১৯৮৬-এর অপারেশন ব্ল্যাক থান্ডার থেকে ২০০৮-এর অপারেশন ব্ল্যাক টর্নেডো, অথবা, ২০১৬-এর অপারেশন গাজ়ি, অপারেশন পার্ল— দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে ‘ন্যাশনাল সিকিওরিটি গার্ড’ (এনএসজি) বা ‘ব্ল্যাক ক্যাটস’ বাহিনী চালিয়েছে দুঃসাহসিক অভিযান। মাথায় হেলমেট, মুখে মুখোশ, থেকে পায়ের বুট, হাতের গ্লাভস, পরনের পোশাকে যাদের কালো রঙের। বাহিনীর সদস্যেরা বিড়ালের মতো নিঃশব্দে চলাফেরা করতে পারেন। তাই সরকারি ভাবে না হলেও, আমজনতা এনএসজি সদস্যদের চেনেন ‘ব্ল্যাক ক্যাটস’ নামেই।
এই দলে নাম লেখাতে হলে প্রয়োজন সঠিক প্রশিক্ষণের। ‘ব্ল্যাক ক্যাটস’ দলে কী ভাবে নিযুক্ত হওয়া যায়, কী পড়াশোনা প্রয়োজন হয় সে সব আলোচনা করা হল এই প্রতিবেদনে।
যোগ্যতা:
ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর (স্থলবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী) কর্মী হতে হয়। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশবাহিনী (সিআরপিএফ, বিএসএফ, আইটিবিপি বা সিআইএসএফ)-তে কাজ করছেন এমন ব্যক্তিরাও আবেদন করতে পারেন। তবে সব ক্ষেত্রেই কর্মজীবনে ন্যূনতম তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অর্থাৎ এই পদে কখনও কোনও কর্মীকে সরাসরি নিয়োগ করা হয় না।
শিক্ষাগত ও শারীরিক যোগ্যতা যাচাই:
যে কোনও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক হওয়া বাধ্যতামূলক। প্রার্থীর বয়স ৩৫ বছরের মধ্যে হতেই হবে। এনএসজি-তে খুবই কঠোর প্রশিক্ষণ চলে, তাই শারীরিক এবং মানসিক ভাবেও সুস্থ থাকতে হয়। ন্যূনতম ১৬৫ সেন্টিমিটার উচ্চতা হলে তবেই আবেদন করা যায়। যদিও বিশেষ কোনও কোনও ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়। উচ্চতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ওজন হতে হবে। চশমা ছাড়া দূরদৃষ্টি হতে হবে ৬/৬। হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। ছ’মিনিটের মধ্যে অন্তত ১৬০০ মিটার দৌড়তে হবে। ভাল সাঁতারু-ও হতে হবে।
কী ভাবে নিয়োগ হয়:
পাঁচটি ধাপের মধ্যে দিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। প্রথমে চলে ডেপুটেশন প্রক্রিয়া। এর পর সম্মতিপত্র প্রদান। সেখান থেকে বাছাই হওয়া প্রার্থীদের পাঠানো হয় প্রশিক্ষণের জন্য। এরপর তাঁদের শারীরিক, মানসিক এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শেষ ধাপে চলে চূড়ান্ত পর্বের বাছাই প্রক্রিয়া। আগের দুই ধাপে সফল ভাবে উত্তীর্ণ হতে পারলেই এই ধাপে এনএসজি অফিসার পদে নিযুক্ত হওয়া যায়।