সংসদে বিল পাশ এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনপর্ব সাঙ্গ হয়েছিল আগেই। এ বার গ্রামীণ ভারতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে ৯৫,৬৯২ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। সেই সঙ্গে আগামী ১ জুলাই থেকে ‘বিকশিত ভারত- গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ সংক্ষেপে ‘জিরামজি’ আইন কার্যকরের লক্ষ্যে জারি হল সরকারি বিজ্ঞপ্তি।
গত ডিসেম্বরে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে ১০০ দিনের কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে ১২৫ দিন করার প্রস্তাব সম্বলিত বিল পাশ হয়েছিল লোকসভা এবং রাজ্যসভায়। এত দিন গ্রামীণ ভারতে ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা প্রকল্পের নাম ছিল ‘মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপাওয়ারমেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট, ২০০৫’ (সংক্ষেপে মনরেগা)। যা বদলে করা হয়েছিল ‘জিরামজি’। নতুন আইনে বলা হয়েছে, ২০৪৭ সাল পর্যন্ত দেশে উন্নয়নের রূপরেখা ‘বিকশিত ভারত’-এর সঙ্গতি রেখেই এই গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
জিরামজি প্রকল্পে গ্রামীণ ভারতের সমৃদ্ধির জন্য গ্রামের প্রতিটি পরিবারের সাবালক স্বেচ্ছাসেবককে এই কাজে নিযুক্ত করা হবে। প্রতিটি অর্থবর্ষে ১২৫ দিনের কাজ পাবেন প্রত্যেকে। সোমবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১ জুলাইয়ের মধ্যে বিকশিত ভারত জিরামজি-তে নির্বিঘ্ন রূপান্তর নিশ্চিত করা হবে। বর্তমান জব কার্ডগুলি বৈধ থাকবে। মজুরি সরাসরি ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ (ডিবিটি)-এর মাধ্যমে শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক বা ডাকঘরের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। মাস্টার রোল বন্ধ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে অথবা সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে মজুরি প্রদান করতে হবে। কোনও পরিস্থিতিতে তা না হলে, আইনের বিধান অনুযায়ী শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন। ঘটনাচক্রে, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটে বিজেপির বিপুুল জয়ের পরেই মোদী সরকার জারি করল জিরামজি কার্যকরের বিজ্ঞপ্তি।