Advertisement
E-Paper

শিক্ষক তৈরির কলেজেই শিক্ষকের অভাব! ৮০ শতাংশ শূন্য পদে ধুঁকছে রাজ্যের ডিএলএড কলেজগুলি

রাজ্যের ৪২টি কলেজের মধ্যে ৩৬টি কলেজেই অধ্যক্ষ পদ শূন্য। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক কোনও ক্রম দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। যেখানে অধ্যক্ষ-সহ ৩৩৬ জন শিক্ষক থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে রয়েছে মাত্র ৭০ জন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ১৫:৪৪

— প্রতীকী চিত্র।

অনুমোদিত পদ ৩৩৬। কিন্তু শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৭০ জন। প্রাথমিকের শিক্ষক তৈরির কলেজেই শিক্ষক ঘাটতি!

স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, রাজ্যের ৪২টি সরকারি ও সরকার পোষিত শিক্ষকশিক্ষণ কলেজের অধিকাংশেই নেই অধ্যক্ষ। মোট শিক্ষক পদের ৮০ শতাংশ ফাঁকা।

স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরে এ বারে ডিএলএড কলেজগুলির এই চিত্র সামনে আসতেই প্রবল বিতর্ক শুরু হয়েছে। গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারা প্রকাশ্যে আসছে বলেই মত শিক্ষকদের একাংশের।

স্কুলশিক্ষা সূত্রের খবর, রাজ্যে মোট ৪২টি শিক্ষকশিক্ষণ কলেজে রয়েছে। সেখানে দীর্ঘদিন কোনও নিয়োগ নেই। উত্তরবঙ্গের কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, বীরভূম, কাটোয়া, কৃষ্ণনগর, বর্ধমান, দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রায় ৪২ টি কলেজের মধ্যে ৩৬টি কলেজেই অধ্যক্ষ পদ শূন্য। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দিয়েই কোনও ভাবে কাজ চলছে। এ ছাড়া, যেখানে অধ্যক্ষ-সহ ৩৩৬ জন শিক্ষক থাকার কথা সেখানে বর্তমানে রয়েছে মাত্র ৭০ জন। অর্থাৎ ঘাটতি প্রায় ৮০ শতাংশ।

সূত্রের খবর, সরকারের অনুমোদন ছাড়া এই পদের নিয়োগ সম্ভব নয়। কিন্তু আপাতত এই কলেজগুলিতে নিয়োগের নির্দেশ নেই। দফতরের এক কর্তা জানান, ৪২টি কলেজের মধ্যে ২০টি কলেজে পুরোপুরি সরকারি। সে ক্ষেত্রে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ হয়। বাকি কলেজগুলিতে প্রতিটি কলেজের পরিচালন সমিতি নিয়োগ করে। কিন্তু তার জন্য সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।

তিনি জানান, পরিচালন সমিতিতে থাকেন স্থানীয় বিধায়ক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান, প্রাথমিক স্তরের জেলা স্কুল পরিদর্শক, সরকার মনোনীত প্রতিনিধি, তিনজন শিক্ষানুরাগী, ওই কলেজের একজন শিক্ষক প্রতিনিধি, একজন শিক্ষাকর্মীর প্রতিনিধি। তাঁরা প্যানেল তৈরি করে স্কুল শিক্ষা দফতরে অনুমোদনের জন্য পাঠায়। অনুমোদন পেলে নিয়োগ হয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়া থমকে রয়েছে।

তা হলে কী ভাবে চলছে কলেজগুলি ?

স্কুল শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, ২০২২ থেকে এই কলেজগুলির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শিক্ষা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ পর্ষদ বা এসসিইআরটি-কে। সেই সময় থেকেই অতিথি শিক্ষকদের দিয়ে কোনও ক্রমে পঠনপাঠন চালানো হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অর্থও আসে পড়ুয়াদের থেকে। শিক্ষকেরা ক্লাস পিছু ৪০০ টাকা পান।

অভিযোগ, এর ফলে পঠনপাঠনে গাফিলতি থেকে যাচ্ছে। সে কথা মানছেন শিক্ষকেরাও। এমনকি এক সময় দফতরের কাছে আবেদন করা হয়েছিল, যাতে অতিথি অধ্যাপকদের মাসিক ভিত্তিতে বেতন দেওয়া যায়। শিক্ষকদের একাংশ মনে করেছিলেন এতে গোটা দিন কলেজে থাকতে চাইবেন তাঁরা। একাধিক ক্লাসও করানো যাবে। কিন্তু দফতর থেকে কোনও সদুত্তর আসেনি বলেই খবর।

তাই শিক্ষক তৈরি করার কলেজই চলছে শিক্ষক শূন্য অবস্থায়।

DLED Teachers
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy