কর্মরত শিক্ষকদের টেট বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবারের নতুন নির্দেশে শীর্ষ আদালত টেট যোগ্যতা অর্জনের সমসয়সীমা এক বছর বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু পুরনো রায়ই বাহল রেখেছে। চাকরি হারানোর আশঙ্কায় দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষক।
এই পরিস্থিতি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ চেয়ে তাঁর কাছে আবেদন জানালেন শিক্ষকদের একাংশ। যে হেতু সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছেন ফলে বর্তমানে সরকারের তরফে অর্ডিন্যান্স জারি করা ছাড়া আর কোনও উপায় দেখছেন না তাঁরা।
সূত্রের খবর, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরে কর্মরত সকল শিক্ষককে ‘টিচার্স এলিজিবিলিট টেস্ট’ (টেট) উত্তীর্ণ হতে হবে। যাঁদের এই যোগ্যতা নেই, তাঁদের ২০২৭ সালের ৩১ অগস্টের মধ্যে এই যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে যাঁদের চাকরির সময়সীমা শেষ হচ্ছে, তাঁদের এই নির্দেশের আওতার বাইরে রাখা হয়। অর্থাৎ, ২০২৫ থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত যাঁদের চাকরি রয়েছে, প্রবীণ সেই শিক্ষকদের আর টেট-এ বসতে হবে না। তার পরই এই রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানো হয় বিভিন্ন রাজ্য থেকে।
‘নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি’-র তরফে সম্প্রতি একটি পুনর্বিবেচনার মামলা হয়েছিল। শুক্রবার সেই মামলার শুনানি ছিল দেশের শীর্ষ আদালতে। সর্বোচ্চ আদালতও সেই নির্দেশ বহাল রাখল। তবে আগে কর্মরত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে টেট পাশের নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৭ সালে ৩১ অগস্ট। শুক্রবার তা বৃদ্ধি করল শীর্ষ আদালত। এখন টেট পাশের সময় এক বছর বাড়ানো হল। আদালতের নতুন নির্দেশ, ২০২৮ সালের ৩১ অগস্টের মধ্যে কর্মরত সকল শিক্ষককে টেট পাশ করতে হবে। পুরনো রায়ে উল্লেখ ছিল ২০২৭ সালের ৩১ অগস্টের মধ্যে কর্মরত শিক্ষকেরা টেট প্রশিক্ষিত না হলে তাঁদের স্বেচ্ছাবসর নিতে হবে।
এই অবস্থা থেকেই পরিত্রাণের আশায় প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হল বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি। তাঁরা ই-মেল করে স্পষ্ট জা্নিয়েছেন যে অর্ডিন্যান্স ছাড়া আর উপায় নেই। সংসদে যত দ্রুত সম্ভব এই পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।
শিক্ষা মহল সূত্রের খবর, প্রথমত, ২০০৯ সালে শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী ১ এপ্রিল ২০১০-এ আইন বলবৎ হয়। পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালের জুলাই মাসে শিক্ষকদের যোগ্যতা সংক্রান্ত আইন চালু হয়। সেখানে টেট বাধ্যতামূলক করা হয়। তাই আদালতের কাছে তাঁদের আর্জি ছিল, এই আইন বলবৎ হওয়ার আগে যে সকল শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন, তাঁদের এই নির্দেশের আওতার বাইরে রাখা হোক। কারণ, ২০১১-র আগে কাজে যোগ দেওয়া শিক্ষকদের টেট বাধ্যতামূলক ছিল না। পাশাপাশি, সারা দেশে কয়েক লক্ষ শিক্ষক রয়েছেন যাঁরা টেট উত্তীর্ণ নন। শিক্ষার অধিকার আইন, আরটিই ২০০৯ এবং এনসিটিই ২০১০-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার জন্য টেট পাশ করা ন্যূনতম এবং বাধ্যতামূলক যোগ্যতা।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, টেট আবশ্যিক যোগ্যতা। কিন্তু সমস্যা হয়েছে ২০১১ পর্যন্ত শিক্ষকতায় নিযুক্তদের নিয়ে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘যে সময় টেট বলে কিছুই ছিল না সেই সময়ের শিক্ষকদের চাকরিরত অবস্থায় ফের পরীক্ষা দিয়ে প্রমাণ করতে হলে সেটা কার্যত অসম্ভব। এই অবস্থা থেকে সরকারই আমাদের বাঁচাতে পারে। তাই প্রধানমন্ত্রীকে আবেদন জানিয়েছি।’’