পুনর্নির্বাচন নিয়ে এ বার সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে ফেলছে নির্বাচন কমিশন। এত দিন ‘ব্যতিক্রমী’ কিছু ক্ষেত্রেই পুনর্নির্বাচন করা হত। এ বার সেই ধারণা পুরো বদলে দিতে চলছে কমিশন। কোথাও কোনও ভয় দেখানো বা ভোট দানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলেই সেখানে পুনর্নির্বাচন করা হবে। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে কমিশন এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখেই এগোচ্ছে। কমিশনের এক আধিকারিকের কথায়, “আগে রিপোল ছিল ব্যতিক্রমী। এখন সেটিকেই জরুরি ভিত্তিতে করা হবে।”
১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে পুনর্নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া রয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে কোন বুথে বা ভোটকেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন হতে পারে, তা স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ রয়েছে তাতে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমিশনেরই।
অতীতের নানা নির্বাচনে রাজ্যের বিভিন্ন বুথে ভোটারদের ভয় দেখানো, ছাপ্পা, ভোটদানে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ তুলেছে রাজনৈতিক দলগুলি। তবে খুব বেশি সংখ্যক বুথে পুনর্নির্বাচন দেখা যায়নি। প্রিসাইডিং অফিসারের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পুনর্নির্বাচন করে কমিশন। এ বার কমিশন স্বতঃপ্রণেোদিত ভাবেও সেই সিদ্ধান্ত নেবে।
এ বারে কমিশনের যা দৃষ্টিভঙ্গি, তাতে কোথাও গুরুতর বেনিয়ম হয়েছে বলে যদি মনে করে কমিশন, তা হলেই কড়া পদক্ষেপ করার আভাস মিলেছে। এই অবস্থায় বুথগুলি থেকে উঠে আসা অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুনর্নির্বাচনের মধ্যে হারও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কমিশন জানাচ্ছে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৫৮ (এ) ধারায় যদি কোথাও বুথদখল হয়, তবে সেখানে ভোট বাতিল করা হবে। এবং পুনর্নির্বাচন করা হবে। একই রকম ভাবে কোথাও ভোটারদের বাধা দেওয়া হলে, সে ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বুথে ভোট বাতিল করা হবে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৩৫ (এ) ধারা অনুযায়ী, কোথাও জোর করে বুথ দখল, ভোট দিতে বাধা দেওয়া, রাস্তা আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠলে, সে ক্ষেত্রেও পুনর্নির্বাচন হবে।
আরও পড়ুন:
এই ক্ষেত্রে কেউ যদি হুমকির কারণে ভোট দিতে যেতে না পারেন, তিনি বাড়িতে বসেও কমিশনের কাছে বা পর্যবেক্ষকের কাছে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারেন। ভোট দিতে ইচ্ছুক কোনও ব্যক্তি হুমকির মুখে বাড়ি থেকে বেরোতে না-পারলে, সে ক্ষেত্রেও কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। বলে দেওয়া হয়েছে, এ ক্ষেত্রেও ওই বুথে পুনর্নির্বাচন করা হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন এ-ও জানিয়ে দিয়েছে, কোনও ধরনের হুমকি, অশান্তি, ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলে ওয়ারেন্ট (গ্রেফতারি পরোয়ানা) ছাড়াই পুলিশ গ্রেফতার করতে পারবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত