোপড়া এবং রানিনগরে। তার পরেই রয়েছে কোচবিহারের শীতলকুচি এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা আসন। সেখানে ন’টি করে বুথে ভোট পড়েছে ৯৯ শতাংশ। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি আসনের আটটি বুথে ভোটের হার ৯৯ শতাংশ। জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা বিধানসভা কেন্দ্রের সাতটি করে বুথে ভোটদানের হার ছিল প্রথম দফায় ৯৯ শতাংশ। মুর্শিদাবাদের লালগোলা, বীরভূমের সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে ছ’টি করে বুথে ভোট পড়েছে ৯৯ শতাংশ। মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে পাঁচটি বুথে ভোটদানের হার ৯৯ শতাংশ।

এসআইআরের ফলে গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এই ১৫২টি আসনে ১৭ লক্ষ ভোটার কমেছে। কিন্তু এ বার ভোটদাতার সংখ্যা ২০২১ সালের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে ২১ লক্ষেরও বেশি। অর্থাৎ, প্রথম দফার ১৫২ আসনের প্রত্যেকটিতে গড়ে ভোটদান বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪ হাজারেরও বেশি।

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের সময়ে এই ১৫২টি আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ কোটি ৭৮ লক্ষ ১৫ হাজার ২৮৮ জন। তাঁদের মধ্যে ভোট দিয়েছিলেন ৩ কোটি ১৪ লক্ষ ৫৮ হাজার ১৪২ জন। পাঁচ বছর পেরিয়ে, এসআইআরের পরে প্রথম দফার এই আসনগুলিতে ভোটার হয়েছেন ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৭৪ জন। তাঁদের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ভোট দিয়েছেন ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ ২২ হাজার ১৬৮ জন।

গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এ বছরে এই ১৫২টি আসনে মোট ১৭ লক্ষ ৩৮ হাজার ০১৪ জন ভোটার কমেছে। তবে ২০২১ সালের ভোটের তুলনায় এ বারের নির্বাচনে ভোটদাতা বৃদ্ধি পেয়েছে ২১ লক্ষ ৬৪ হাজার ২৬ জন।

কমিশনের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম দফায় ভোটদানের হার সবচেয়ে বেশি কোচবিহারে। সেখানে ৯৬.২০ শতাংশ ভোট পড়েছে। কোচবিহারের শীতলকুচিতেই ১১টি বুথে ভোটদানের হার ছিল প্রথম দফায় ৯৯ শতাংশ। দার্জিলিং এবং কালিম্পং বাদে বাকি ১৪টি জেলাতেই ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। ভোটদাতার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বাঁকুড়ায়। সেখানে ২৭ লক্ষেরও বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
Election Commission
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy