আসন্ন লোকসভা ভোটে তাঁর প্রার্থিপদ নিয়ে অনেক দিন ধরেই জল্পনা চলছে। তা নিয়ে ‘অনিশ্চয়তা’র কথা এ বার নিজের মুখেই বলে ফেললেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। শুধু যে প্রার্থিপদ নিয়েই অনিশ্চয়তা রয়েছে, তা নয়। দল মনোনয়ন দিলে জিততে পারবেন কি না, তা নিয়েও প্রকাশ্যেই সংশয় প্রকাশ করলেন সাংসদ।
বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনার বরাহনগরে একটি সভায় সৌগত বলেন, ‘‘আমার সাংসদ পদে ১৫ বছর সম্পূর্ণ হতে চলেছে। এর পর কী হবে জানি না। দল কাকে মনোনয়ন দেবে, যদি আমায় দেয়, জিততে পারব কি না, এগুলো সবই অনিশ্চয়তা।’’ সাংসদের এই মন্তব্যের তাঁর প্রার্থিপদ নিয়ে দলের অন্দরে জল্পনা বেড়েছে। অনেকের প্রশ্ন, তা হলে কি আসন্ন ভোটে টিকিট না পাওয়ারই ইঙ্গিত পেয়েছেন সৌগত? এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে আনন্দবাজার অনলাইন। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘‘এটা তো জেনারেল স্টেটমেন্ট। এটা নিয়ে এত হইচই করার কী আছে? আমি শুধু বলতে চেয়েছি, দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি দাঁড়াব।’’
গত বছরের শেষে শাসক তৃণমূলের অন্দরে ‘বয়স-নীতি’ নিয়ে বিতর্কের সময় থেকেই সৌগতের প্রার্থিপদ নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা চলছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পর দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কিছু সাংগঠনিক সংস্কারের চেষ্টা শুরু করেছিলেন। বেশ কিছু সংস্কারের কথা অভিষেক নিজমুখে প্রকাশ্যেই বলেছিলেন। তার মধ্যে কিছু কার্যকর করা গিয়েছে। আবার বেশ কিছু যায়ওনি। অভিষেক যে যে সংস্কারের কথা বলেছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম দু’টি বিষয় ছিল বয়সবিধি এবং এক ব্যক্তি-এক পদ নীতি। এই বয়সবিধি নিয়েই দলের প্রবীণ নেতাদের একাংশের গলায় ‘বিদ্রোহের সুর’ শোনা গিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সৌগত। নেতাজি ইন্ডোরের যে অধিবেশন থেকে বয়সনীতি নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে সাম্প্রতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই অধিবেশনে দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতাই সৌগতের নাম উল্লেখ করে বলেছিলেন, ‘‘সৌগতদা বলছিলেন, বয়স হয়ে যাচ্ছে। আমি বললাম, বয়স আবার কী? মনের বয়সটাই শেষ কথা।’’ দলনেত্রীর সেই কথা ধার করে সৌগতও পরে সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘‘নির্দিষ্ট বয়ঃসীমা থাকা উচিত নয়। মমতাই তো বলেছেন, মনের বয়সটাই শেষ কথা।’’
তৃণমূলের একাংশের মতে, বয়সনীতি নিয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ‘দ্বন্দ্ব’ আপাতত থামলেও দলের অন্দরে ‘চোরাস্রোত’ রয়েইছে। হতে পারে, সেই জায়গা থেকে প্রার্থিপদ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন সৌগত। এবং তা জোরালো ভাবে প্রকাশ পেয়েছে তাঁর বক্তব্যে। বস্তুত, বরাহনগরের সভায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে’ গানটিও উদ্ধৃত করেন সাংসদ। তিনি বলেন, ‘‘কিন্তু আমি মনে করি, আমরা যা করি, মানুষ সবই তা মনে রাখে। তাই ভবিষ্যতে কী হবে, তা না ভেবেই আমি আমার দু’একটা কাজের কথা বলতে চাই।’’ যদিও দলের অন্য একটি অংশের মতে, সাংসদ বরাবরই মুখ্যমন্ত্রী তথা দলনেত্রী মমতা ‘আস্থাভাজন’ বলেই পরিচিত। মমতা চাইলে সৌগত লোকসভা ভোটের টিকিট পাবেনই। প্রকাশ্যে করে হয়তো শীর্ষ নেতৃত্বের নজর কাড়তে চাইছেন তিনি।
সৌগতের ওই মন্তব্য নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। তিনি বলেন, ‘‘সৌগতবাবু টিকিট না পেলে তৃণমূলের অনেকেই খুব খুশি হবেন। তবে উনি টিকিট পাবেন কি না, তা তো ওদের দলের নেত্রীর হাতে।’’