ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগকে সামনে রেখে আগামী ২ জুন, মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলার রানি রাসমণি রোডে ধর্না অবস্থানে বসতে চলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে খবর, তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ওই দিন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। একই দিনে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূমে গিয়ে ভোট পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করবেন। যদিও শনিবার থেকেই এই কর্মসূচি শুরু করছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। বেলেঘাটা ও সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা এলাকার দুর্গত কর্মীদের সঙ্গে শনিবার দেখা করবেন তিনি।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্মতলায় অবস্থান কর্মসূচির জন্য কলকাতা পুলিশের কাছে ইতিমধ্যেই অনুমতি চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। তবে সেই অনুমতি মিলবে কি না, তা নিয়ে দলের অন্দরেই সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ, এর আগেও রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে কলকাতার তিনটি পৃথক স্থানে অনুষ্ঠান করার আবেদন জানানো হলেও কলকাতা পুলিশ সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল।
উল্লেখ্য, ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন ঘটে। ১৫ বছরের শাসক দল তৃণমূলকে পরাজিত করে রাজ্যে সরকার গঠন করে বিজেপি। ভবানীপুর কেন্দ্রেও বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১০৫ ভোটে পরাজিত হন মমতা। এরপর ৯ মে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু। তারপর থেকে কালীঘাটে নিজের বাসভবনে নেতাদের নিয়ে একের পর এক বৈঠক করেছেন মমতা। এ বার সরাসরি পথে নামছেন তিনি।
নির্বাচনী পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরমহলে অসন্তোষ বাড়তে শুরু করেছে। দলের একাংশ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের ভূমিকা নিয়েও। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মহলে জোরালো হয়েছে এই প্রশ্নও যে, রাস্তায় নেমে আন্দোলনের মাধ্যমে দলকে পুনরায় সংগঠিত করার চেষ্টা করবেন কি না মমতা? সেই পরিস্থিতিতেই জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে একযোগে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা ও অভিষেক।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন পুরসভায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। কলকাতা পুরসভার একাধিক কাউন্সিলরও প্রশাসনিক বিভিন্ন পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এরই মধ্যে উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দু’দফায় সাক্ষাৎ হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর। এ ছাড়াও বিধানসভায় স্পিকার রথীন্দ্র বসুর ঘরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সময় ঋতব্রতর হাজির হয়েছিলেন এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ঘর ও বাইরে দুই দিক থেকেই এখন চাপে রয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এমনকি, বিধানসভায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা না পড়ায় এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলের মর্যাদাও পায়নি তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে ২ জুনের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে জল্পনা।