দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচারের শেষ দিনে হুগলির আরামবাগে রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনে রিপোর্ট পাঠিয়েছে পুলিশ। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে রিপোর্ট এসেছে জেলাশাসকের তরফেও। পুলিশি রিপোর্টে বলা হয়েছে, সোমবার দু’টি পৃথক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগ্রবাল সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশি রিপোর্টের প্রাপ্তিস্বীকার করে বলেন, ‘‘আরামবাগের ঘটনায় তিনটি বিষয় জানা যাচ্ছে। কোথাও দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বের কথা বলা হচ্ছে। জেলাশাসক এবং পুলিশের তরফে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। কমিশন সব রিপোর্ট এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে জানাতে পারবে।’’ মনোজ জানান, রবিবার থেকে দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন শুরু হয়েছে। এর আগে কম বাহিনী ছিল। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুষ্কৃতীরা অশান্তি, ভয় দেখানোর মতো কাজ করেছে। সেগুলি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে নেই। এর পরেই তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘এ বার থেকে যে কোনও ধরনের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করা হবে।’’
আরও পড়ুন:
সোমবার সকালে গোঘাট থানার এলাকায় একটি রাজনৈতিক মিছিল চলাকালীন বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগারের গাড়ির উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং দ্রুত অভিযান চালিয়ে ওই ঘটনায় জড়িত ৫ জনকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। এর পরে দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগের গাড়ির উপর হামলার আরেকটি ঘটনা সামনে আসে। প্রথমে এটি দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল বলে মনে হলেও, পরে স্থানীয় সূত্র এবং ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানায়, কিছু সমাজবিরোধীর যোগ পাওয়া গিয়েছে, যাদের বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এই ঘটনায় সাত জনের নাম চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রথম তিন জনকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যাতে নতুন করে উত্তেজনা না ছড়ায়, তার জন্য পুলিশ কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। প্রসঙ্গত, গোঘাটের ঘটনায় তিনি জখম হয়েছেন বলে সাংসদ মিতালির দাবি। হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে তাঁকে। তাঁকে দেখতে সোমবার বিকেলে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির পাল্টা দাবি, তাদের প্রচার চলাকালীন গোঘাটের তৃণমূল নেতা সঞ্জয় খানের নেতৃত্বে কিছু দুষ্কৃতী লাঠি, ইট, রড, বন্দুক নিয়ে কর্মীদের উপর হামলা চালায়। জখম ২০ জন বিজেপি কর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
২১:১৪
এ বারের মতো প্রচার শেষ! ১৪২ আসনের ভবিষ্যৎ যন্ত্রবন্দি হবে বুধে, নানা এলাকায় অশান্তি কপালে ভাঁজ ফেলল কমিশনের -
২০:৩৭
ভোটের পশ্চিমবঙ্গে গর্জন শুরু করলেন উত্তরপ্রদেশের ‘সিংহম’! তৃণমূল প্রার্থীর বাড়ির সামনে হুঁশিয়ারি-ভিডিয়ো প্রকাশ্যে -
১৯:৩৫
তিন দিকে কামারহাটি ঘেরা বরাহনগরের একখণ্ড ‘দ্বীপ’! এ বারেও কেউ ভোট চাইতে এল না বেলঘরিয়ার পাড়ায় -
১৯:০৮
৩৬ দিনে ১০০টি কেন্দ্র ছুঁয়েছেন অভিষেক, তবে ‘সেনাপতি’র পা পড়ল না ববি-অরূপদের মতো অনেক নেতা-মন্ত্রীর বিধানসভায় -
১৮:৩১
মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিকর ভিডিয়ো! চোখে পড়তেই পুলিশকে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিল কমিশন