অনুত্তীর্ণ পড়ুয়াদের কী ভবিষ্যৎ? বহু আলোচনার পরও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারল না কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।
কলেজশিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, স্নাতকে ‘মাইনর’ বিষয়ে অকৃতকার্যের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এমনও দেখা গিয়েছে কোনও পড়ুয়া চতুর্থ সেমেস্টারে মেজর বিষয়ে ৭০ শতাংশের উপরে নম্বর পেলেও মাইনের উত্তীর্ণ হতে পারেননি। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী ষষ্ঠ সেমেস্টারে কোনও পড়ুয়ার মেজর বিষয়ে ৭৫ শতাংশ নম্বর থাকলে তিনি চতুর্থ বর্ষে ‘অনার্স উইথ রিসার্চ’ করার যোগ্যতা অর্জন করবেন। কিন্তু ওই পড়ুয়া যদি কোনও মাইনর বিষয়ে পাশ না করে থাকেন, তা হলে তিনি ওই কোর্সে যোগ দিতে পারবেন না। তাঁর বছর নষ্ট হবে।
এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের উপায় খুঁজতেই সোমবার বৈঠকে বসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর, একের পর এক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কলেজগুলির সঙ্গে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রফাসূত্র পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, মাইনর বিষয়ে অকৃতকার্য পড়ুয়াদের জন্য ফের পরীক্ষা দিতেই হবে। তবে পাঠ্যক্রমের কিছু রদবদল করা হয় পারে বলে জানা গিয়েছে।
কিন্তু সমস্যা কোথায়?
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এক কলেজশিক্ষক জানান, গত বছর পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং গণিতে অর্ধেক পড়ুয়াও মাইনর বিষয়ে পাশ করতে পারেননি। যে হেতু সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই তাই বছর নষ্ট না করে এগিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। ফের ষষ্ঠ সেমিস্টারের সময়ে মাইনর বিষয়গুলিতে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করতে হবে। ফলে মেজর বিষয়ে ৭৫ শতাংশ নম্বর পেলেও হাত ছাড়া হবে অনার্স উইথ রিসার্চ-এর সুযোগ।
হিসাব বলছে, এ রকম পড়ুয়ার সংখ্যাও ৫০-এর বেশি। শিক্ষকদের একাংশের মত, পড়ুয়াদের মধ্যে সচেতনতার অভাবই এর কারণ। আগে, স্নাতক স্তরে ‘পাস’ কোর্সের বিষয়গুলির নম্বর তত গুরুত্ব পেত না। ফলে পড়ুয়ারা অনার্স-এর মতো মন দিয়ে সেই বিষয়গুলি পড়তেন না। তাতে তাঁদের আখেরে খুব ক্ষতি হয়নি। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী ‘মাইনর’ বিষয়গুলির নম্বর গুরুত্বপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে ওই বিষয়গুলিতে অবহেলা করলে ক্ষতি হতে পারে।
যদিও শিক্ষকদের অনেকে দাবি করছেন, মাইনর বিষয়ের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে মেজরের খুব পার্থক্য থাকছে না। তার ফলে পড়ুয়াদের মধ্যে চাপ বাড়ছে। তাঁরা নিজের বেছে নেওয়া মেজর বিষয়গুলির উপর জোর দিতে চাইছেন। অথচ, মাইনর বিষয়েও গুরুত্ব না দিলে চলছে না। শিক্ষকদের একাংশের মত, প্রথম ও দ্বিতীয় সেমিস্টারের পাঠ্যক্রম যতটা সাধারণ তার পরের সেমিস্টারের পাঠ্যক্রম ততটাই জটিল।
এ ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রম বদলের কথা ভাবছেন কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর, আপাতত স্থির হয়েছে সব সেমিস্টারের মধ্যে সমতা বজায় রেখে পাঠ্যক্রম তৈরি করা হবে।
কিন্তু চলতি বছরের জন্য অনার্স উইথ রিসার্চ নিয়ে চিন্তায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সে জন্যই মাইনর বিষয়গুলির জন্যে প্রশ্নপত্রের সংকলন তৈরির কথা ভাবছেন কর্তৃপক্ষ। যু্ক্তি হিসেবে এক কর্তা দাবি করেন, “মেজর এবং মাইনরে বিষয় এক হলেও প্রশ্নের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। হয়তো পড়ুয়াদের তা আয়ত্ত করতে সমস্যা হতে পারে। একটি প্রশ্নের সংকলন থাকলে শিক্ষক ও পড়ুয়ার সকলেরই বাড়তি সুবিধা হবে।” তবে এই বিষয়েও সকলে একমত হতে পারেননি।