তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী। সোমবার দুপুরে পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের নাদনঘাট থানা এলাকার নশরতপুর এলাকায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। এমনকি, রাস্তায় ফেলে লাঠিপেটা করার অভিযোগও উঠেছে। ভাঙচুর করা হয়েছে বাইক-টোটোও। ঘটনায় উভয় পক্ষের কর্মী-সমর্থকই আহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে নাদনঘাট থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা পৌঁছোন ঘটনাস্থলে।
দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচার শেষ হচ্ছে সোমবারই। শেষ দিনের প্রচার ঘিরেই শাসক এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায় নাদনঘাটে। জানা যাচ্ছে, দুপুরে নশরতপুর এলাকায় দিয়ে বিজেপির একটি মিছিল সমুদ্রগড়ের দিকে যাচ্ছিল। সেই সময়ই তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায় বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের। বিজেপি শিবিরের দাবি, তাদের মিছিল চলাকালীন নশরতপুর এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যাকলের সামনে থেকে কয়েক জন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন। বিজেপির কর্মীদের লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টিও চলে বলে অভিযোগ পদ্মশিবিরের। যদিও তৃণমূলের দাবি, তাদের কর্মীরা দলীয় কার্যালয়েই বসে ছিলেন। সেই সময়েই বিজেপি কর্মীরা আচমকা তাঁদের উপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। দু’পক্ষই একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় সূত্রে খবর, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি এবং মারপিটও শুরু হয়। এক পক্ষের কর্মীরা অন্য পক্ষের কর্মীদের উপর লাঠি নিয়ে চড়াও হন। রাস্তায় ফেলে লাঠিপেটা করার অভিযোগও উঠেছে। তাণ্ডবের সময়ে বাইক এবং টোটো ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। পরে নাদনঘাট থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশের সামনেও দু’পক্ষই একে অপরের দিকে মারমুখী হয়ে তেড়ে যেতে থাকে। সোমবারের এই ঘটনায় দু’পক্ষেরই অন্তত চার জন জখম হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। তাঁদের মধ্যে দু’জন তৃণমূল কর্মী, দু’জন বিজেপির কর্মী। চার জনকেই জখম অবস্থায় কালনা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আপাতত এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত