Advertisement
E-Paper

বিজয়ের একটা ‘ছোট্ট’ ভুলই কি তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনকে জটিল করে দিল? এ বার নতুন হোয়াট্‌সঅ্যাপ-বিতর্কে টিভিকে

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, একক বৃহত্তম দল প্রথমে সরকার গঠনের দাবি জানায়। তার পরে রাজ্যপাল তাদের সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানান। পরে তাদের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হয়।

শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ ১৪:৫১
Did a small error by Vijay turn into his biggest hurdle in government formation

‘থলপতি’ বিজয়। — ফাইল চিত্র।

তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের জট এখনও অব্যাহত। তবে এই জট আরও জটিল করেছেন নাকি খোদ অভিনেতা তথা তামিলাগা ভেট্টি কাজ়গম (টিভিকে) প্রধান বিজয় থলপতি! একক বৃহত্তম দল হিসাবে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনে আর্জি জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তা রাজ্যপাল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হবে টিভিকে-কে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, রাজ্যপালের কাছে পেশ করা সরকার গঠনের আবেদনে এক ‘ছোট্ট’ ভুল করে ফেলেছিলেন বিজয়। আর সেটাই তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে কাঁটা হয়ে থাকতে পারে!

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, একক বৃহত্তম দল প্রথমে সরকার গঠনের দাবি জানায়। তার পরে রাজ্যপাল তাদের সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানান। পরে তাদের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হয়। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে কোনও একক দল সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন পায়নি। টিভিকে জিতেছে ১০৮টি আসন। তবে বিজয় যে হেতু দুই আসন থেকে লড়ে জিতেছেন, তাই তাঁকে একটা আসন ছাড়তে হবে। ফলে টিভিকে-র বিধায়ক সংখ্যা ১০৭। তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের জাদুসংখ্যা ১১৮। তাদের যদি সরকার গড়তে হয় তবে কমপক্ষে আরও ১১ জন বিধায়কের সমর্থনের প্রয়োজন।

ইতিমধ্যে কংগ্রেস প্রকাশ্যেই বিজয়ের দলকে সমর্থন জানিয়েছে। তবে তার পরেও সরকার গড়তে গেলে যে আসন সংখ্যার প্রয়োজন, তার থেকে কয়েকটা কম রয়েছে। কংগ্রেসের সমর্থন পেলেও তামিলভূমে সরকার গড়তে বিজয়ের দলের আরও ছয় বিধায়কের সমর্থনের প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজেন্দ্রের কাছে সরকার গঠনের আর্জি জানিয়ে বিজয় যে চিঠি জমা করেছেন তাতে টিভিকে-র হবু বিধায়কদের পাশাপাশি কংগ্রেসের হবু পাঁচ বিধায়কের স্বাক্ষরও ছিল। আদর্শগত ভাবে, ওই চিঠিতে শুধু টিভিকে-র হবু বিধায়কদের স্বাক্ষর থাকাটা উচিত ছিল। কংগ্রেসের জয়ী পাঁচ প্রার্থীর নাম জোড়ায় সেটা জোট সরকার গঠনের দাবি হিসাবে দেখা হয়ে থাকতে পারে। সম্ভবত সেই কারণেই রাজ্যপাল ফেরত পাঠিয়েছেন বিজয়কে।

অন্য দিকে, তামিলনাড়ুর সরকার গঠনের জটের মধ্যে আরও একটি ‘ভুল’ করে ফেলেছেন বিজয়। তামিলনাড়ুর আরেক রাজনৈতিক দল ভিসিকে-র সমর্থন চাইতে গিয়ে পদ্ধতিগত ‘ভুল’ করে ফেলেছেন তিনি। ভিসিকে-র দাবি, হোয়াট্‌সঅ্যাপের মাধ্যমে তাদের সমর্থন চান বিজয়, যা তাঁর ‘ঔদ্ধত্য’! ভিসিকে-র সাধারণ সম্পাদক সিন্থানাই সেলভান এক্স পোস্টে লেখেন, ‘সরকার গঠনের জন্য তিনি (বিজয়) সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি। এই পরিস্থিতিতে তাঁর আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। তিনি যে দলগুলির সমর্থন চাইছেন, তাদের নেতাদের সঙ্গে কি তাঁর দেখা করা উচিত ছিল না?’

বৃহস্পতিবার গুঞ্জন শুরু হয়েছে, বিজয়কে ঠেকাতে দ্রাবিড় রাজনীতির ‘চিরশত্রু’ দুই দল— এমকে স্ট্যালিনের ডিএমকে এবং পলানীস্বামীর এডিএমকে হাত মেলাতে পারে। সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে বিজয়ের দল হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি ডিএমকে আর এডিএমকে হাত মিলিয়ে সরকার গড়ে, তবে টিভিকে-র ১০৭ জন বিধায়ক পদত্যাগ করবেন। উল্লেখ্য, ডিএমকে-কংগ্রেস-বাম জোট ৭৪ এবং এডিএমকে বিজেপি জোট ৫৩টি জিতেছে। ডিএমকে একক ভাবে ৫৯টি আসনে জিতেছে। তাঁর সহযোগী কংগ্রেস জিতেছে পাঁচটিতে। অন্য দিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পলানীস্বামীর দল এডিএমকে ৪৭ এবং তাঁর সহযোগী বিজেপি একটিতে জিতেছে। তাদের আর এক সহযোগী পিএমকে পেয়েছে চারটি। আর ভিসিকে জিতেছে দু’টি আসন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy