Advertisement
E-Paper

বিএলও মৃত্যুর পর দ্বিতীয় দফার ভোটে আশঙ্কা! তীব্র গরমে কর্মিস্বাস্থ্যে নজর দিক কমিশন, আর্জি

মূলত বিলএলও–রা বুথের বাইরে ভ্যাব (ভোটার অ্যাসিসট্যান্ট বুথ)-এর দায়িত্বে রয়েছেন। গরমে তাঁদের অসুবিধা সব থেকে বেশি। সেখানে যদি পর্যাপ্ত পানীয় জল, পাখা, বসার জায়গা, ছাউনি না দেওয়া থাকে তা হলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করা সম্ভব নয়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৩০

— প্রতীকী চিত্র।

ভোটগ্রহণের দিন বুথের বাইরে কাজ করতে হবে বিএলও-দের। প্রথম দফা নির্বাচনের পর এক বিএলও-র মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, তীব্র গরমে সারাদিন বুথের বাইরে বসে অসুস্থ হয়ে প়ড়েছিলেন ওই ভোটকর্মী। তার পরই শেষ দফা বিএলও-দের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখার দাবি তুলল বিলএলও এবং ভোটকর্মী ঐক্যমঞ্চ।

ইতিমধ্যেই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে এই দাবি জানানো হয়েছে বলে জানান সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল। তাঁর দাবি, মূলত বিলএলও–রা বুথের বাইরে ভ্যাব (ভোটার অ্যাসিসট্যান্ট বুথ)-এর দায়িত্বে রয়েছেন। গরমে তাঁদের অসুবিধা সব থেকে বেশি। সেখানে যদি পর্যাপ্ত পানীয় জল, পাখা, বসার জায়গা, ছাউনি না দেওয়া থাকে তা হলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করা সম্ভব নয়। অভিযোগ অনেককেই সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।

প্রথম দফার ভোটের কাজ সামলে বাড়ি ফেরার পর মৃত্যু হয় শম্পা পরামানিক নামে এক বিএলও-র। বাঁকুড়ার মৌলাডাঙা গ্রামের আইসিডিএস কর্মী শম্পা পরামানিক গত বৃহস্পতিবার বাঁকুড়া টাউন বয়েজ় হাই স্কুলের ৮৭ নম্বর বুথে কাজ করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের দাবি, পানীয় জলের সরবরাহ ছিল না। ভোটের কাজ মিটিয়ে বাড়ি ফেরার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। শনিবার সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে বাঁকুড়া শহরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এর পরই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অমানবিকতার অভিযোগ করেছে পরিবার। এ প্রসঙ্গে স্বপন বলেন, ‘‘ভোটারদের সাহায্য করতে ভোটকর্মীর মৃত্যু, মেনে নেওয়া যায় না। শেষ দফার নির্বাচনে বিএলও-দের জন্য যাতে যথাযথ ব্যবস্থা থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

এরই পাশাপাশি প্রথম দফা নির্বাচনে অভিযোগ উঠেছিল, ভোটগ্রহণ পর্ব মেটার পরও ভোটকর্মীরা বুথ ছাড়তে পারছিলেন না। কমিশন জানিয়েছিল, প্রযুক্তিকর্মীরা নজরদারি ক্যামেরা খুলে না নেওয়া পর্যন্ত ভোটকর্মীরা বুথ ছাড়তে পারবেন না। এর ফলে, বহু ভোটকর্মীই রাতে বাড়ি ফিরতে পারেননি।

এ বিষয়ে অভিযোগ জমা পড়তেই পদক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশন। শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চ (ভোটকর্মী শাখা)-র সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী জানিয়েছেন, ক্যামেরা খোলার পর তা সেটিকে সংগ্রহ করার কাজ করতে হবে সেক্টর অফিসারের উপস্থিতিতে। এ জন্য ভোটকর্মীদের বসে থাকার প্রয়োজন নেই।

কিংকর বলেন, ‘‘প্রথম দফার ভোটের পর এই বিষয়টি নিয়ে আমরা সিইও দপ্তরে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরি যাতে দ্বিতীয় দফায় কোনও ভাবেই ভোটকর্মীদের এইভাবে হয়রান করা না হয়। সেই দাবিকে মান্যতা দিয়ে ক্যামেরা খোলার দায়িত্ব অন্যদের দেওয়া হল। এতে ভোট কর্মীদের ভোট গ্রহণের পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। দাবিকে মান্যতা দেওয়ায় নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’’

স্বপনও জানান, তাঁদের পক্ষ থেকেও কমিশনে আবেদন জানানো হয়েছিল যেন অযথা ক্যামেরার ইস্যুকে কেন্দ্র করে তাঁদের বসিয়ে রাখা না হয়। সেটা কার্যকর হওয়ায় খুশি তিনিও।

যদিও এই বিষয়ে কথা বলার জন্য কমিশনের এক কর্তাকে বার বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি।

Assembly Elections wb
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy