দিন কাল ভাল নয়, ভাল নয়।
ভূতেদের ভবিষ্যৎ এমনিতেই উজ্জ্বল ছিল না। বহুতল বাড়ির প্লাবনে তাঁদের অনেকেরই ভিটেমাটি চাটি হয়েছে। এবার দোসর সুগ্রীবের মত এসেছে ভোটের রাজনীতি। অনেক দিন ধরেই একটা কথা চালু আছে, আসলে ভূতেরাই ভোটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। ভূত যার, ভোট তার। অবশ্য ভোটে যাঁরা হেরে যান, তাঁরাই এ কথা বলেন। যাঁরা জেতেন, তাঁরা ভূতের অস্তিত্বই মানতে চান না। এমনকি, স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হারার পরে দায়ী করেছিলেন ভূতেদের। আবার মমতার বিজয়রথ যে ২০১১ থেকে অপ্রতিহত, সে জন্য বিজেপি, বাম এবং কংগ্রেস দায়ী করে ভূতেদের।
সত্যিই কি তাই? ভোটে ভূতের গুরুত্ব বুঝতে গেলে আগে জানতে হবে কী ভাবে ভোট দেয় ভূতেরা।
সাল ২০০১। তৃণমূল এবং কংগ্রেসের জোট বাম সরকার ফেলে দেবে, এমন একটা হাওয়া তৈরি হল। আঙুল দিয়ে ‘ভি’ চিহ্নও দেখিয়ে দিলেন মমতা। কিন্তু বামেরা ফিরল যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই। মমতা দোষ দিলেন ‘সায়েন্টিফিক রিগিং’কে। বললেন, ভুতুড়ে ভোটার ভোট দিয়েছে। বুঝতেই পারেননি। ২০০২ সালে রাজ্যে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন হয়েছিল। তবু, ২০০৪ লোকসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পরও মমতা একই অভিযোগ তুলেছিলেন।
২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই সব ভুতুড়ে ভোটার ধরতে নদিয়া, মেদিনীপুরের মত একাধিক জেলায় ঘুরেছিলেন নির্বাচন কমিশনের তদানীন্তন মুখ্য উপদেষ্টা কেজে রাও। সে বারই প্রথম ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য বাইরের রাজ্য থেকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়। তবু ফের ফিরল বাম। মমতার তদানীন্তন ডানহাত, অধুনাপ্রয়াত মুকুল রায়কে একবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম, সায়েন্টিফিক রিগিং বা ভুতুড়ে ভোটার বলতে তাঁরা কি বোঝাতেন। মুকুলের ব্যাখ্যা ছিল, মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ না দিয়ে রেখে দেওয়া হত। বুথভিত্তিক সংগঠন দুর্বল বলে তৃণমূল এই ভুতুড়ে ভোটারদের অস্তিত্ব অনেক সময়েই টের পেত না।
পাশাপাশি, খোঁজ রাখা হত, তালিকার কোন কোন ভোটার বাইরে আছেন এবং ফেরার সম্ভাবনা কম। সময়মতো বামেদের ক্যাডারেরা ওই সব ভোটগুলি দিয়ে দিতেন। গায়ের জোরে বুথদখল না করেও ফলাফল প্রভাবিত করার এই পদ্ধতিকে ‘সায়েন্টিফিক রিগিং’ বলতেন তদানীন্তন তৃণমূল নেতৃত্ব। এর জোরেই বামেরা বাড়তি ভোট জোগাড় করে বলে তাঁরা মনে করতেন। ঘটনাচক্রে, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরে মুকুল এই ভুতুড়ে ভোটার ম্যানেজমেন্টের খেলায় দড় হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। এবার বুথভিত্তিক সংগঠনে বামেদের দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া শুরু করে তৃণমূল। ভুতুড়ে ভোটারদের সৌজন্যে তৃণমূল তাদের ভোট বাড়িয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করা শুরু করে বামেরা।
এ বারের পরিস্থিতি অবশ্য আলাদা। ভোটের ময়দান থেকে ভূতেদের ফুটিয়ে দেওয়ার জন্যই বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। বলছে নির্বাচন কমিশন। যে ৬৪ লক্ষ ভোটারের নাম খসড়া ও প্রাথমিক তালিকায় বাদ গিয়েছে, তার মধ্য দিয়েই বিদায় করা গিয়েছে অধিকাংশ ভুতুড়ে ভোটারকে। তেমনই মনে করছেন কমিশনের কর্তারা। ভূতেদের হাত নেই। মনে করা হয়, এই ভূতেরা বাঁচে শাসকদলের সৌজন্যে। তাই সাধারণত ভোট দেয় শাসকদলের হাত দিয়েই। তালিকা থেকে যদি ভূত বিদায় হয়ে গিয়ে থাকে, তা হলে কি বিপদে রাজ্যের শাসকদল?
বিজেপি, বাম এবং কংগ্রেস তেমনই মনে করছে। বিশেষত, বিজেপির বিশ্বাস, তালিকা থেকে ‘তৃণমূলপন্থী’ ভূতেদের বিদায় রাজ্যের শাসকদলের সঙ্গে তাদের ভোটের পার্থক্য অনেকটাই ঘুচিয়ে দিয়েছে। তৃণমূল, বাম এবং কংগ্রেসের আবার অভিযোগ, ভুতুড়ে ভোটার তাড়াতে গিয়ে ওই ৬৪ লক্ষের বাইরে আরও ২৭ লক্ষ ‘ন্যায্য’ ভোটারকে বাদ দিয়ে দিয়েছে কমিশন। ওই ভোটারদের পরিবারগুলি বিজেপি তথা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘বদলা’ নেবেন বলেই তাদের আশা।
তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম। আর ৭ লক্ষ নতুন ভোটারের নাম ঢুকেছে। সবমিলিয়ে, ২০২৫ সালের ৭.৬৬ কোটি থেকে ৮৪ লক্ষ কমে রাজ্যের ভোটার তালিকা ৬.৮২ কোটিতে নেমে এসেছে। বিজেপির হিসাব, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির পার্থক্য ছিল মাত্র ১৭ লক্ষ (৩%) ভোটের। সে বার বিজেপি এগিয়েছিল ২৯৪ আসনের মধ্যে ১২১টি আসনে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটের পার্থক্য বেড়ে ৬০ লক্ষে (১০%) দাঁড়ালেও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তা আবার কমে ৪২ লক্ষে (৭%) নেমে আসে।
রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষনেতার মতে, অন্তত চারটি কারণে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁদের ভোটের পার্থক্য প্রায় মুছে এসেছে। তিনি মনে করেন, এ বার প্রতিষ্ঠানবিরোধী যে চোরাস্রোত বইছে রাজ্য জুড়ে, তার তীব্রতা ২০১৯ সালের বিজেপির পক্ষে ঝড়ের সমান। নির্বাচনের মুখে পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের হঠাৎ ‘বসে যাওয়া’ ধাক্কা দেবে তৃণমূলের বুথ ম্যানেজমেন্টে। বিচারাধীন তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ২৭ লক্ষ ভোটারদের বড় অংশও তৃণমূলের। ওই বিজেপি নেতার কথায়, “এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল ১০-১৫ লক্ষ ভুতুড়ে ভোটার হারিয়ে থাকলে আমরা কার্যত সমান সমান আছি।”
রাজ্যের গত তিনটি বড় নির্বাচনের তথ্য দেখাচ্ছে, বিজেপির ভোট প্রায় একই থেকেছে। ২০১৯ সালের তারা ২ কোটি ৩০ লক্ষ ভোট পেয়েছিল। ২০২১ সালে সেটা ১ লক্ষ কমে হয় ২ কোটি ২৯ লক্ষ। ২০২৪ সালে সেটা ৫ লক্ষ বেড়ে ২ কোটি ৩৪ লাখ হয়। তৃণমূলের ভোট ২০১৯ সালে ছিল ২ কোটি ৪৭ লক্ষ। সেটা ২০২১ সালে বেড়ে হয় ২ কোটি ৮৯ লক্ষ। আবার ২০২৪ সালে একটু কমে হয় ২ কোটি ৭৬ লক্ষ। এই লোকসানটা হয়েছিল মূলত কংগ্রেসের। মালদহ এহং মুর্শিদাবাদ জেলায়। তৃণমূলের এই ভোটবৃদ্ধিকে বিজেপি বা বামেরা ব্যাখ্যা করছে ভুতুড়ে ভোটারের বাড়বাড়ন্ত দিয়ে। আর তৃণমূল ব্যাখ্যা করছে তাদের ‘দিদিকে বলো’, ‘কন্যাশ্রী’, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘স্বাস্থ্যসাথী’ এবং ‘দুয়ারে সরকার’-এর মত প্রকল্পের জনপ্রিয়তা দিয়ে।
কে ঠিক, কে ভুল বোঝার অবস্থা এখন নেই। তৃণমূল মনে করছে, এই ২ কোটি ৭৫ লক্ষের নীচে তাদের সমর্থন নামার কোনও সম্ভাবনা নেই। এসআইআর-জনিত কারণে তারা আরও ২০-২৫ লক্ষ ভোট কমিয়ে ধরলেও তাদের হিসাবে দলের ভোট ২ কোটি ৫০ লক্ষের নীচে নামতে পারে না। এক তৃণমূল নেতার কথায়, “বিজেপির ২ কোটি ৩০ লক্ষের যে বাঁধা ভোট ছিল গত তিন নির্বাচনে, এসআইআরের কারণে সেখান থেকে কিন্তু ১৫ লক্ষ মতো কমবেই।” তাঁর বক্তব্য, গত বছরের গোড়াতেই মমতা অভিযোগ করেছিলেন, বিজেপি ভিন্রাজ্য থেকে ভোটার নিয়ে এসে বাংলার তালিকা ভুতুড়ে ভোটারে ভরিয়ে তুলছে। তার পরেই দলের তরফে প্রতি বিধানসভা কেন্দ্রে ‘ভুতুড়ে ভোটার বিরোধী অভিযান’ শুরু হয়। এসআইআরের প্রথম পর্যায়েই কলকাতা, হাওড়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ‘বিজেপির ভিন্রাজ্যের ভুতুড়ে ভোটার’দের বার করে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য। পাশাপাশি, তাঁর হিসাব অনুযায়ী নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব বর্ধমানে কয়েক লক্ষ মতুয়ার নাম বাদ গিয়েছে। যাতে বিজেপির লোকসান।
ভোটের বাজারে অঙ্ক নানারকম। কংগ্রেস নেতৃত্ব যেমন আত্মবিশ্বাসী যে, মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুরে তাঁরা তৃণমূলের ভোটে ভাগ তো বসাবেনই, ছিনিয়ে নেবেন কিছু আসনও। আবার বামেরা প্রত্যয়ী, তাঁদের ভোট বাড়বেই আর এতে বেগ পাবে দুই বড় দলই। বিজেপির নেতারা মনে করেন, লড়াই যত তৃণমূল-বিজেপি সমানে সমানে বলে মনে হবে, তত বাড়বে এই দু’দল কেন্দ্রিক মেরুকরণ। যাতে বামেদের ভোট আরও কমে বিজেপির পাল্লা ভারী করবে। তাঁর যুক্তি, “এবারের মূল প্রশ্ন, দিদি থাকবেন না যাবেন? বামেরা যে সরকার ফেলতে পারবে না সেটা সকলেই বোঝেন।”
তবে শুধু ভোট বাড়লেই হল না। বাড়তি ভোট কী ভাবে বিন্যস্ত হচ্ছে, সেটাও ফ্যাক্টর। যেমন, ২০২০ সালের বিহার নির্বাচনে এনডিএ (৩৭.২৬% ভোট) এবং বিরোধী জোটের (৩৭.২৩% ভোট) ভোটের শতাংশে প্রায় কোনও পার্থক্যই ছিল না। তবু এনডিএ ১৫টি আসন বেশি পেয়েছিল। এক বিজেপি নেতার কথায়, “জেতা আসনে ভোট বেশি বাড়লে লাভ কম। আসল হল হারা আসনে ভোটবৃদ্ধি।” সেক্ষেত্রে তাঁদের ভোটবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দক্ষিণবঙ্গে কলকাতা এবং তার আশেপাশের জেলাগুলিতে।
ইতিমধ্যে নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোটদানের অভূতপুর্ব হার এই ভোট-হিসাবে নতুন অঙ্ক নিয়ে এসেছে। দেখা যাচ্ছে, প্রথম পর্যায়ে ভোট-হওয়া ১৫২টি আসনে ভোটারের সংখ্যা অনেকটা কমার পরেও ২০২১ বা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ২০ লক্ষ মতো ভোট বেশি পড়েছে। দ্বিতীয় দফাতেও ভোটদানের হার প্রথম দফার কাছাকাছি থাকবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
এই অতিরিক্ত ভোট কোনদিকে গিয়েছে বা যাবে? বিজেপির বিশ্বাস, তাদের দিকে। তারা বলছে, অনিয়মিত ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসেন মূলত পরিবর্তন ঘটাতে। এবারেও তা-ই হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির এক নেতার যুক্তি, নির্বাচন কমিশনের কঠোর পদক্ষেপগুলিই তৃণমূল-বিরোধী ভোটারদের আরও বিপুল সংখ্যায় ভোটকেন্দ্রে আসতে উৎসাহিত করেছে। তাঁর কথায়, “মানুষের ভয় ভেঙে গিয়েছে। এই জনস্রোত পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত।”
তৃণমূল, বাম বা কংগ্রেস আবার বলছে উল্টো। তাদের মতে, ভুতুড়ে ভোটারের বাইরে আরও ২৭ লক্ষ নাম বাদ যাওয়া সর্বত্র ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। অনেকেরই ধারণা, এবার তাঁরা ভোট না দিলে ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নামও বাদ পড়ে যেতে পারে। আবার স্রেফ আশঙ্কা থেকে কেউ কেউ নিজের চোখে দেখে নিশ্চিত হতে চান, ভোটকেন্দ্রে রাখা তালিকায় তাঁদের নাম সত্যিই রয়েছে কি না। এই বাড়তি ভোট বিজেপির বিরুদ্ধে যাবে বলেই তৃণমূল, বাম এবং কংগ্রেসের বিশ্বাস। তৃণমূল দেখাচ্ছে, বিহারে গত বছরের নির্বাচনেও ভোটদানের হার অনেকটা বেড়েছিল। তাতে সরকার আরও বেশি সমর্থন নিয়ে ফিরে আসে।
এর বাইরে অন্য মতামতও আছে। এক প্রাক্তন গোয়েন্দা আধিকারিক যেমন বলছেন, ‘‘নিয়মিত ভোট দেন না এমন অনেকে সত্যিই ভোট দিতে যাচ্ছেন ভোটদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে। কিন্তু তাঁরা সকলেই কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে যাচ্ছেন, সেটা ভাবা বোকামি হবে।’’ তাঁর আরও বক্তব্য, “ভোটার তালিকায় একটা বড় রদবদল হওয়ায় অনেকেই এ বার ভোট দিয়ে স্রেফ নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত ভাবে জানান দিতে চান। এঁরা মূলত এসআইআর বিরোধী, এমনটা ধরে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। রাজ্যে এসআইআরের পক্ষে মৌনী সমর্থনও কম নয়।” যেটাই হোক, যদি এই নতুন ভোটগুলির সিংহভাগই বিপুল ভাবে কোনও একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে যায়, তবে তা অনেক হিসাব ভণ্ডুল করে দিতে পারে।
নানা অঙ্ক থেকে একটা ছবি মোটামুটি স্পষ্ট। এসআইআরের কারণে রাজ্যের শাসকদলের ক্ষতি হয়েছে অন্যান্য দলের চেয়ে বেশি। এর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তাজনিত কড়াকড়ি এবং আই-প্যাকের সহসা অনুপস্থিতির প্রভাব ধরলে বিজেপি প্রায় নিশ্চিত যে, তৃণমূলের সঙ্গে তাদের সমর্থনের ফারাক খুব বেশি নেই। সে অবশ্য অঙ্কের কথা। কিন্তু ভোট শুধু পাটিগণিতে হয় না। ঝড় বা চোরাস্রোত অনেক হিসাব লণ্ডভণ্ড করে দেয়। প্রশ্ন হল, ঝড় আছে কি?
এ বার অধিকাংশ মানুষই নির্বাচন নিয়ে চুপচাপ। এ কারণেই এ বারের প্রতিষ্ঠান-বিরোধী প্রবণতাকে ‘ঝড়’ না বলে ‘চোরাস্রোত’ বলছেন অনেক বিরোধী নেতা। বিজেপি মনে করছে, তাদের পক্ষে আছে প্রবল প্রতিষ্ঠান-বিরোধী চোরাস্রোত, যা তৃণমূলের সঙ্গে অঙ্কের হিসাবের ফারাক মুছে দিয়ে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দেবে। এক বিজেপি নেতার কথায়, “যেভাবে ২ থেকে ১৮ সাংসদ হয়েছিল এক ঝড়ে, সে ভাবেই ৭৭ থেকে ১৭৭ বিধায়ক হবে আরেক ধাক্কায়। অমিত শাহ তো এমনি এমনি এখানে মাটি কামড়ে পড়ে নেই!” আবার তৃণমূল মনে করছে, ঝড় আছে দিদির পক্ষে। সত্যিই তা হলে হয়ত ভোটের হিসাবে এসআইআর জনিত ক্ষতি মিটে যাবে। তারা ক্ষমতায় ফিরবে স্বমহিমায়। বলবে, ‘‘তোমরা মিছেই ভূতের ভয় দেখিয়ে মানুষকে এত হেনস্থা করলে। আমরা বরাবর মানুষের ভোটেই জিততাম।’’
আর যদি কোনও ঝড় বা চোরাস্রোত না থাকে? তবে অঙ্কের হিসাবে যা আসছে তা-ই। খানিক শক্তি হারিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে তৃণমূলই।