মোথাবাড়ির অশান্তির ঘটনার ধৃত তিন জনকে সোমবার কলকাতার বিচার ভবনের নগর ও দায়রা আদালতে তুলেছিল তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। তিন অভিযুক্তকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত এনআইএ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
এই মামলায় শুনানিতে সোমবার সরকারি আইনজীবী ধৃতদের সাত দিনের এনআইএ হেফাজত চেয়ে জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে বিডিও দফতর ঘেরাও, সড়ক অবরোধের মতো অভিযোগ রয়েছে। এসআইআর-নিষ্পত্তির কাজে নিযুক্ত বিচারকদের খাবার দেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত শাহাদত হোসেন দাবি করেন, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। আর এক অভিযুক্ত আসিফ শেখেরও দাবি তিনিও সেখানে ছিলেন না। ধৃত পঞ্চায়েত সদস্য গোলাম রব্বানি আদালতে জানান, দুপুরে তিনি জমায়েতে গিয়েছিলেন। কিন্তু রাতে অশান্তির সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না।
শুনানিপর্বে বিচারক জানান, এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত বিচারকদের যে ভাবে ঘেরাও করে রাখা হয়, পথ অবরোধ হয়, বাঁশ দিয়ে আক্রমণ করা হয়, তাতে অঘটন ঘটে যেতে পারত। সূত্রের খবর, ধৃতদের মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার আবেদন করেছে এনআইএ। প্রসঙ্গত, ধৃত শাহদাত এবং আসিফ মোথাবাড়িতে ‘কংগ্রেস নেতা’ হিসাবে পরিচিত। অন্য দিকে, রব্বানি আইএসএফের পঞ্চায়েত সদস্য। পুলিশের সূত্রে খবর, রবিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল দুই কংগ্রেস নেতাকে। তাঁদের বক্তব্যে অসঙ্গতি মেলে। তার পরেই গ্রেফতার করা হয় তাঁদের। এর আগে রব্বানিকে গ্রেফতার করে এনআইএ।
আরও পড়ুন:
মালদহের মোথাবাড়িতে এসআইআরের কাজ করার সময় বিচারকদের আটক করে রাখার ঘটনায় শীর্ষ আদালতের নির্দেশে কলকাতার বিশেষ আদালতে ১২টি এফআইআর দায়ের করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলা দায়ের করা হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার খুনের চেষ্টা, অন্যায় ভাবে আটক করা, বেআইনি জমায়েত, বেআইনি জমায়েত সরাতে গেলে সরকারি কর্মীদের উপর হামলা, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া, সরকারি কর্মীদের আদেশ অমান্য করা, সরকারি কর্মীদের মারধর, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন, দীর্ঘ সময় জাতীয় সড়ক আটকে রেখে বেআইনি অবরোধ করা সংক্রান্ত ধারায়।
প্রসঙ্গত, এসআইআর শুনানি নিয়ে গত ১ এপ্রিল অশান্ত হয়েছিল মোথাবাড়ি। সে দিন সকাল থেকেই মালদহের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে কেন, এই প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। ওই সময়ে মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কালিয়াচক-২ বিডিও অফিসে কাজ করেছিলেন ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারক। দুপুরের দিকে সেই ব্লক অফিসের সামনে বাড়তে থাকে বিক্ষুব্ধ জনতার ভিড়। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, বৈধ নথিপত্র থাকার পরেও তাঁদের নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। আগে সেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। তার পরে ভোট হবে। এই দাবিতে বিক্ষোভের সুর ক্রমশ চড়তে থাকে। সূত্রের খবর, বিকেল ৫টা নাগাদ বিচারকদের ব্লক অফিস ছাড়ার কথা ছিল। তাঁর আগে থেকেই কালিয়াচক ২ বিডিও অফিস ঘিরে ফেলেন বিক্ষোভকারীরা। ব্লক অফিসের গেট অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে বিকেল ৪টে থেকে ব্লক অফিসের ভিতরেই আটকে পড়েন সাত বিচারক। শেষে মধ্যরাতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীন গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে ব্লক অফিস থেকে। প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টার কিছু বেশি সময় ধরে ঘেরাও থাকার পরে মুক্ত হন বিচারকেরা।