Advertisement
E-Paper

ছুটির পর ছুটি, ক্লাস হবে কবে! স্কুলে একাদশে পঠনপাঠনের সময় কমছে, প্রশ্নে উঠছে সেমেস্টার পদ্ধতি নিয়েও

জুনের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ক্লাস হয়। তার পর শুরু হয় প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষা। অক্টোবরে পুজোর ছুটি থাকে। নভেম্বরে স্কুল খোলার পর দিন কয়েক ক্লাস হতে না হতেই শুরু হয়ে যায় মাধ্যমিকের টেস্ট-সহ বিভিন্ন ক্লাসের পরীক্ষা। ফলে রাজ্যের অধিকাংশ স্কুলেই একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস বন্ধ থাকে এ সময়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ১৩:৪১

— প্রতীকী চিত্র।

একাদশ শ্রেণির পঠনপাঠনের মানোন্নয়ন এবং গুরুত্ব বৃদ্ধির জন্য ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। কিন্তু তা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে শিক্ষকদের একাংশের মধ্যেই। তাঁদের অভিযোগ, একের পর এক ছুটিতে স্কুলে ক্লাসের সংখ্যা কমছে। তার উপর সেমেস্টার পদ্ধতি চালু হওয়ায় বছরে ২০০ দিনের বদলে ক্লাস হচ্ছে মাত্র ৯০ দিন। পড়াশোনার উন্নতি হবে কী ভাবে?

প্রধানশিক্ষকদের সংগঠন অ্যাডভান্স়ড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্টের্স –এর সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতি বলেন, “একাদশ শ্রেণির পঠনপাঠনের গুরুত্ব বৃদ্ধি এবং মানোন্নয়নের জন্য নিয়মিত ক্লাস হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু তা হচ্ছে কোথায়? সেমেস্টার পদ্ধতি চালু হওয়ায় আরও বিপত্তি হয়েছে।”

একাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা ঠিক কত দিন সময় পায়?

শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, নিয়ম মাফিক ২ মে থেকে পাঠ্যবর্ষ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু প্রতি বছর গরমের ছুটি থাকায় সেই ক্লাস শুরু হতেই জুন মাস প্রায় শেষ হয়ে যায়। ফলে বছরের শুরুতেই মাস দেড়েক ক্লাসের সময় নষ্ট হয়।

জুনের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ক্লাস হয়। তার পর শুরু হয় প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষা। অক্টোবরে পুজোর ছুটি থাকে। নভেম্বরে স্কুল খোলার পর দিন কয়েক ক্লাস হতে না হতেই শুরু হয়ে যায় মাধ্যমিকের টেস্ট-সহ বিভিন্ন ক্লাসের পরীক্ষা। ফলে রাজ্যের অধিকাংশ স্কুলেই একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস বন্ধ থাকে এ সময়। শিক্ষকদের অভিযোগ, নভেম্বর এবং ডিসেম্বরের বেশির ভাগ দিনই ক্লাস করানো যায় না।

নতুন বছরে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকেই নানা ধরনের পালনীয় দিন উদ্‌যাপন করতে হয়। বিবেকানন্দের জন্মদিন, নেতাজি জয়ন্তী, সাধারণতন্ত্র দিবসের পাশপাশি থাকে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সরস্বতী পুজোর মতো বিষয়। ফলে নিয়মিত ক্লাসে ব্যাঘাত ঘটে। ফেব্রুয়ারি পড়তে না পড়তেই শুরু হয় মাধ্যমিক। অধিকাংশ স্কুলেই বন্ধ হয় একাদশের পঠনপাঠন। তার পর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, কখনও উচ্চ মাধ্যমিকের সঙ্গে একাদশ শ্রেণির পরীক্ষা হয়, কখনও উচ্চ মাধ্যমিকের এক সপ্তাহ পরেই একাদশের দ্বিতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষার শুরু হয়। অর্থাৎ হিসাব বলছে জুনের শেষ সপ্তাহ, জুলাই , অগস্টে আর জানুয়ারি মাসের শেষের কিছু দিন ক্লাস করানোর সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। শিক্ষকদের অভিযোগ, এই সময় পড়াশোনার জন্য যথেষ্ট নয়। জেলার এক স্কুলের প্রধানশিক্ষক বলেন, ‘‘পড়াশোনার চাপ কমানের জন্য সেমেস্টার পদ্ধতি প্রণয়ন করা হল। অথচ, দেখা যাচ্ছে, কার্যত পড়োশোনাটাই উঠতে বসেছে।’

কিন্তু কী ভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে?

সংসদের সূত্রের খবর, পরিস্থিতি সামাল দিতেই অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ক্লাসের সংখ্যা কী ভাবে বৃদ্ধি করা যায় তার সুনির্দিষ্ট কিছু রূপরেখা তৈরি করার পথে রয়েছে সংসদ। তবে, নির্বাচনী আদর্শ আচরণ বিধি থাকায় এখনই কোনও পদক্ষেপ করতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ। এমনকি এ বিষয়ে মুখ খোলাও নিষেধ। তবে এক কর্তা বলেন, “এ বিষয়ে সংসদ চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। কারও যেন কোনও রকম অসুবিধা না হয় সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।”

WBCHSE 2026 class
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy