ঘোষণা হয়েছে মহার্ঘ ভাতা। কিন্তু তাতেই সন্তুষ্ট নন শিক্ষকেরা। রয়েছে সংশয়ও। বকেয়া ২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার ঘোষণাকে আংশিক সাফল্য হিসেবেই দেখছে নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতি (এবিটিএ)। এমনকি অর্থ দফতরের নির্দেশিকা না আসা পর্যন্ত তাঁরা স্বস্তিও পাচ্ছেন না।
সংগঠনের সম্পাদক সুজিত দাস জানান, প্রথমত তাঁদের আন্দোলন শুধু মহার্ঘ ভাতার জন্য ছিল না। শিক্ষার সার্বিক উন্নতির জন্য যে দাবি এবং ধর্মঘট করা হয়েছিল সেগুলি এখনও পূরণ হয়নি বলে জানান সুজিত। দ্বিতীয়ত, মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু অর্থ দফতর থেকে কোনও নির্দেশিকা আসেনি। পরের ধাপে প্রতিটি বিভাগের পৃথক ম্যাচিং অর্ডার প্রকাশ করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। গত ১৩ মার্চের ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে এই ঘোষণাকে তাই তিনি আংশিক সাফল্য হিসেবেই দেখছেন।
কারণ পার্শ্বশিক্ষক, চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক, এমএসকে-সহ সকলের সম কাজে সম বেতনের দাবিও জানানো হয়েছিল ওই ধর্মঘটে। সেগুলি এখনও পূরণ হয়নি। তাঁদের দাবি, সব শূন্যপদে স্বচ্ছতার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
গত ১৩ মার্চ ধর্মঘটের আগের দু’দিন মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ থেকে রীতিমত বিজ্ঞপ্তি জারি করে পরোক্ষে ধর্মঘটে সামিল হয় থেকে শিক্ষকদের বিরত করার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ। পর্যদ জানিয়েছিল মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা দেখার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকেরা কোনও ভাবেই ১৩ মার্চ ‘লিভ অফ অ্যাবসেন্স অন ডিউটি’ নিতে পারবেন না। অর্থাৎ পরোক্ষে পরীক্ষার খাতা দেখার অজুহাতে কোনও শিক্ষক যেন ধর্মঘটে সামিল হতে না পারেন সেই কারণেই এই বিজ্ঞপ্তি বলে জানিয়েছিলেন শিক্ষকদের একাংশ। পরের দিন একই ভাবে সংসদ জানিয়ে দেয়, যে সব শিক্ষকেরা উচ্চ মাধ্যমিকের খাতা দেখার সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা কোনও ভাবেই শুক্রবার ‘অন ডিউটি’ ছুটি নিতে পারবেন না। এই নির্দেশ মূলত দেওয়া হয়েছিল সব স্কুলের প্রধান পরীক্ষক, পরীক্ষক এবং স্ক্রুটিনির সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকদের। তার পরেও ধর্মঘট সফল হয়েছিল বলে দাবি শিক্ষকদের। এ দিন ফের সুর চড়িয়ে শিক্ষকেরা জানিয়ে দিলেন তাঁদের সব দাবি মেটানো হয়নি।