Advertisement

নবান্ন অভিযান

বিজেপির বি-টিম আইএসএফ! কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা নওশাদকে ছাড়তে বললেন অভিষেক, দেগঙ্গায় বার্তা এক ‘গদ্দার’কেও

দেগঙ্গা থেকে এ বার তৃণমূল প্রার্থী করেছে আনিসুর রহমান ওরফে বিদেশকে। অভিষেক তাঁর সমর্থনেই প্রচার করতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে এক ‘গদ্দার’কেও বার্তা দিয়েছেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৪২
(বাঁ দিকে) আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকি। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকি। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

নওশাদ সিদ্দিকির দল আইএসএফ-কে ‘বিজেপির বি-টিম’ বলে কটাক্ষ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা থেকে আইএসএফ-এর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। দাবি, আইএসএফ-কে ভোট দেওয়ার অর্থ বিজেপি-কেই ভোট দেওয়া। সেই সঙ্গে তৃণমূলের এক ‘গদ্দার’কেও আক্রমণ করেছেন অভিষেক। জানিয়েছেন, দেগঙ্গায় লোকসভা নির্বাচনের চেয়ে একটি ভোট হলেও ব্যবধান বা়ড়াতে হবে। তার জন্য সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন অভিষেক।

দেগঙ্গা থেকে এ বার তৃণমূল প্রার্থী করেছে আনিসুর রহমান ওরফে বিদেশকে। অভিষেক তাঁর সমর্থনেই প্রচার করতে গিয়েছিলেন। দেগঙ্গার বেনাপুর রোহিত ব্রিক ফিল্ড ময়দানের জনসভা থেকে তিনি বলেন, ‘‘আমি বিদেশকে বলেছি, এখানে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান ছিল ৬০,০০০-এর বেশি। সেই ব্যবধান এ বার একটি ভোটে হলেও বাড়াতে হবে।’’ প্রবল দাবদাহের মধ্যেও বহু মানুষ তাঁর সভায় জড়ো হয়েছিলেন বলে তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন অভিষেক।

দেগঙ্গায় এ বার আইএসএফ-এর টিকিটে ভোটে লড়ছেন মহম্মদ মফিদুল হক সহজি মিন্টু। তৃণমূল ত্যাগ করে নওশাদের দলে যোগ দেন তিনি। অভিষেক তাঁর নাম নেননি। তবে দাবি করেছেন, সময়ের আগেই ‘গদ্দার’দের তিনি চিনতে পারেন। সেই কারণেই অনেকে তাঁর নাম প্রস্তাব করলেও মিন্টুকে তিনি দেগঙ্গার টিকিট দিতে চাননি। অভিষেকের কথায়, ‘‘দলের আকার বাড়লে তার সঙ্গে অনেকেরই প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা থাকে। এই ধরনের প্রত্যাশা স্বাভাবিক। আমাদের দলনেত্রী যখন এই বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য আমার মতামত চেয়েছিলেন, আমি বিদেশের কথা বলেছিলাম। বিজেপি তাঁকে বিভিন্ন ভাবে হেনস্থার চেষ্টা করেছে, ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছে, কিছুই করতে পারেনি। আমি জানি না কেন কয়েক জন সেই ব্যক্তির নামও প্রস্তাব করেছিলেন যিনি এখন এই কেন্দ্র থেকে আইএসএফ প্রার্থী হয়েছেন। একে আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলতে পারেন, আমি গদ্দারদের সময়ের অনেক আগেই চিনতে পারি। আমি বুঝি কে দলের প্রকৃত বন্ধু আর কে শত্রু।’’

Advertisement

নওশাদের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন অভিষেক। দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যে নিরাপত্তা পান, নওশাদও সেই নিরাপত্তা পান। সেই নিরাপত্তা ত্যাগ করে লড়াইয়ের ময়দানে নামার জন্য ভাঙড়ের বিদায়ী বিধায়ককে আহ্বান জানিয়েছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপি নেতারা দিনরাত মিথ্যা কথা বলছেন। এখানে তাদের প্রভাব নেই। তাই তারা এখানে তাদের বি-টিম আইএসএফ-কে ব্যবহার করছে। অমিত শাহের পাহারায় যে সিআরপিএফ থাকে, সেই একই সিআরপিএফ নওশাদ সিদ্দিকিকেও পাহারা দেয়। আমি তাদের চ্যালেঞ্জ করছি, প্রথমে শাহের দেওয়া নিরাপত্তা ছেড়ে দিন। তার পর তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আসুন। প্রয়োজনে রাজ্য আপনাদের নিরাপত্তা দেবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাত বারের সাংসদ, চার বারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে পাহারা দেয় রাজ্য পুলিশ, অথচ নওশাদকে পাহারা দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। কেন? রফাটা কী? আপনারা কি মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছেন?’’

‘গদ্দার’দের জন্য তৃণমূলে ফেরার রাস্তা বন্ধ, জানিয়েছেন অভিষেক। নাম না-করেই তিনি বলেছেন, ‘‘এই গদ্দারের জন্য আমি দরজা বন্ধ করে দিচ্ছি। সে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বলছে, তৃণমূলের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। সে নাকি রফা করেছে জিতলে সে তৃণমূলে যোগ দেবে। কিন্তু জেনে রাখুন, যে ব্যক্তি বিজেপির থেকে টাকা নিয়ে নির্বাচনে লড়ে, তাকে আমাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’’

আইএসএফ-এর পাশাপাশি মিম এবং হুমায়ুন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টিকেও (এজেইউপি) ব্যঙ্গ করেছেন অভিষেক। বলেছেন, ‘‘এসআইআর-এর সময় যখন আপনাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছিল, তখন কেউ আপনাদের পাশে দাঁড়ায়নি। তারা মানুষের ভোট ভাগ করে বিজেপিকে জিততে সাহায্য করার জন্য বিজেপির কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। রাতের অন্ধকারে তারা বিজেপি নেতাদের সাথে বৈঠক করছে। আইএসএফ বা সিপিআই(এম)-কে ভোট দেওয়া মানে সরাসরি বিজেপিকে ভোট দেওয়া।’’ গত ১২ বছর ধরে নির্ভীক ভাবে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে একমাত্র তৃণমূলই লড়াই করছে বলে দাবি করেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘‘আমি দেগঙ্গার মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, যদি আপনারা আমাদের প্রার্থীর ৭০,০০০-এর বেশি ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন, তবে সমস্ত সঠিক নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও যাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তাদের সাহায্য করা হবে। ৪ তারিখে নির্বাচনের ফল বেরোবে এবং এক মাসের মধ্যে আপনাদের সবার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা আমাদের দায়িত্ব হবে।’’

অন্য দিকে, ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল নেতা শামিম আহমেদ বুধবার বিকেলে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষকের দিকে আঙুল তুলেছেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখিয়ে তিনি দাবি করেছেন, মগরাহাট পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক গোপন বৈঠক করেছেন। একে ‌অনৈতিক বলে দাবি করেছেন শামিম।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
Abhishek Banerjee TMC ISF Nawsad Siddique Deganga
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy