Advertisement
E-Paper

কলেজ শিক্ষকদের প্রিসাইডিং দায়িত্ব কেন? কমিশনের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় হাই কোর্ট, ফের শুনানি

২০১০-এ নির্বাচন কমিশন এক নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছিল, গ্রুপ-এ বা সমতুল্য পদমর্যাদার আধিকারিক, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিশেষ ও অনিবার্য পরিস্থিতি এবং জেলা নির্বাচন আধিকারিকের লিখিত নির্দেশ ছাড়া ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৩৪

— প্রতীকী চিত্র।

কলেজ শিক্ষকদের কি আদৌ ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া যায়? প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কলেজ শিক্ষকদের একাংশ। কিন্তু মামলার নিষ্পত্তি হল না বৃহস্পতিবারের শুনানিতে। এ দিকে এ দিনই শিক্ষকদের নির্বাচনী দায়িত্ব সংক্রান্ত চিঠি এসেছে কলকাতার বিভিন্ন কলেজে। মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, নির্বাচন কমিশনের জবাবে সন্তুষ্ট না হওয়ায় বিচারপতি কৃষ্ণা রাও শুক্রবার ফের শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

হিসাব বলছে, ২৯ এপ্রিলের ভোটের জন্য আগামী শনি, রবি ও সোমবার প্রশিক্ষণের দিন ধার্য হয়েছে। এই মর্মে চিঠি হাতে পেয়েছেন কলেজ শিক্ষকদের অনেকেই। প্রথম পর্যায়ে ২৩ এপ্রিলের ভোটের প্রশিক্ষণ আগেই হয়েছে। ফলে আদালতের রায় তাঁদের পক্ষে গেলেও কি আদৌ নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবেন, প্রশ্ন তুলছেন কলেজ শিক্ষকেরা। কলকাতার এক কলেজ শিক্ষক বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী প্রিসাডিং-এর দায়িত্ব আমাদের পাওয়ার কথা নয়। আদালতে মামলা চলছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই দু’দফায় প্রশিক্ষণ নিতে যেতে হয়েছে। সোমবার ফের প্রশিক্ষণের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আদালতের রায় আমাদের পক্ষে গেলে কি আদৌ নির্বাচনী দায়িত্ব বদল হবে?”

কলকাতা-সহ রাজ্যের সব জেলার সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপকদের অনেককেই প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রিসাইডিং অফিসারকে কাজ করতে হয় ব্লক ডেভলেপমেন্ট আধিকারিকের (বিডিও) অধীনে। কোনও কলেজ শিক্ষক প্রিসাইডিং হলে তাঁর পদমর্যাদা আদতে বিডিও-র থেকে বেশি হয়।

Advertisement

২০১০-এ নির্বাচন কমিশন এক নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছিল, গ্রুপ-এ বা সমতুল্য পদমর্যাদার আধিকারিক, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিশেষ ও অনিবার্য পরিস্থিতি এবং জেলা নির্বাচন আধিকারিকের লিখিত নির্দেশ ছাড়া ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।

ফলে নির্বাচন কমিশন নিজেই সে বিধি ভেঙেছে বলে সরব হয়েছিল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ওয়েবকুটা। ইতিমধ্যে তারা নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছ। পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টে।

সূত্রের খবর, গত সোমবারও বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে কলেজ শিক্ষকদের প্রিসাইডিং অফিসার পদে ডিউটি দেওয়ার জন্য প্রশ্নের মুখে পড়েছিল কমিশন। কোন বিশেষ পরিস্থিতিতে, কেন তাঁদের পোলিং স্টেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়েছিল আদালত। কিন্তু এ দিনে কমিশনের ব্যাখ্যা সম্তোষজনক নয় বলে শুক্রবার ফেরে মামলা শুনবেন বলে জানিয়েছেন বিচারপতি।

ওয়েবকুটার সাধারণ সম্পাদক নিলয়কুমার সাহা বলেন, ‘‘নির্বাচনের কাজে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়োগ করলে তাঁদের পদমর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই করতে হবে। পাশাপাশি উপযুক্ত কারণ দেখানোর নিয়মও নির্বাচন কমিশনের আইনেই রয়েছে।’’ তাঁর অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে বিভিন্ন জেলাশাসকেরা কমিশনের আইনের অপব্যাখ্যা এবং অপব্যবহার করে শিক্ষকদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছেন। নিলয় জানান, কমিশনকে ইতিমধ্যেই একটি চিঠিতে জানানো হয়েছিল, সেমেস্টার পদ্ধতিতে ক্লাস নেওয়া, পরীক্ষা নেওয়া এবং খাতা দেখা-সহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকেন শিক্ষকেরা। তাই এ ভাবে তাঁদের নির্বাচনী কাজে যুক্ত করলে আখেরে ক্ষতি হয় শিক্ষাব্যবস্থার।

Teachers College
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy