Advertisement

নবান্ন অভিযান

রায়গঞ্জের পরে চাঁচল, সমশেরগঞ্জেও রাহুলের নিশানায় তৃণমূল! তুললেন ‘সিন্ডিকেটরাজ এবং দুর্নীতি’র প্রসঙ্গ

রায়গঞ্জের মতোই চাঁচল এবং শমসেরগঞ্জের সভাতেও কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্য সরকারকেও নিশানা করেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল জমানায় বেকারত্ব বেড়েছে, শিল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটরাজ চলছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৪২
রাহুল গান্ধী।

রাহুল গান্ধী। ছবি: পিটিআই।

সোমবার সকালের উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের সভায় বিজেপির পাশাপাশি তৃণমূলের বিরুদ্ধেও প্রচারের সুর চড়িয়েছিলেন তিনি। দুপুরে মালদহের চাঁচল এবং বিকেলে মুর্শিদাবাদের সমশেরগঞ্জেও কংগ্রেসের জনসভা থেকে কেন্দ্র এবং রাজ্যের শাসকদলকে নিশানা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

রায়গঞ্জের সভা থেকে দুপুর ১টায় চাঁচলের কলমবাগানে পৌঁছানোর কথা ছিল রাহুলের। তাঁর আগমনের বহু আগেই সভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত বসার জায়গায় পুরুষ শ্রোতাদের একাংশ ঢুকে পড়ে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ এবং কংগ্রেসের স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সভাস্থলে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, চাঁচলের কংগ্রেস প্রার্থী আসিফ মেহেবুব, মালতীপুরের প্রার্থী মৌসম নুর, দক্ষিণ মালদহের সাংসদ তথা জেলা কংগ্রেস সভাপতি ইশা খান চৌধুরী-সহ জেলার ১২টি বিধানসভার প্রার্থীরা। কর্মী-সমর্থকেরা ঢাকঢোল বাজিয়ে সভাস্থলে পৌঁছন।

চাঁচলের সভায় রাহুল গান্ধী বলেন, ‘‘দেশে কংগ্রেস লড়াই করছে আরএসএস এবং বিজেপির বিরুদ্ধে।’’ তিনি অভিযোগ করেন, দেশে ঘৃণা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, যা দেশের ঐক্যকে দুর্বল করছে। নিজের ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’র উল্লেখ করে রাহুল বলেন, কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার পথ তিনি অতিক্রম করেছেন দেশের মানুষকে একত্র করার জন্য। কেন্দ্রকে আক্রমণ রাহুলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের সম্পদ বড় শিল্পপতিদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। তিনি বিশেষ ভাবে শিল্পপতি গৌতম আদামির নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘‘বিমানবন্দর, বন্দর, বিদ্যুৎ—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র বেসরকারিকরণ করা হয়েছে।’’ তিনি দাবি করেন, দেশের অর্থনীতি ও ছোট শিল্পক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিদেশি শক্তির প্রভাব বাড়ছে।

Advertisement

চাঁচলের সভা থেকে শমসেরগঞ্জের কৃষি মান্ডির মাঠে জনসভায় যোগ দিতে যান রাহুল। সেখানে ছিলেন লোকসভায় কংগ্রেসের প্রাক্তন দলনেতা অধীর চৌধুরী। রায়গঞ্জের মতোই চাঁচল এবং শমসেরগঞ্জের সভাতেও কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্যের তৃণমূল সরকারকেও নিশানা করেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের জমানায় বেকারত্ব বেড়েছে, শিল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সিন্ডিকেটরাজ চলছে সাধারণ মানুষ কাজ পাচ্ছেন না। সেই সঙ্গে লোকসভার বিরোধী দলনেতার মন্তব্য, ‘‘তৃণমূল পারবে না বিজেপিকে আটকাতে। কংগ্রেসই পারে প্রকৃত লড়াই দিতে।’’ সারদা চিটফান্ড, কয়লা ও নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘‘এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শাসক দলের নেতারা লাভবান হয়েছেন।’’

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
Malda Murshidabad Rahul Gandhi Congress Assembly Poll
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy