সরকার গঠন নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই এ বার নতুন অভিযোগ তামিলনাড়ুতে। তামিলাগা ভেট্টি কাজ়াগম (টিভিকে)-এর প্রতিষ্ঠাতা তথা অভিনেতা থলপতি বিজয়ের বিরুদ্ধে রাজ্যপালের কাছে জাল সমর্থনপত্র পেশের অভিযোগে পুলিশে অভিযোগ করল বিজেপি এবং এডিএমকের সহযোগী দল আম্মা মক্কাল মুনেত্রা কাজ়াগম (এএমএমকে)।
এএমএমকে প্রধান টিটিভি দীনকরণ শনিবার চেন্নাইয়ের গুইন্ডি থানায় টিভিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। যেখানে সরকার গঠনের দাবি জানাতে একটি ‘জাল সমর্থনপত্র’ ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
দীনকরণ তামিলনাড়ুর প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার বান্ধবী তথা প্রাক্তন এডিএমকে নেত্রী শশীকলা নটরাজনের ভাইপো। জয়ললিতার মৃত্যুর পরে শশীকলা এডিএমকের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। ‘ডেপুটি’ করেছিলেন তাঁর ভাইপো টিটিভি দীনকরণকে। কিন্তু দুর্নীতি মামলায় শশীকলার জেলের সাজা হওার পরে এম পলানীস্বামীর সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে কোণঠাসা হয়ে পড়েন দীনকরণ। এডিএমকে থেকে বহিষ্কৃত হয়ে ২০১৮ সালে তিনি নতুন দল এএমএমকে গড়েন। শশীকলাও সেই দলেই ছিলেন। কিন্তু বিধানসভা ভোটের আগে দীনকরণ এডিএমকে-বিজেপি জোটের সহযোগী হওয়ায় শশীকলা নতুন দল পিটিএমএমকে (পুরৎচ্চি থলাইভার মাক্কাল মুন্নেত্রা কাজ়াগম) গড়ে লড়তে নেমেছিলেন। বিজেপি-এডিএমকের সঙ্গে জোট বেঁধে দীনকরণের এএমএকে একটি আসনে জিতলেও শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে শশীকলার দলকে।
পুলিশের কাছে দীনকরণের অভিযোগ, রাজ্যপালের কাছে বিজয় ১১৯ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা দিয়েছেন। তাতে তাঁর দলের বিধায়ক এস কামরাজের নাম রয়েছে। কিন্তু কামরাজ আদৌ সমর্থনপত্রে সই করেননি। শনিবার তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যপালের কাছে বিজয় বিধায়কদের সমর্থনপত্রের যে ফোটোকপি জমা দিয়েছেন, তাতে জালিয়াতি করা হয়েছে। ঘটনাচক্রে, শুক্রবার বিজয় তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্বে দলিত দল ভিসিকের সমর্থন আছে বলে দাবি করলেও শনিবার সেই দলের নেতা থল তিরুমালব্যন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাঁরা এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি।
প্রসঙ্গত, দ্রাবিড় রাজনীতিতে সাত দশকের ডিএমকে-এডিএমকে সমীকরণ তছনছ করে প্রথম স্থান পেয়েছে বিজয়ের দল টিভিকে। ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। কিন্তু কোনও দল বা জোটই তা পায়নি। চিত্রতারকা বিজয়ের টিভিকে ১০৮টিতে জিতে একক বৃহত্তম দল হয়েছে। যদিও বিজয় দু’টি আসনে জয়ী হওয়ায় তাদের বিধায়ক সংখ্যা ১০৭। কিন্তু এর ফলে বিধায়ক সংখ্যা ২৩৩-এ নেমে আসায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জাদুসংখ্যা কমে ১১৭-য় দাঁড়িয়েছে। ডিএমকে-কংগ্রেস-বাম জোট ৭৪ এবং এডিএমকে বিজেপি জোট ৫৩টি জিতেছে।
ডিএমকে একক ভাবে ৫৯টি আসনে জিতলেও দলের প্রধান তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন পরাজিত। তাঁর সহযোগী কংগ্রেস জিতেছে পাঁচটিতে। অন্য দিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পলানীস্বামীর দল এডিএমকে ৪৭ এবং তাঁর সহযোগী বিজেপি একটিতে জিতেছে। তাদের আর এক সহযোগী পিএমকে পেয়েছে চারটি। কংগ্রেস আগেই বিজয়কে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছিল। কিন্তু বুধবার রাতে রাজ্যপাল বিশ্বনাথ জানিয়েছিলেন ১১৮ বিধায়কের সমর্থনপত্র না পেলে টিভিকে-কে সরকার গড়ার আমন্ত্রণ জানাবেন না তিনি। এই পরিস্থিতিতে ডিএমকের সহযোগী দুই বাম দল, সিপিএম এবং সিপিআই শুক্রবার বিজয়কে সমর্থনের কথা জানিয়েছে। দু’দলেরই দু’জন করে বিধায়ক রয়েছেন। কিন্তু রাজ্যপাল বিশ্বনাথ আরলেকর এখনও বিজয়কে শপথ নিতে আমন্ত্রণ জানাননি।