সোমবার সকালের উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের সভায় বিজেপির পাশাপাশি তৃণমূলের বিরুদ্ধেও প্রচারের সুর চড়িয়েছিলেন তিনি। দুপুরে মালদহের চাঁচল এবং বিকেলে মুর্শিদাবাদের সমশেরগঞ্জেও কংগ্রেসের জনসভা থেকে কেন্দ্র এবং রাজ্যের শাসকদলকে নিশানা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
রায়গঞ্জের সভা থেকে দুপুর ১টায় চাঁচলের কলমবাগানে পৌঁছানোর কথা ছিল রাহুলের। তাঁর আগমনের বহু আগেই সভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত বসার জায়গায় পুরুষ শ্রোতাদের একাংশ ঢুকে পড়ে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ এবং কংগ্রেসের স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সভাস্থলে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, চাঁচলের কংগ্রেস প্রার্থী আসিফ মেহেবুব, মালতীপুরের প্রার্থী মৌসম নুর, দক্ষিণ মালদহের সাংসদ তথা জেলা কংগ্রেস সভাপতি ইশা খান চৌধুরী-সহ জেলার ১২টি বিধানসভার প্রার্থীরা। কর্মী-সমর্থকেরা ঢাকঢোল বাজিয়ে সভাস্থলে পৌঁছন।
চাঁচলের সভায় রাহুল গান্ধী বলেন, ‘‘দেশে কংগ্রেস লড়াই করছে আরএসএস এবং বিজেপির বিরুদ্ধে।’’ তিনি অভিযোগ করেন, দেশে ঘৃণা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, যা দেশের ঐক্যকে দুর্বল করছে। নিজের ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’র উল্লেখ করে রাহুল বলেন, কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার পথ তিনি অতিক্রম করেছেন দেশের মানুষকে একত্র করার জন্য। কেন্দ্রকে আক্রমণ রাহুলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের সম্পদ বড় শিল্পপতিদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। তিনি বিশেষ ভাবে শিল্পপতি গৌতম আদামির নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘‘বিমানবন্দর, বন্দর, বিদ্যুৎ—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র বেসরকারিকরণ করা হয়েছে।’’ তিনি দাবি করেন, দেশের অর্থনীতি ও ছোট শিল্পক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিদেশি শক্তির প্রভাব বাড়ছে।
চাঁচলের সভা থেকে শমসেরগঞ্জের কৃষি মান্ডির মাঠে জনসভায় যোগ দিতে যান রাহুল। সেখানে ছিলেন লোকসভায় কংগ্রেসের প্রাক্তন দলনেতা অধীর চৌধুরী। রায়গঞ্জের মতোই চাঁচল এবং শমসেরগঞ্জের সভাতেও কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্যের তৃণমূল সরকারকেও নিশানা করেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের জমানায় বেকারত্ব বেড়েছে, শিল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সিন্ডিকেটরাজ চলছে সাধারণ মানুষ কাজ পাচ্ছেন না। সেই সঙ্গে লোকসভার বিরোধী দলনেতার মন্তব্য, ‘‘তৃণমূল পারবে না বিজেপিকে আটকাতে। কংগ্রেসই পারে প্রকৃত লড়াই দিতে।’’ সারদা চিটফান্ড, কয়লা ও নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘‘এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শাসক দলের নেতারা লাভবান হয়েছেন।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত