এ বার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও হবে ৫০০ বছরের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতির বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন ও গবেষণা। শনিবার উদ্বোধন হল সেন্টার ফর ইভ্যালুয়েশন অফ ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন (ট্রেডমেড-কোয়ে)। পূর্ব ভারতে এ ধরনের গবেষণাকেন্দ্র প্রথম তৈরি হচ্ছে যাদবপুরেই। শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথাই জানালেন কর্তৃপক্ষ।
জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পে কেন্দ্রের তরফে ৯.৬৬ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য, সেন্ট্রাল কাউন্সিল ফর রিসার্চ ইন আয়ুর্বেদিক সায়েন্স (সিসিআরএএস)-এর জেনারেল ডিরেক্টর বৈদ্য রবিনারায়ণ আচার্য, আয়ুষ মন্ত্রকের উপদেষ্টা কৌস্তুভ উপাধ্যায়, অধ্যাপক পুলক কুমার মুখোপাধ্যায়-সহ অন্য গবেষক ও আধিকারিকেরা।
আরও পড়ুন:
আয়ুষ মন্ত্রকের অধীন সিসিআরএএস এই গবেষণা প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল আয়ুর্বেদিক ভেষজ ও বিভিন্ন ফর্মুলেশনের নিরাপত্তা, বিষক্রিয়া এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বৈজ্ঞানিক ভাবে পরীক্ষা করা। কোনও ওষুধ মানব শরীরের জন্য কতটা নিরাপদ, তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে যাচাই করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই গবেষণা প্রকল্পের প্রেক্ষিতেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে তোলা হয়েছে ট্রেডমেড-কোয়ে। এটি একটি আন্তঃবিভাগীয় গবেষণা কেন্দ্র। এখানে ভেষজ ওষুধের গুণমান যাচাই, মান নির্ধারণ, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং গবেষণালব্ধ তথ্য সংরক্ষণের কাজ হবে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কেন্দ্র ভারতীয় জ্ঞানতন্ত্র বা ইন্ডিয়ান নলেজ সিস্টেম (আইকেএস)-কে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফলে ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা গবেষণার ক্ষেত্রে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছল। দেশ ও বিদেশে আয়ুর্বেদিক ওষুধের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক তথ্যের চাহিদাও বেড়েছে।
এই কেন্দ্র ও গবেষণা প্রকল্পের নেতৃত্বে রয়েছেন অধ্যাপক পুলক কুমার মুখোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, পল্লব কান্তি হালদার, নীলাঞ্জন ঘোষ, শোভনলাল গায়েন-সহ একাধিক গবেষক। পাশাপাশি সিসিআরএএস, নয়াদিল্লির বিজ্ঞানীরাও এই প্রকল্পে যুক্ত রয়েছেন।
এখানে ৯ জন গবেষক, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের একটি বিশেষ রিসার্চ টিম ও আয়ুষের প্রতিনিধিরাও থাকবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, “কেন্দ্রের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই গবেষণা কেন্দ্র খোলা হচ্ছে। প্রথমে এটি টেকিপ বিল্ডিং-এর দ্বিতীয় তলায় হচ্ছে। পরবর্তীকালে এটি উল্টো দিকের এলআইএম ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কেন্দ্র ভবিষ্যতে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শমূলক কাজেও যুক্ত হবে। ছাত্রছাত্রী, গবেষক এবং শিল্প সংস্থাগুলির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, গ্রহণযোগ্য ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করতেই এই উদ্যোগ।