পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে বাইরের রাজ্য থেকে পুলিশ আনছে নির্বাচন কমিশন। ভোটের কাজে কোন রাজ্য থেকে কত পুলিশ আনার পরিকল্পনা রয়েছে, তার হিসাবও দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি পুলিশবাহিনী আসছে উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং মধ্যপ্রদেশ থেকে। তবে শুধু বিজেপিশাসিত রাজ্য থেকেই নয়, অ-বিজেপিশাসিত রাজ্য থেকেও পুলিশ এনে ভোটের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। জানা গিয়েছে, ভোটের কাজে ব্যবহার করা হবে ৩০ হাজার ভিন্রাজ্যের পুলিশ।
এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে মোট ২,৪০০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে। ইতিমধ্যেই ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে রাজ্যে। তারা মূলত রুটমার্চ, এলাকায় টহলদারির কাজ করছে। শুধু তা-ই নয়, কোথাও কোনও অশান্তির ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কাজও করছেন জওয়ানেরা। এখনও পর্যন্ত শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনীই এসেছে রাজ্যে। তবে আগামী ১৩ এপ্রিল থেকে ভিন্রাজ্যের পুলিশও আসতে শুরু করবে পশ্চিমবঙ্গে। দু’দফায় মোট ৩৪৮ কোম্পানি পুলিশ এ রাজ্যে আসবে। আধিকারিক এবং কর্মী মিলিয়ে এক কোম্পানিতে কমপক্ষে ৭২ জন সদস্য থাকবেন।
কমিশন সূত্রে খবর, ১৩ এপ্রিল ৪৮ কোম্পানি ভিন্রাজ্যের পুলিশ পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দায়িত্ব সামলাতে আসবে। সে দিন অসম, হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ড থেকে পুলিশ আসার কথা। অসম থেকে ২৫, হরিয়ানা থেকে ১৫ এবং উত্তরাখণ্ড থেকে ৮ কোম্পানি বাহিনী আসছে ১৩ তারিখ। পরের ধাপে আবার ১৭ এপ্রিল ভিন্রাজ্য থেকে পুলিশ আসবে পশ্চিমবঙ্গে। সে দিনই একসঙ্গে ৩০০ কোম্পানি পুলিশ বাহিনী ঢুকে পড়বে এ রাজ্যে। ২৯ এপ্রিল, পশ্চিমবঙ্গের শেষ দফার ভোটের দিন পর্যন্ত তারা থাকবে এখানে। ভোটের বিভিন্ন দায়িত্বে তাদের কাজে লাগাবে কমিশন।
আরও পড়ুন:
১৭ এপ্রিল মোট ১৮ রাজ্য থেকে পুলিশবাহিনী পশ্চিমবঙ্গে আসার কথা। তার মধ্যে বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশ থেকে ৪০ কোম্পানি করে পুলিশবাহিনী আসবে। এ ছাড়াও, মিজ়োরাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় এবং সিকিম থেকে ১০ কোম্পানি করে পুলিশ আসবে এ রাজ্যে। পঞ্জাব এবং নাগাল্যান্ড থেকে ২০ কোম্পানি করে পুলিশবাহিনী আসার কথা। পাশাপাশি, ঝাড়খণ্ড থেকে ২৮, ছত্তীসগঢ় থেকে ২৫, অরুণাচল প্রদেশ থেকে ১২, হিমাচলপ্রদেশ থেকে ৮ এবং মহারাষ্ট্র থেকে ৭ কোম্পানি পুলিশ ঢুকবে পশ্চিমবঙ্গে। বাকি ১৫ কোম্পানি বাহিনী পুলিশ আসবে গোয়া, চণ্ডীগড় এবং রাজস্থান থেকে। এই তিন রাজ্যের প্রত্যেকটি থেকে পাঁচ কোম্পানি পুলিশ আসবে পশ্চিমবঙ্গে।
ভিন্রাজ্য ছাড়াও এ রাজ্যের ৩৫ হাজার পুলিশ ভোটের কাজে মোতায়েন করবে কমিশন। তার মধ্যে থাকছে কলকাতা পুলিশও। তবে শুধু এই ভোটে নয়, অতীতেও নির্বাচনের সময় ভিন্রাজ্য থেকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত