এপ্রিল ২০২৫ থেকে উদ্বেগে এ রাজ্যের স্কুল শিক্ষকেরা। ২০১৬ স্কুল সার্ভিস কমিশনের গোটা প্যানেলটি সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছিল প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির দায়ে। তার পর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। কিন্তু শিক্ষকদের অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পরও এসএসসি নিয়োগ নিয়ে তেমন ভাবে কোনও কথা বলেনি নব নির্বাচিত বিজেপি সরকার। এ বার চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকেরা সরকারের পদক্ষেপের আবেদন জানালেন বিকাশ ভবনে।
বৃহস্পতিবার ২০১৬ প্যানেলের যোগ্য শিক্ষকদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের সদস্যেরা। তাঁরা চান, সরকার যেন এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। আগামী ৮ জুলাই শান্তিপূর্ণ গণমিছিল করে বিকাশ ভবনে স্মারকলিপির মাধ্যমে সরকারের কাছে দাবি জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
সংগঠনের তরফে চিন্ময় মণ্ডল জানান, বিরোধী দলনেতা হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে ছিলেন, যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকদের সমস্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন। বর্তমানে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাই, পূর্ব প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাইছেন শিক্ষকেরা।
সংগঠনের তরফে জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ৩১ অগস্টের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। কিন্তু একাদশ-দ্বাদশ স্তরের এখনও ১২ টি বিষয়ের কাউন্সেলিং হয়নি। যে সব বিষয়ের শিক্ষককে সুপারিশপত্র দিয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন, ৯০ দিন পরও তাঁদের অনেককেই নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। নবম-দশম স্তরের ইন্টারভিউ বাকি। ফলে সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত ৩১ অগস্টের মধ্যে কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। তাই মেয়াদবৃদ্ধির জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির দায়ে চাকরি গিয়েছিল ১৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষকের। অথচ, তাঁদের বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ১০ বছর শিক্ষকতা করে ফের যোগ্যতার পরীক্ষায় বসতে হয়েছে তাঁদের। কেউ পাশ করেছেন, কেউ করতে পারেননি। ফলে যাঁরা পাশ করেননি তাঁদের খোয়াতে হচ্ছে চাকরি। ৩১ অগস্ট ২০২৬-এর পর তাঁরা কার্যত কর্মহীন। শিক্ষকদের দাবি, পরীক্ষায় যাঁরা পাশ করেননি তাঁরা কী করবেন কোথায় যাবেন কোনও দিশা নেই।
এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার চিন্ময় জানান, শান্তিপূর্ণ ভাবে ৮ জুলাই গণমিছিলের মাধ্যমে দাবি সরকারের কাছে জানানো হবে। নতুন সরকার তাঁদের পাশে থাকবে এটাই আশা তাঁদের।