কাশীপুরে শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
‘‘ভোটটা জোড়াফুলকে না দিলে বিজেপি সব কেড়ে নেবে। খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দেবে। থাকা, কথা বলা বন্ধ করবে। উত্তরপ্রদেশে মেয়েরা থানায় ডায়েরি করতে পারে না। করতে গেলে পুড়িয়ে মারা হয়। এখানে একটা-দু’টো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা হলে আমরা পদক্ষেপ করি। বিজেপি করে না। বড় বড় কথা বলে মুখে। আপনারা বিশ্বাস করেন? জঙ্গলমহলে শান্তি ফিরিয়ে আনব বলেছিলাম, এনেছি। যা বলেছি, করেছি। আমাদের কর্মীদের টাকা দেওয়ার চেষ্টা করবে না। লাভ নেই। সকালে জোট বেঁধে ভোট দিন। ভোটবাক্স রক্ষা করুন।’’
‘‘হাঁদা-ভোদা দুই ভাই। ভোটের নাম ভ্যানিশ করছে। বিজেপি ভ্যানিশ ওয়াশিং মেশিন। ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ। তাঁবেদারি করতে করতে ম্যাজিশিয়ান হয়েছে। যতই করো হামলা জিতবে কিন্তু বাংলা। তৃণমূল জিতবে বাংলা। যতই কাটো নাম, পারবে না রুখতে। ’’
‘‘মা-বোনেরা বলুন। বিনা পয়সা রেশন, লক্ষ্মীর ভান্ডার, তফসিলি বন্ধু চান! ভাল ভাবে বাঁচতে চান! কর্ম চান! এখনও তালিকা বার করতে পারেনি। ১ কোটি ২০ লক্ষ লোকের নাম বাদ দিয়েছে। ওরা এলে জিজ্ঞেস করবেন, আমার ভোট কাটার অধিকার তোমায় কে দিল? তোমরা ঠিক করবে আমরা থাকব কি না? আমরা নাগরিক কি না! অত্যাচারী দল। একটা লোককেও তাড়াতে দেব না। তার আগে বিজেপিকে তাড়াব। আগে বাংলা থেকে তাড়াব। তার পরে সব দল নিয়ে দিল্লি থেকে তাড়াব। ’’
‘‘আপনারা কি চান, বিজেপি মিথ্যা বলে টাকার বিনিময়ে ভোট কিনে নিক। টাকা সাময়িক। টাকা ওদের নয়। টাকা নিয়ে ভোট দেবেন না। নিজের চরিত্র নষ্ট করবেন না। মর্যাদার সঙ্গে লড়াই করবেন। কোনও পাপ যেন গ্রাস করতে না পারে!’’
‘‘বিজেপি যদি বলে, ৩০০০ টাকা দেব, বিশ্বাস করবেন? বুলডোজ়ার চলবে। বেটি বঁচাও বেটি পড়াও বলেছিল। কেউ পায়নি। করে লুট, বলে ঝুট। সকলের উপরে অত্যাচার করে। বলে মাছ খাবে না। বিজেপির রাজ্যে মাছ, মাংস, ডিম খেতে দেয় না। বাংলা ভাষায় কথা বললে অত্যাচার করা হয়।’’
‘‘গ্যাস বেলুন এখন। উজ্জ্বলা যোজনা পান? ছিল ৪০০ টাকা। ছোটটার (সিলিন্ডার) দাম বেড়েছে ১১০০। বড়টার ২১০০ টাকা। গ্যাসবেলুন ভোটের পরে পালিয়ে যাবে। মানুষ গ্যাস পাবে না। কেরোসিন পাবে না। যুদ্ধের নামে লকডাউনের ব্যবস্থা করবে। ভোটবন্দি, নোটবন্দি, আধারবন্দি। ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে দেশকে।’’
‘‘সব কাঁচা বাড়ি পাকা করে দেব। আগামী দিনে জেতার পরে। দুয়ারে স্বাস্থ্য করব এ বার। আপনার ব্লকে স্বাস্থ্যশিবির হবে। ডাক্তার আসবেন। পরীক্ষা হবে। যা হয়েছে, আরও হবে।সম্প্রীতির বাংলা, ঐক্যের বাংলা। আজ স্কুলে বাচ্চা গেলে বিনা পয়সায় তার পোশাক পায়।’’
‘‘আজীবন লক্ষ্মীর ভান্ডার পাবেন। আমার সব সম্প্রদায় পাবেন। যুবসাথী পেতে শুরু করেছেন। কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা আছে। পেয়ে যাবে। কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা করে দিই যার এক একরের বেশি জমি। খেতমজুরেরাও পান। যার এক কাঠা জমি তিনিও পান।’’
‘‘বলছে, আয়ুষ্মান ভারত করিনি আমি। কেন করব? তাতে ফোন, টিভি, স্কুটার যার থাকবে, সে পাবে না। আমরা সকলকে সুবিধা দিই। ওদের চালাকি। বিনা পয়সায় রেশন সকলে পান। স্বাস্থ্যসাথী, লক্ষ্মীর ভান্ডার পান। কন্যাশ্রী, মেধাশ্রী, শিক্ষাশ্রী পান। ব্যবসা করতে চাইলে ব্যবস্থা করে দিই। সবই আছে। তুমি করবে কী? কিছু তো দাও না। ১ লক্ষ ২০ হাজার কিমি গ্রামীণ রাস্তা তৈরি করেছি। বিনাপয়সায় খাবার দিই। ’’
‘‘বিহারে ভোটের আগে আট হাজার টাকা (দিয়েছিল)। তার পরে বুলডোজ়ার। আমাদের নকল করে। এখানে লক্ষ্মীর ভান্ডার সকলে পায়। ওরা (বিজেপি-শাসিত রাজ্য) যারা টুকলি করেছে, কী করেছে জানেন? যার বাড়িতে ফোন আছে, স্কুটার আছে, টিভি আছে, পাবে না। বাড়িতে পাকা দেওয়াল থাকলেও পাবে না। আমাদের তা নয়। সকলে পায়। আজীবন পাবে। আমরা যা বলি, করি। ৫ বছরে এক এক জনকে ৬০ হাজার টাকা দিয়েছি। আগে ৫০০ টাকা পেতেন, পরে তা বেড়ে হাজার হয়েছে। এখন বেড়ে ১,৫০০ টাকা মাসে পান জেনারেল কাস্টের মহিলারা। তফসিলি জাতি, জনজাতির মহিলারা ১,৭০০ টাকা পান। যাঁদের আবেদনের প্রক্রিয়া চলছে, পেয়ে যাবেন। বাংলায় চাকিরর অভাব হবে না।’’
‘‘যত দিন বাঁচব, সকলকে নিয়ে চলব। যখন দেশে স্বাধীনতা আন্দোলন হয়, কোথায় ছিল বিজেপি। জন্মায়নি এ দেশে। তখন বিজেপি ছিল না। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বলে বঙ্কিমদা। আদিবাসীর গলায় মালা দিয়ে বলছে বিরসার ছবি। ভোটের সময় দেবে গ্যাস বেলুন।’’
‘‘কেউ যদি বলে টাকার বিনিময়ে দেশ বিক্রি করব, ধর্ম বিক্রি করব, জাত বিক্রি করব, পরিষ্কার বলি, ধর্ম একটাই, মানব ধর্ম। যখন রক্তদান শিবির হয়, সেখানে সকলে রক্ত দেন। বোতলে তাঁর নাম, জায়গা লেখা থাকে। যখন তা ব্যাঙ্কে জমা পড়ে, তখন তাতে কারও নাম লেখা থাকে না। যখন রক্ত নেন, তখন কি খবর নেন! তার জাত কী? ধর্ম কী? সব কর্মসূচিতে জনজাতিদের নিয়ে যাই। ছটের উপবাস করি। বাবা-মা শিখিয়েছে।’’
‘‘পুরুলিয়া খরাপ্রবণ। পুকুর কাটা হয়েছে। জল ধরার জন্য। যখন প্রথম ক্ষমতায় আসি, অমিত মিত্র বলেন, ৫০ হাজার পুকুর কাটব। আমি বলি, পারব তো! আমি কথা দিয়ে কথা রাখি। সাড়ে ৫ লক্ষ পুকুর কেটেছি। জনজাতিদের জঙ্গলের অধিকার দিয়েছি। জমি যাতে হস্তান্তর না হয়, আইন করেছি। সারি, সারনা ধর্মের জন্য স্বীকৃতি চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে বলেছি। ওরা জনজাতিদের সঙ্গে মাহাতোদের ভাগাভাগি করাতে চায়। এক জায়গায় থাকবেন, খাবেন, পরবেন। বিজেপি দিল্লি থেকে আসবেন, লাড্ডু খাবেন, পস্তাবেন। কাউকে কাউকে কিনেছেন। দেখব কত দিন চলে। ’’
‘‘আমাদের সরকার মুখে বলে না করে। ১ কোটি ২০ লক্ষ বাড়ি করেছি। ক্ষমতায় এসে দেখতে চাই বাংলায় একটাও কাঁচা বাড়ি থাকবে না। ৩ মাসে ৩২ লক্ষ বাড়ির টাকা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছে বিজেপি। ১৫ লক্ষ টাকা দেবে বলেছিল। দিয়েছে? রিকশাওয়ালার পকেটে ৫০০ টাকা গুঁজছে। যেন ভিক্ষা দিচ্ছে। তাতে জীবন চলবে? ২ কোটি চাকরি দেবে বলেছিল বছরে। এক জনকেও দিয়েছে? বাংলায় বলতে পারি ২ কোটি লোককে চাকরি দিয়েছি। রঘুনাথপুরে দেড় লক্ষ লোকের চাকরির ব্যবস্থা হচ্ছে ঘরের সামনে। ৭২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে। আগামী দিন পানীয় জল সকলের ঘরে পৌঁছে দেব।’’
‘‘বান্দোয়ানে ছিলাম। অযোধ্যা পাহাড় গেলাম। গিয়ে দেখলাম মানুষের যাতায়াতের রাস্তা নেই। সুন্দর জায়গায়। থাকার জায়গা নেই। যাতে পর্যটকেরা যেতে পারেন, ৬টি বড় রাস্তা করলাম। কটেজ করলাম। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ পুরুলিয়া ঘুরতে আসে। পুরুলিয়া রূপসী বাংলা। এই রূপের তুলনা হয় না। ফাগুন মাসে পলাশের মেলা, খেলা। আবির ছড়ায়। রাস্তা যেন ঢেউখেলানো। লোকে ছুটি কাটাতে আসে। অনেক কাজ করেছি। মেডিক্যাল কলেজ আপগ্রেট করে করেছি, পলিটেকনিক, আইটিআই করেছি। ফুটবল অ্যাকাডেমি।’’
‘‘স্বপন বেলতোরিয়া বলছিল, আমার সহকর্মী বলছিলেন, আমরা ৯৪টি প্রকল্প করেছি। আমরা সেঞ্চুরি পার করেছি। জন্ম থেকে মৃত্যু, শিক্ষা থেকে বিয়ে, হিন্দু থেকে মুসলমান, খ্রিস্টান পর্যন্ত প্রকল্প। জেলায় জেলায় সংখ্যালঘু ভবন। কোনটা করা হয়নি? জগন্নাথ ধাম যখন করলাম, বিজেপি ভেঙচি কাটল, কেন করছি। গিয়ে দেখে এসো? আমি দুর্গাঅঙ্গন করছি, মহাকাল মন্দির করছি, অযোধ্যা পাহাড় করেছি, রঘুনাথপুর করেছি আমি গর্বিত।’’
‘‘এসআইআরের লাইন দিতে গিয়ে, ভোটার তালিকায় নাম থাকার জন্য অনেক জনজাতি বিএলও মারা গিয়েছে। অর্ধেক হিন্দু মারা গিয়েছে। মুসলমানও মারা গিয়েছে। কেন লাই দেবে মানুষ? আমরা দেশের নাগরিক নই? যে বাংলা দেশের জন্য লড়াই করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে, জীবন বলিদান দেয়, ৭০ শতাংশ কারাবাসে থাকে স্বাধীনতার আন্দোলনে, সেই মাটি রূপসী বাংলার মাটি। সেই মাটি সোনার চেয়েও খাঁটি। কাকে বাদ দেবেন? সাঁওতালিও রয়েছে। তফসিলি বন্ধু প্রকল্প করেছি।’’
‘‘সব ধর্ম, জাতপাত আছে। আমরা সব ধর্মকে শ্রদ্ধা করি। দুর্গা, কালী, শীতলা পুজো করি। থানে যাই। গুরুদ্বারে যাই। ইদে যাই। ভেদাভেদ নাই। নির্মল টুডু ভাল কথা বলেন। বিজেপি ভোটের রাজনীতি করে বলবে এটা করব। ওড়িশায় ডাবল ইঞ্জিন সরকার। জনজাতিদের উপরে কী অত্যাচার! উত্তরপ্রদেশেও।’’
‘‘আগে মায়েরা ভাবতেন, বিয়ে দেবেন কী করে। এখন ভাবেন, পড়াতে হবে। কন্যাশ্রী রয়েছে। মেধাশ্রী রয়েছে। নবম শ্রেণিতে সাইকেল আছে। ভাতা আছে। স্মার্ট কার্ড আছে। যাতে বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করতে পারেন। ছেলেদেরও আছে। আমি ভেদাভেদ করি না। নজরুল বলেন, সাম্যের গান গাহি।’’
‘‘আমরা সকলকে টাকা ফিরিয়ে দিয়েছি। কর্মশ্রী প্রকল্প চালু করি। যেদিন দেখলাম গান্ধীজির নামে, যিনি দেশ স্বাধীন করতে বড় কাজ করেছিলেন, সেই তাঁর নামে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প ছিল। সেটাকে বন্ধ করে দিলেন। ২ ঘণ্টার মধ্যে কর্মশ্রী প্রকল্প মহাত্মাশ্রী প্রকল্প করে দিলাম। অনেক মানুষকে জব কার্ড দিয়েছি। ১০০ দিনের কাজ আমরা এখান করছি। হবে। ’’
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy