দশম শ্রেণির পর কলা, বিজ্ঞান বা বাণিজ্য বিভাগের নানা বিষয় নিয়ে পড়ার সুযোগ থাকে। সে রকমই একটি বিষয় শিক্ষা। একাদশ-দ্বাদশ স্তরে শিক্ষা বিষয়ের পাঠ্যক্রমে শিক্ষা বা এডুকেশন বিষয়ের মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক, ঐতিহাসিক এবং দর্শনের দিকগুলি অল্প পড়তে হয়। এর পর কী ভাবে উচ্চশিক্ষার দিকে এগোনো যায়, চাকরির ক্ষেত্রেই বা কোন কোন সুযোগ মিলতে পারে— রইল তার খুঁটিনাটি।
প্রথমেই একটি বিষয়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন, এডুকেশন স্নাতক পড়লে তাকে ব্যাচেলর অফ এডুকেশন বলা হয়। আবার একই ভাবে শিক্ষকতার পেশায় নিযুক্ত হওয়ার জন্য যে ব্যাচেলর অফ এডুকেশন (বিএড) ডিগ্রি পড়তে হয়, তার নামও একই। তবে এই দু’টি ডিগ্রি সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটিতে স্নাতক স্তরে সাধারণত শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রতিষ্ঠান, তত্ত্ব, বিষয়বস্তু, শিক্ষাগত চিন্তাভাবনা, জ্ঞান ও দক্ষতা, পাঠদানের পদ্ধতি, মূল্যায়ন ইত্যাদি প়ড়ানো হয়। মানুষের আচরণ ও মানসিক বিকাশ নিয়ে বৈজ্ঞানিক দিকগুলিও পড়ানো হয়। অন্যটি শিক্ষক হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
রাজ্যের বেশ কিছু কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এডুকেশন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ রয়েছে। যে কোনও বিভাগের পড়ুয়ারাই এই বিষয় নিয়ে পড়তে পারেন।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়-সহ আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানেই পড়া যায় স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তর। উচ্চ স্তরেও এই বিষয় নিয়ে পড়ার সুযোগ থাকে।
পেশাগত দিক—
ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি টেস্ট, স্টেট এলিজিবিলিটি টেস্ট উত্তীর্ণ হয়ে অধ্যাপক হিসাবে কাজ শুরু করা যেতে পারে। এ ছাড়াও ব্যাচেলর অফ এডুকেশন (বিএড) উত্তীর্ণ হয়েও শিক্ষকতার সুযোগ থাকে। এ ছাড়াও প্রশাসনিক স্তরেও চাকরির সুযোগ থাকে। ব্লক এডুকেশন অফিসার, ডিস্ট্রিক্ট এডুকেশন অফিসার পদে নিযুক্ত হয়ে চাকরির সুযোগ থাকে। এডুকেশন কাউন্সিলর হিসাবে এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাতেও চাকরির সুযোগ থাকে।