E-Paper

ভোটদানের হারবৃ দ্ধির সুফল কার ঘরে, শুরু জল্পনা

বেশি মাত্রায় ভোট প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতার ইঙ্গিত দেয় বলে দাবি করছেন সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য অজিত পতি।

রাজদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:১৮
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ব্যাপক হারে ভোট পড়ায় আখেরে সুবিধা কোন পক্ষের— এ নিয়েই সরগরম বাঁকুড়ার রাজনৈতিক মহল থেকে চা দোকান। ভোট মিটতেই লাভ-ক্ষতির হিসাব কষতে শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলিও।

বাঁকুড়া জেলায় অতীতের নির্বাচনগুলিতে ৯০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পড়তে দেখা গিয়েছে। তবে শুক্রবার পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বার তা প্রায় ৯৩ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। প্রশাসনিক তথ্যে জানা যাচ্ছে, জেলায় সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে ইন্দাস বিধানসভা কেন্দ্রে (৯৪.০৬ শতাংশ)। সব চেয়ে কম ভোট পড়েছে বাঁকুড়া কেন্দ্রে (৯০.৩২ শতাংশ)। গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া কেন্দ্রে এগিয়েছিল বিজেপি। আবার ইন্দাসে বিধানসভায় হারলেও লোকসভায় অল্প ভোটের ব্যবধানে এগিয়েছিল তৃণমূল। অথচ শতাংশের নিরিখে ওই নির্বাচনগুলিতে এ বারের চেয়ে অনেকটাই কম ভোট পড়েছিল।

বিজেপির দাবি, এসআইআর-এর পরে সংশোধিত ভোটার তালিকায় মৃত, স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে। তাতেই সামগ্রিক ভাবে ভোটারের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তালিকায় সক্রিয় ভোটার বেড়েছে। এর ফলেই ভোট পড়ার শতকরা হার অনেকটা বেড়েছে। বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ভোটার তালিকায় সংশোধনের জন্য স্বাভাবিক নিয়মে ভোটদানের হার বেড়েছে। এ বারের ভোট রাজ্যে পালাবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাই ভোটে অনীহা কাটিয়ে অনেকেই বুথ মুখো হয়েছেন।”

বেশি মাত্রায় ভোট প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতার ইঙ্গিত দেয় বলে দাবি করছেন সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য অজিত পতি। সামগ্রিক ভাবে জেলায় বামেদের ভোট বাড়বে বলে আশাবাদী তাঁরা। তবে তাতে তৃণমূল-বিরোধী ভোট ভাগ হয়ে বিজেপির পাল্লা নেমে গেলে ঘাসফুল শিবিরের সুবিধা হতে পারে বলে রাজনৈতিক শিবিরের একাংশ মনে করছে। যদিও সে তত্ত্ব মানেননি অজিত। তিনি বলেন, “বামেদের ভোট বাড়া মানেই তা কেবল বিরোধী ভোট ভাগ হবে এটা ভাবা একেবারেই ভুল। মুসলিম এলাকায় আমরা মানুষের ভরসা অনেকটাই ফিরে পেয়েছি। সম্প্রদায় ভিত্তিক ভাগ করে নিচুতলায় তৃণমূল ভোটারদের চাহিদাটাই বদলে দিতে চাইছে। সেক্ষেত্রে শ্রমজীবী মানুষের সমর্থনও আমরা ফিরে পেয়েছি অনেকাংশে।”

তৃণমূল অবশ্য এ সবকে তোয়াক্কা করতে নারাজ। তাদের দাবি, এসআইআর-এর পরে ভোটারদের মধ্যে একটা ভীতি কাজ করছে। ভোট না দিলে পাছে ভুয়ো ভোটার বলে ফের চিহ্নিত হন, সেই আশঙ্কায় বুথে ঢল নেমেছে ভোটারদের। উল্লেখযোগ্য হারে মুসলিম বুথে ভোটের হার বেড়েছে। তার সুফল তৃণমূলই পাবে বলে দলের আশা। বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর দাবি, “বাড়তি ভোটের পুরোটাই এসআইআর-এর ভীতির ভোট। সেখানে বিজেপি বা অন্য কোনও বিরোধী দল ভাগ বসাতে পারবে না। কারণ অসময়ে মানুষের পাশে কেবল আমরাই ছিলাম। তাই সবাই তৃণমূলে ভোট দিয়েছেন।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

bankura

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy