তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের সভা থেকে বিজেপি-কে তোপ দেগে তিনি বলেন, “তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতার করার অর্ডার (নির্দেশ) দেওয়া হচ্ছে। মধ্যরাতে ইডি-সিবিআই তল্লাশি চালাচ্ছে। বলছে এজেন্টদের গ্রেফতার করো।” তার পরেই হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, “এক জনকে গ্রেফতার করবেন, হাজার জন বেরোবে। হাজার জনকে গ্রেফতার করবেন, লক্ষ জন বেরোবে।” মমতা সুনির্দিষ্ট কোনও ঘটনার কথা উল্লেখ করেননি। তবে আইপ্যাক-কর্তা বিনেশ চান্দেলকে ইডি গ্রেফতার করার পরদিনই তাঁর এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
সোমবার কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তে আইপ্যাক-কর্তা বিনেশের ঠিকানায় হানা দিয়েছিল ইডি। রাতেই তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থাটির অন্যতম পরিচালক ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশকে তারা গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার ভোরে পটীয়ালা হাউস কোর্টের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক (এএসজে) শেফালি বার্নালা ট্যান্ডন বিনেশকে ১০ দিন ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য এই ঘটনার কথা উল্লেখ করেননি। মঙ্গলবারই জানা যায় অর্থ পাচার মামলায় আইপ্যাক-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের স্ত্রী এবং ভাইকে তলব করেছে ইডি।
সোমবার প্রথমে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা, পরে জগৎবল্লভপুরের সভা থেকে মমতা বলেন, “তৃণমূলের বুথ এজেন্টদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছে। যাতে তারা ভোটকেন্দ্রে বসতে না-পারে।” মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূলের বুথ এজেন্টরা যাতে ভোটকেন্দ্রে বসতে না-পারে, সেই কারণেই তাদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সূত্রেই তিনি বলেন, “প্যারালাল মেশিনারি (বিকল্প ব্যবস্থা) তৈরি রাখতে হবে। একজনকে গ্রেফতার করলে আর একজন থাকবে। মা-বোনেদের এজেন্ট থাকবে।”
গত রবিবার পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “অনেককে গ্রেফতার করার চেষ্টা হবে।” একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “আজ মধ্যরাত থেকে অপারেশন শুরু হবে শুনেছি। খবর আমরাও পাই।” ঘটনাচক্রে, সোমবার রাতেই ইডি গ্রেফতার করে আইপ্যাক-কর্তা চান্দেলকে।
আদালতে ইডি জানিয়েছে, আইপ্যাকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ সংশ্লিষ্ট সংস্থার ৩৩ শতাংশের অংশীদার। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এর অধীনে একটি মামলায় তিনি তদন্তাধীন। দিল্লি পুলিশের দায়ের করা একটি এফআইআর থেকে এই মামলার সূত্রপাত।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত