শুভেন্দু অধিকারীর গড় বলে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে গিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনটাই বলছে তৃণমূলের সূত্র। বিজেপি স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ঘরে ‘কেউটে সাপ’ ঢুকিয়েছে। আগে তা ‘তা়ড়ানো’য় অভিষেক মনোনিবেশ করতে বলেন বলে খবর। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বৈঠক শুরুর আগে কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যান সুপ্রকাশ গিরি, কাঁথি দক্ষিণের দলীয় প্রার্থী তরুণকুমার জানা, পটাশপুরের দলীয় প্রার্থী পীযূষকান্তি পণ্ডাকে আলাদা করে ডেকে কথা বলেন তৃণমূল সাংসদ। সূত্র বলছে, রামনগর-সহ পূর্ব মেদিনীপুরের বেশ কয়েকটি আসন নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে অভিষেকের।
কাঁথি পুরসভা এলাকাতেই অধিকারী পরিবারের আদি বাড়ি ‘শান্তিকুঞ্জ’। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে গোটা রাজ্যে ভাল ফল করলেও কাঁথি দক্ষিণ বিধানসভায় জিতেছিল বিজেপি। এর পরে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারীর ছেড়ে যাওয়া কাঁথি লোকসভা আসনে জয়ী হন তাঁর ছোট পুত্র সৌমেন্দু অধিকারী। ফলাফলের পর্যালোচনায় দলের অন্তর্দ্বন্দ্বের প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল। অভিযোগ উঠেছিল, তৃণমূলের অনেক নেতা গোপনে শুভেন্দুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। দলীয় সূত্রে খবর, সেই প্রসঙ্গ তুলেই অভিষেক কর্মীদের বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, যুদ্ধে যারা ‘বেইমানি’ করে, তারা আর যাই করুক দলকে নিজের ‘মা’ বলতে পারে না। এর পরেই তিনি দলীয় কর্মীদের বার্তা দেন, আগে ‘সাপ’ তাড়ানো হোক, তার পরে ‘ঝগড়া’। বিজেপি বারান্দায় ‘কেউটে সাপ’ ছেড়ে দিয়েছে। আগে সেটাকে অভিষেক ‘তাড়াতে’ বলেন বলে খবর। তবে তিনি এ-ও জানান, পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের হয়তো দুর্বলতা রয়েছে। তাই লোকসভায় ফল ভাল হয়নি। দল কারও একার উপরে চলে না। তাঁর নির্দেশ, কোন ওয়ার্ডে বা বুথে বা পঞ্চায়েতে দলের দুর্বলতা রয়েছে, তা খুঁজে বার করতে হবে। তা নিয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে।
প্রসঙ্গত, শুভেন্দুর বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামে কর্মিসভায় গিয়েও একই সুরে বার্তা দিয়েছিলেন অভিষেক। তমলুক সাংগঠনিক জেলার অধীনে নন্দীগ্রাম । গত বিধানসভা নির্বাচনে সেখানে শুভেন্দুর কাছে ১,৯৫৬ ভোটে হারতে হয়েছিল তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ফলাফলের দলীয় পর্যালোচনায় অন্তর্ঘাতের প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল। নন্দীগ্রামে গিয়ে তাই দলীয় প্রার্থী পবিত্র করের সমর্থনে কর্মিসভায় বলতে গিয়ে সেই অন্তর্ঘাতের প্রসঙ্গ তুলে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন অভিষেক। এ বার কাঁথিতে গিয়েও একই বার্তা দিলেন।
সূত্রের খবর, অভিষেক আরও এক বার স্পষ্ট করে দেন, ‘পারফরম্যান্স’-এর ভিত্তিতেই মিলবে পুরস্কার। কাজ করলে পুরস্কার মিলবে। না করলে তিরস্কার। আগামী কয়েক দিন ‘সর্বশক্তি’ দিয়ে কর্মীদের ‘ঝাঁপাতে’ বলা হয়েছে বলে খবর। কাজ না-করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও অভিষেক জানিয়েছেন। সূত্রের খবর, তিনি বুঝিয়ে দিয়েছে, তৃণমূলের পদে থাকার এখন একটাই মাপকাঠি, তা হল ‘পারফরম্যান্স’। কাজ না করলে পদক্ষেপ করার বার্তাও দিয়েছেন অভিষেক। তিনি জানান, যে অঞ্চল সভাপতি কাজ করবেন না, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু অঞ্চল সভাপতি নন, এ বার প্রধান, উপ-প্রধানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে বার্তা দিয়েছেন, বিহারে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে বিজেপি কারচুপি করিয়েছে। এই রাজ্যেও এটাই করার চেষ্টা করবে। তাই ভোট শেষ হওয়ার আগে দলীয় এজেন্টদের বুথ ছেড়ে বেরোতেও বারণ করেছেন অভিষেক।
আরও পড়ুন:
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু। ওই বছর কাঁথি দক্ষিণ বিধানসভা আসনে অধিকারী পরিবার-ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন শিক্ষক অরূপকুমার দাসকে টিকিট দিয়েছিল বিজেপি। সেই ভোটে প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতির্ময় করকে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির অরূপ। গত বছর কাঁথি-১ ও কাঁথি টাউন তৃণমূলের দু’টি কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে সংগঠন তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। ভোটের মাস দুই আগে দক্ষিণ কাঁথির জন্য দু’টি পৃথক কোর কমিটি গঠন করে আবার সাংগঠনিক কাজ শুরু করতে নির্দেশ দেন শীর্ষনেতৃত্ব। সূত্রের খবর, এ বার এই আসনটি জিততে মরিয়া তৃণমূল। আর সে জন্যই নিজে গিয়ে কর্মীদের অন্তর্ঘাত সরিয়ে কাজে ঝাঁপানোর কথা বলেন অভিষেক।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
১৭:১৭
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ -
০০:৩১
দিকে দিকে আক্রান্ত বাম-বিজেপি-তৃণমূল! খাস কলকাতায় চলল বুলডোজ়ার, বসিরহাটে জখম পুলিশ -
২৩:১৭
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের -
২১:৫৫
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত -
সিসিটিভি বন্ধ করে গণনাকেন্দ্রে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ মমতার! ‘অসত্যভাষণ’ বলে ওড়ালেন নির্বাচনী আধিকারিক