রাজ্যের সাত বিধানসভা আসনে প্রার্থী বদল করল কংগ্রেস। বুধবার ওই সাত আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়াতেও। সেখানে কংগ্রেস প্রার্থী করেছে প্রণব ভট্টাচার্যকে।
বিধানসভা ভোটের জন্য কংগ্রেস প্রার্থিতালিকা প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করেছিল। প্রার্থী বাছাই ঘিরে অসন্তোষের জেরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কংগ্রেসের একাধিক কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ হয়েছে। কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের দফতর বিধান ভবনেও বিক্ষোভ দেখান দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা।
প্রার্থী ঘিরে এই বিক্ষোভ এবং অসন্তোষের মাঝেই বুধবার সাত আসনের প্রার্থী বদলে দিল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ এবং অভিযোগগুলি ইতিমধ্যে পর্যালোচনা করে দেখেছেন প্রদেশ নেতৃত্ব। তার পরে তাঁরা নিজেদের মতামত জানিয়েছেন দিল্লির নেতৃত্বকে। এর পরেই বুধবার প্রার্থী বদলের কথা ঘোষণা করল কংগ্রেস। সঙ্গে একটি আসনে প্রার্থীর নামও ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার যে সাত আসনে প্রার্থী বদল করা হয়েছে সেগুলির মধ্যে রয়েছে— নদিয়ার নাকাশিপাড়া, চাপড়া, উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজার, পূর্ব বর্ধমানের রায়না, কেতুগ্রাম এবং আউসগ্রাম।
আরও পড়ুন:
নাকাশিপাড়ায় গোলাম কিব্রিয়া মণ্ডলের বদলে প্রার্থী করা হয়েছে তাহির শেখকে। চাপড়ায় রহিদুল মণ্ডলের পরিবর্তে প্রার্থিপদ দেওয়া হয়েছে আসিফ খানকে। মিনাখাঁয় বর্ণালী নস্করের পরিবর্তে সুনয়না বিশ্বাস, মন্দিরবাজারে কৌশিক বৈদ্যের পরিবর্তে চাঁদ সর্দারকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। একই রকম ভাবে রায়নায় অনিক সাহার বদলে পম্পা মালিক, কেতুগ্রামে মহম্মদ মফিরুল কাসেমের বদলে শেখ আবু বকর এবং আউসগ্রামে নিশা বড়ালের বদলে তাপস বড়ালকে প্রার্থী করেছে কংগ্রেস।
২০২১ সালে জোট করেও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ইতিহাসে প্রথম বার একটি আসনও পায়নি কংগ্রেস এবং সিপিএম। ‘সংযুক্ত মোর্চা’র প্রতিনিধি হিসাবে শুধুমাত্র ভাঙড় বিধানসভা থেকে জয়ী হন আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকি। এ বারের ভোটে আর কোনও আসন সমঝোতায় না গিয়ে একাই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত