দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার দুই বিধানসভা কেন্দ্রের ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন হবে। কোন কোন বুথে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার তালিকা দিল নির্বাচন কমিশন। শনিবার ওই কেন্দ্রগুলিতে আবার ভোটগ্রহণ হবে। তবে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের কোনও বুথে পুনর্নির্বাচন হবে কি না, তা এখনও ঘোষণা করেনি কমিশন।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (সিইও) চিঠি লিখে পুনর্নির্বাচন করানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। জানানো হয়েছে, মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের ১১টি বুথ এবং ডায়মন্ড হারবারের ৪টি বুথে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল ৭টা থেকে ওই বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচন শুরু হবে। চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ ছিল পশ্চিমবঙ্গের ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে। ওই দিন ভোটগ্রহণ হয় ডায়মন্ড হারবার এবং মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রেও। তবে ভোটগ্রহণ পর্বে ওই দুই বিধানসভা কেন্দ্র-সহ বিভিন্ন জায়গায় পুনর্নির্বাচন করানোর আবেদন জানানো হয় সংশ্লিষ্ট কয়েক জন প্রার্থীর তরফে। পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা স্ক্রুটিনি করে দেখে সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্ক্রুটিনি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেন কমিশন-নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে। পুনর্নির্বাচন সংক্রান্ত স্ক্রুটিনির বিষয় খতিয়ে দেখে সুব্রত রিপোর্ট দেন কমিশনকে। তার পরেই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সূত্রের খবর, দিল্লিতে পাঠানো প্রস্তাবে সুব্রত জানিয়েছেন, ফলতার প্রায় ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচন করা হোক। একই দাবি জানিয়েছেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তাঁর মতেও, ফলতায় পুনর্নির্বাচন হওয়া উচিত। শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ-ও বলেন, ‘‘ডায়মন্ড হারবারে ৪টি এবং মগরাহাটে ১১টি বুথে পুনর্নির্বাচন হচ্ছে। যদিও ডায়মন্ড হারবারে ১৬টি বুথে সমস্যা ছিল।’’
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, সোমবার থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ফলতা। কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মার বিরুদ্ধে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির এলাকায় ‘হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তৃণমূলের তরফে অজয়ের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ফলতাতেই বুধবার ১৭০ এবং ১৮৯ নম্বর বুথের ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, ফলতায় পুনর্নির্বাচন সংক্রান্ত স্ক্রুটিনিতে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য ধরা পড়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, ক্যামেরাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ফলতার একাধিক বুথে। নেটওয়ার্কের কারণে কন্ট্রোল রুমে সেই তথ্য আসেনি। ইভিএমে টেপ লাগানো রয়েছে, এমন অভিযোগ ওঠা বুথগুলির দিকে নজর ছিল কমিশনের। সুব্রতের প্রস্তাবে ডায়মন্ড হারবার বিধানসভার ৪টি এবং মগরহাট পশ্চিমের ১১টি বুথেও পুননির্বাচন করানোর কথাও ছিল। সেই প্রস্তাব মেনেই কমিশন আপাতত ওই ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা করেছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত