জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের পর ক্রেডিট শব্দটির সঙ্গে কম বেশি সকলেই পরিচিত। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ‘চয়েস বেসড ক্রেডিট সিস্টেম’ (সিবিসিএস) বা পছন্দসই মিশ্র পাঠও চালু হয়েছে। ওই পদ্ধতিতে ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার পড়ুয়ারা ইলেক্টিভ হিসাবে কলা বা বাণিজ্য শাখার কোনও বিষয় বেছে নিতে পারেন। আবার কলা, বিজ্ঞান, বাণিজ্যের পড়ুয়ারাও একই ভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং-এর বিভিন্ন বিষয় ক্রেডিট বেসড কোর্সের মাধ্যমে শেখার সুযোগ পেয়ে থাকেন।
কিন্তু কী এই ক্রেডিট?
স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তরের মূল বিষয়ের (মেজ়র) সঙ্গে ইলেক্টিভ বা অপশনাল বিষয় হিসাবে অন্য কোন বিষয়ের কোর্স করলে বিশেষ পয়েন্ট পাওয়া যায়। এতে সার্বিক মূল্যায়নে ওই পয়েন্ট ভাল নম্বর পেতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় একই সঙ্গে শিখে নেওয়া এবং একাধিক বিভাগে দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগও মেলে ওই ক্রেডিট অর্জনের সঙ্গেই।
বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলিতে ওই কোর্সের একাধিক নাম রয়েছে— ওপেন ইলেক্টিভ, মাল্টিডিসিপ্লিনারি ইলেক্টিভস, স্কিল এনহ্যান্সমেন্ট কোর্স কিংবা ভ্যালু অ্যাডেড ক্রেডিট কোর্স।
ছবি: এআই।
কী ভাবে করবেন?
মেজর কোর্সের বাইরে এই ধরনের বিষয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে করানো হয়। কিছু কিছু বিষয় অনলাইনেও শেখার সুযোগ থাকে। সে ক্ষেত্রে অনলাইনেই ক্লাস করতে পারেন পড়ুয়ারা।
ভবিষ্যতে কী ভাবে উপকার করে?
১। স্নাতক স্তরের পড়ুয়ারা ওই ধরনের কোর্সের ক্লাস করতে পারলে অতিরিক্ত পয়েন্ট পাওয়ার সঙ্গে কাজের দক্ষতাও অর্জন করতে পারবেন। বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্পোরেট সংস্থার যৌথ উদ্যোগেও কিছু কোর্স করানো হয়ে থাকে। এতে কোর্স সম্পূর্ণ হওয়ার পর ওই সংস্থার অধীনে কাজ করার সুযোগও পাওয়া যায়।
২। স্নাতকোত্তর স্তরের পড়ুয়াদের জন্য এই ধরনের কোর্স ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি’ পদে চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও যাঁরা স্পেশ্যালাইজ়েশন করতে চান, তাঁরাও নতুন কিছু শিখে নিতে পারেন ক্রেডিট কোর্স থেকে।
৩। কাজের বাজারে কী ধরনের দক্ষতার চাহিদা বেশি, কোন ক্ষেত্রে কেমন সুযোগ রয়েছে— সেই সমস্ত কিছু নিয়ে চর্চার সুযোগ ক্রেডিট কোর্সে পাওয়া যায়। তাই বিস্তারিত আলোচনা, হাতেকলমে প্রশিক্ষণ এবং পরবর্তীতে ইন্টার্নশিপ বা শিক্ষানবিশির সুযোগের পথও প্রশস্ত হয় এই ধরনের কোর্সের হাত ধরে।
৪। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকেরা আলাদা করে এই কোর্সের ক্লাস করিয়ে থাকেন। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাওয়া কিংবা তাঁদের সঙ্গে সরাসরি বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনার সুযোগ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে চাকরি বা গবেষণার জন্য কী ধরনের প্রস্তুতির প্রয়োজন, কী ভাবে এগোনো যেতে পারে— সেই ধারণাও স্পষ্ট হয়।