স্বশাসিত কলেজগুলিতে কী ভাবে গবেষণা করানো যাবে, তার রূপরেখা নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করতে চলেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিটি কলেজের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তাঁরা মূলত গবেষণার একটি নির্দিষ্ট বিধি তৈরি করবেন।
সম্প্রতি স্বশাসিত কলেজগুলির ক্ষেত্রে কিছু নিয়মের পরিবর্তন করেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। গবেষণা ক্ষেত্রেও এ বার থেকে রেজিস্ট্রেশনের ভার নিতে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয়ই। স্বশাসিত কলেজের পড়ুয়াদের স্নাতক থেকে গবেষণা— সব ক্ষেত্রেই শংসাপত্র দেওয়া হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে। কিন্তু পড়ুয়া হিসেবে তাঁদের পরিচয় হয় কলেজের নামে!
এ বার এই নিয়মে পরিবর্তন করতে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপাশি বিধি তৈরির জন্য কমিটি গঠনও করা হবে বলে জানা গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্বশাসিত কলেজ রয়েছে পাঁচটি— বেলুড়ের রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন শিল্পমন্দির, নরেন্দ্রপুরের রামকৃষ্ণ মিশন আবাসিক কলেজ, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ এবং বেহালা কলেজ। এই সব কলেজের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই নিয়মের পরিবর্তন করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করছেন সর্বভারতীয় স্তরে নাক এবং এনআইআরএফ-এর তালিকায় তাঁদের স্থানচ্যূতি ঘটছে। গত শিক্ষাবর্ষে গবেষণা ক্ষেত্রে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় এক হাজার জনকে শংসাপত্র দিয়েছে। এঁদের মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি স্বশাসিত কলেজের গবেষক। ফলে তাঁদের গবেষণাপত্রে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই।
এই প্রবণতা রুখতেই রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। এর পরই মান অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য এবং নতুন পদ্ধতিতে কী ভাবে গবেষণা করানো হবে, সেই বিষয়ে বিধি তৈরি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ বলেন, ‘‘গবেষণার বিধি তৈরির জন্য যে কমিটি গঠন করা হবে তাঁদের সুপারিশগুলি খতিয়ে দেখা হবে। তার পর আলোচনা করে তা কার্যকর করা হবে।”