কোচবিহারের দিনহাটার তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহের সম্পত্তি গত পাঁচ বছরে বেশ খানিকটা বেড়েছে। দিনহাটার তিন বারের বিধায়ক তিনি। এ বারও তাই তাঁর উপরেই ভরসা রেখেছে দল। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফাতে তাঁর কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ রয়েছে। উদয়নের বিরুদ্ধে এ বার বিজেপি প্রার্থী করেছে অজয় রায়কে। এ ছাড়া ওই কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থীর নাম হরিহর রায় সিংহ এবং ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থীর নাম বিকাশ মণ্ডল। আগামী ৪ মে ভোটের ফলাফল জানা যাবে।
গত ২ এপ্রিল দিনহাটার তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে উদয়ন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ২০২১ সালেও তিনি এই কেন্দ্র থেকে লড়েছিলেন। দেখা যাচ্ছে, গত পাঁচ বছরে প্রায় ২ কোটি টাকার সম্পত্তি বেড়েছে তাঁর। উদয়নের নামে খুন-সহ একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগে মামলা ঝুলছে। তবে কোনওটিতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি।
অপরাধের রেকর্ড
উদয়নের নামে মোট দু’টি মামলা ঝুলে আছে। একটির ক্ষেত্রে ২০১৩ সালে কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছিল। অন্যটির এফআইআর হয় ২০০৮ সালে, দিনহাটা থানায়। সাহেবগঞ্জের মামলাটিতে খুন, বিনা প্ররোচনায় আঘাত এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারা যোগ করা হয়েছে। খুনের ধারা রয়েছে দিনহাটা থানার মামলাটিতেও। হলফনামা অনুযায়ী, ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় খুন, দাঙ্গা, অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ, অবৈধ জমায়েত, পুলিশকে আক্রমণ, পুলিশের কাজে বাধা, দাঙ্গায় উস্কানি এবং খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সরকারি সম্পত্তি সুরক্ষা আইন এবং শৃঙ্খলারক্ষা আইনেও মামলা হয়েছে উদয়নের নামে। তবে এখনও চার্জ গঠন করা হয়নি। ২০২১ সালের হলফনামাতেও উদয়নের নামে দু’টি মামলা ছিল। তখন তিনি জামিনে মুক্ত ছিলেন। শুনানির পরবর্তী তারিখও উল্লেখ করেছিলেন হলফনামায়।
সম্পত্তি ও অর্থ
৮০ হাজার ২৩০ টাকা নগদ হাতে নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামছেন উদয়ন। তাঁর স্ত্রী শাশ্বতী গুহের হাতে নগদ আছে ৮ হাজার ১৬০ টাকা। লক্ষণীয় যে, ২০২১ সালের হলফনামাতেও উদয়নের স্ত্রীর হাতে একই পরিমাণ নগদ টাকা ছিল। বর্তমানে উদয়নের মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৪ কোটি ৫ লক্ষ ৫৫ হাজার ৩১১ টাকা। তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৩ কোটি ৫৬ লক্ষ ২২ হাজার ৯০৭ টাকার। উদয়নের স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৩৫ লক্ষ ২৮ হাজার ৪২২ টাকা। সল্টলেক এবং দিনহাটায় তাঁর বাড়ি আছে। তবে দিনহাটার বাড়িটি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। স্থাবর এবং অস্থাবর মিলিয়ে এখন উদয়নের সম্পত্তি মোট ৪ কোটি ৪০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৭৩৩ টাকা।
আরও পড়ুন:
২০২১ সালে ৪ লক্ষ ৭৬ হাজার ১০০ টাকা হাতে নিয়ে ভোটে লড়তে নেমেছিলেন উদয়ন। তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ১৯ লক্ষ ৬৮ হাজার ৯৩৩ টাকা। তাঁর স্ত্রীরও ২ কোটি ৭৬ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৩৭ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি ছিল সেই সময়। এ ছাড়া, উদয়নের স্থাবর সম্পত্তির ছিল ৩৬ লক্ষ ২৮ হাজার ৪২২ টাকার। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে পাঁচ বছর আগে তাঁর মোট সম্পত্তির মূল্য ২ কোটি ৫৫ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা। এখন তা আরও দু’কোটি বেড়ে গিয়েছে।
সম্পত্তির সঙ্গে সঙ্গে দেনাও বেড়েছে উদয়নের। ২০২১ সালে তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লক্ষ ৫২ হাজার ৬৯১ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ লক্ষ ২৭ হাজার ৯৫৯ টাকায়।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
৭১ বছরের উদয়ন বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করে স্নাতক পাশ করেছেন। হলফনামা অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন দিনহাটা কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। পেশায় ব্যবসায়ী। তা থেকেই রোজগার। এ ছাড়া তাঁদের আয়ের অন্যতম উৎস ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের সুদ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত