Advertisement

নবান্ন অভিযান

হয় ধরুন, নয়তো কী ব্যবস্থা নিয়েছেন জানান! অমীমাংসিত পরোয়ানা নিয়ে থানাগুলিকে নির্দেশ লালবাজারের

লালবাজার সূত্রে খবর, যে সব পরোয়ানা এখনও কার্যকর হয়নি, তা নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে থানাগুলিকে। কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তার তালিকাও দিতে বলা হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:০৪
Lalbazar issues instructions to police stations regarding outstanding warrants

কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের (মাঝখানে) অন্য আধিকারিকেরা। — ফাইল চিত্র।

ভোটের মুখে কলকাতা পুলিশের অধীনস্থ থানাগুলিকে কড়া নির্দেশ দিল লালবাজার। এখনও অনেক গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়নি বলে খবর। এ বার সে ব্যাপারে তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নিতে বলল লালবাজার। স্পষ্ট বার্তা, হয় যাঁদের নামে পরোয়ানা আছে, তাঁদের ধরতে হবে, নয়তো কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা জানাতে হবে লালবাজারকে।

নির্বাচন কমিশন আগেই জামিনঅযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার ব্যাপারে কড়া বার্তা দিয়েছিল। এ বার লালবাজারের তরফে প্রায় একই মর্মে নির্দেশিকা জারি করা হল। তবে শুধুমাত্র জামিনঅযোগ্য নয়, জামিনযোগ্য পরোয়ানাগুলি নিয়েও কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট থানাকে জানাতে হবে।

লালবাজার সূত্রে খবর, যে সব পরোয়ানা এখনও কার্যকর হয়নি, তা নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে থানাগুলিকে। কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তার তালিকাও দিতে বলা হয়েছে। কী ধরনের পরোয়ানা, নির্বাচনের সময় তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে লালবাজার। একই সঙ্গে পুলিশ কর্মীদেরও দায়িত্বপালনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, লক্ষ্য করা যাচ্ছে কয়েক জন সরকারি নিয়মবিধি মানছেন না। সকলে যেন বেঁধে দেওয়া বিধি মেনে চলেন, সেই সংক্রান্ত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে লালবাজার।

সুপ্রতিম সরকার কলকাতার পুলিশ কমিশনার হওয়ার পরই সমাজমাধ্যমে পুলিশকর্মীদের কী ধরনের আচরণ হবে, সেই সংক্রান্ত ১৫ দফা নির্দেশিকা জারি করেছিলেন। রাজ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি চালু হওয়ার পর পরই কমিশন সুপ্রতিমকে সরিয়ে কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার করে অজয় নন্দকে। সোমবারের নির্দেশিকায় সমাজমাধ্যম সংক্রান্ত সুপ্রতিমের বেঁধে দেওয়া বিধি মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।

দিন কয়েক আগে রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তা থেকে নিচু স্তরের কর্মীদের একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। সেখানে জামিনঅযোগ্য পরোয়ানার কথা উল্লেখ ছিল আলাদা ভাবে। বলা হয়েছিল, যাঁদের বিরুদ্ধে জামিনঅযোগ্য পরোয়ানা রয়েছে, তাঁদের ১০ দিনের মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। আগের নির্বাচনের সময় যে সব অপরাধমূলক মামলা হয়েছিল, সেগুলি দ্রুত শেষ করতেও বলা হয়েছিল। পাশাপাশি জানিয়ে দেওয়া হয়, ভোটের সময় রাজ্যের সকল সরকারি কর্মচারী আদতে কমিশনের অধীনেই কাজ করে। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারবে কমিশন।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Kolkata Police Arrest Warrant
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy