Advertisement

নবান্ন অভিযান

ভবানীপুরে মমতাকে জেতাতে ‘নকল আঙুল’ কিনেছে তৃণমূল! নমুনা দেখিয়ে দাবি করলেন প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু, কী জবাব শাসকদলের

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ভবানীপুর কেন্দ্রে বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি যে বুথ স্লিপ দিয়েছেন, সে রকম ৩,৮১০টি স্লিপ ফেরত এসেছে। সংশ্লিষ্ট ভোটারদের কাছে পৌঁছোনো যায়নি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:০০
শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেতাতে ‘নকল আঙুল’ কিনেছেন তৃণমূলের এক কাউন্সিলর। তা-ও এক-আধটা নয়, সাড়ে ৭০০! একটি কৃত্রিম আঙুলের ছবি দেখিয়ে এমনটাই দাবি করলেন ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (সেই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। যাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ, ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের সেই তৃণমূল কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস শুভেন্দুর দাবি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ রাজ্যের ১৪২টি আসনে। তার মধ্যে রয়েছে ভবানীপুরও। ভোটের আগের দিন একটি ছবি দেখিয়ে শুভেন্দু দাবি করেছেন, ভোটে কারচুপির জন্য ‘নকল আঙুল’ কিনেছে তৃণমূল। ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ‘নকল আঙুল’ পরে বুথে গিয়ে ভোট দেবেন তৃণমূলের কর্মীরা। কালি দেওয়ার পরে সেই ‘নকল আঙুল’ বুথ থেকে বেরিয়ে খুলে ফেলবেন তাঁরা। কারচুপির উদ্দেশ্যেই এই সব করা হবে বলে দাবি শুভেন্দুর। তাঁর কথায়, ‘‘সাড়ে ৭০০ নকল আঙুল কিনেছেন (৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর)। করতে দেব না। নিকৃষ্ট মানের ভোট চোর। ধরা পড়ে গিয়েছে। পারবে না করতে।’’

শুভেন্দুর আরও দাবি, ভবানীপুর কেন্দ্রে বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি যে বুথ স্লিপ দিয়েছেন, সে রকম ৩,৮১০টি স্লিপ ফেরত এসেছে। সংশ্লিষ্ট ভোটারদের কাছে পৌঁছোনো যায়নি। কারা সেই ভোটার, তার তালিকা বিজেপির বুথ এজেন্টদের দেওয়া হয়েছে বলে দাবি শুভেন্দুর। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘৩,৮১০টি বিএলও স্লিপ ফিরে এসেছে। তা-ও চিহ্নিত করেছি।’’ তার পরেই শুভেন্দু বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় এখন সময়ের অপেক্ষা। ৪ তারিখ শেষ পর্যায়ের গণনা পর্যন্ত তৃণমূলকে কী ভাবে ছোটাতে হয়, আমি জানি।’’

৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর দেবলীনা বলেন, “বিজেপি প্রার্থী যে অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন । গণতন্ত্রে এ ভাবে ভোট দেওয়ার জন্য কোনও দিন নকল আঙুল কেনা যায় না। তাই এমন ভিত্তিহীন অভিযোগের আমরা কাছে কোনও জবাব নেই।”

শুভেন্দু যদিও নিজের দাবিতে অনড়। তিনি বলেন, ‘‘হাই কোর্টে যেমন কানমলা খেয়েছেন, বুধবার সকাল থেকে ভবানীপুরের জনগণ আপনাদের কানমলা দেবে। যে ব্যবস্থা কমিশন নিয়েছে, যে ভাবে সক্রিয় হয়েছে পুলিশ পর্যবেক্ষক, পুলিশের একটা অংশ যে ভাবে নিরপেক্ষ হয়ে গিয়েছে, জেগে গিয়েছে জনতা। ভোট পাবেন না মমতা।’’ এর পরে তিনি আরও বলেন, ‘‘মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে। বুধবার সকাল ৬টা থেকে লাইন দেবেন ভোটারেরা। আগে ভোট দেবেন। পরে প্রাতরাশ করবেন।’’

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy