Advertisement
E-Paper

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৈষম্য দূর করতে পদক্ষেপ করতে হবে কর্তৃপক্ষকে, নয়া বিধি ইউজিসি-র

ইউজিসি-র তরফে ‘প্রোমোশন অফ ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশন’ রেগুলেশনের অধীনে একাধিক বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫৯
UGC

ইউজিসি। ছবি: সংগৃহীত।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ ওঠে বার বার। হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল রোহিত ভেমুলা। অভিযোগ, তিনিও ছিলে এমনই বৈষম্যের শিকার। সে ঘটনার ১০ বছর পরও পরিস্থিতি বদলেছে কি না, নিশ্চিত নয় প্রশাসন। সম্প্রতি নতুন করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অসাম্য দূর করতে একাধিক নিয়ম চালুর কথা ঘোষণা করেছে ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন।

ইউজিসি-র তরফে ‘প্রোমোশন অফ ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশন’ রেগুলেশনের অধীনে একাধিক বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। শুধু জাতি পরিচয় নয়, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা অন্য যে কোনও রকম পরিচয়ভিত্তিক অসাম্য দূর করতেই উদ্যোগী হতে বলা হয়েছে দেশের বিভিন্ন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে।

নয়া বিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ইকুয়াল অপারচুনিটি সেন্টার’ গঠন করতে হবে। সেই কেন্দ্রের চেয়ারম্যান হবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বা কলেজের অধ্যক্ষ। থাকবে একটি ‘ইকুইটি কমিটি’। সেখানে থাকবেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও ছাত্র প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া থাকবেন নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধিও। তবে তাঁদের প্রত্যেককেই তফশিলি জাতি, উপজাতি, অনগ্রসর শ্রেণি, বিশেষ ভাবে সক্ষম এবং মহিলা হতে হবে।

জানানো হয়েছে, সদস্যেরা ওই কমিটিতে দু’বছর পর্যন্ত বহাল থাকবেন। কোনও পড়ুয়া বা কর্মী যদি ওই কমিটির কাছে কোনও বিষয়ে অভিযোগ জানান, তা হলে তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খতিয়ে দেখতে হবে। পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি করে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে হবে।

রিপোর্টে সন্তুষ্ট না হলে ৩০ দিনের মধ্যে ‘ওমবাডসম্যান’-এ আবেদন জানানো যাবে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা না হলে দায়ী থাকবেন প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য বা অধ্যক্ষ।

এ ছাড়া, নতুন বিধিতে ২৪ ঘণ্টার ‘ইকুইটি হেল্পলাইন নম্বর’ চালুর কথা বলা হয়েছে। যাতে ফোন করেও অভিযোগ জানাতে পারেন নির্যাতিত। সে ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে।

বিধিতে উল্লিখিত সমস্ত নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা ইউজিসি খতিয়ে দেখবে। প্রতিষ্ঠানের কাজে কোনও গাফিলতি খুঁজে পেলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি ইউজিসি-র বৈধ প্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকেও বাদ দেওয়া হতে পারে।

নয়া বিধি সম্পর্কে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্র বলেছেন, “বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে ইউজিসি-র এই বিধিকে স্বাগত জানাই। এর আগেও ইউজিসি এ রকম নানা বিধি প্রণয়ন করেছে। তবে সে সব বিধি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা দেখতে হবে।” ওমপ্রকাশ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য। সে প্রসঙ্গে তিনি জানান, সেখানেও এই বিধি যত দ্রুত জারি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

একই সুরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শুভজিৎ নস্কর বলেন, “দক্ষিণপন্থী রাজনীতির উত্থানের সঙ্গে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে নানা বৈষম্য বেড়েছে। জাতি বৈষম্যও এখনও চরম পর্যায়ে। এই বিধি কার্যকর হলে দলিতদের কেউই জাতিবাদের শিকার হয়ে প্রাণ হারাবেন না।”

University Grants Commission UGC Regulations UGC Guidelines UGC Guidelines 2026
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy