ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে কী ভাবে ট্রাইবুনালে আবেদন করতে হবে, বিজ্ঞপ্তি জারি করে তা জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। বিবেচনাধীন ভোটারের বিষয়গুলি নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগ করেছেন। তাঁরা নিষ্পত্তির কাজ এগোচ্ছেন। তবে এর পরেও এই বিবেচনাধীন তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়ছে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছিল আদালত। সেই মতো শুক্রবার কমিশন বিবৃতি দিয়ে প্রক্রিয়া জানিয়ে দিল।
নাম বাদ পড়লে অনলাইন এবং অফলাইন— দুই মাধ্যমেই পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করা যাবে। অনলাইনে কমিশনের ওয়েবসাইটে (voter.eci.gov.in) গিয়ে ‘সাবমিট অ্যাপিল্স ফর ইন্ডিভিজ়ুয়াল্স’ নামের ট্যাবে ক্লিক করতে হবে। সেখানে আবেদন জানাতে পারবেন ভোটারেরা। তবে যাঁরা বিবেচনাধীন তালিকায় ছিলেন তাঁরাই কেবল এখানে আবেদন করতে পারবেন। বাইরে থেকে কেউ নাম তোলার জন্য ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন না। এই পদ্ধতিতে কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হলে সেই সংক্রান্ত আবেদনও করা যাবে।
আরও পড়ুন:
অফলাইনে ট্রাইবুনালে নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন জানাতে হবে জেলাশাসক কিংবা মহকুমাশাসকের দফতরে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ভোটারের ওই আবেদন অনলাইনে তুলে দেবেন। তবে আসল আবেদনপত্রও সংরক্ষণ করতে হবে আধিকারিকদের। কমিশন জানিয়েছে, অফলাইনে আবেদনের জন্য পরিষ্কার সাদা কাগজে নিজের বক্তব্য লিখবেন ভোটারেরা। সঙ্গে লিখতে হবে ভোটার কার্ডের নম্বর (এপিক নম্বর)। ভোটার তালিকায় কারও নামের অন্তর্ভুক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হলে তাঁর এপিক নম্বরও লিখতে হবে আবেদনপত্রে।
অনলাইন এবং অফলাইনে জমা পড়া এই সমস্ত আবেদনের নিষ্পত্তি করবেন সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক। ১৯৫০ সালের আরপি আইনের ধারা এবং কমিশনের গাইডলাইন মাথায় রেখে ট্রাইবুনালের আবেদনের নিষ্পত্তি করতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। তখনও বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল ৬০ লক্ষাধিক নাম। ধীরে ধীরে সেই সমস্ত নামের নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ন’টি অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত ৫৪ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যে বাদ পড়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ নাম। তাঁদের ট্রাইবুনালে আবেদনের পদ্ধতি বলে দিল কমিশন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত